প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪৬
নরসিংদীর রায়পুরায় আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ: কলঙ্কিত রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বুধবার বিকেল থেকে শ্রীনগর ইউনিয়নের সাইদাবাদ গ্রামে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা বৃহস্পতিবারও থেমে থেমে চলে।
|আরো খবর
নিহতরা হলেন বাঘাইকান্দি গ্রামের ফিরোজা বেগম (৫০), জুনায়েদ মিয়া (১৬) এবং আমির হোসেন (৭০)। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও টেটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তবে সংঘর্ষের এমন ভয়াবহতায় পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এই ধরনের সংঘর্ষ কি দলটির জন্য কলঙ্ক, নাকি এটি তাদের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য? প্রশ্নটি স্থানীয় জনগণের মুখে মুখে। ক্ষমতায় থাকার দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে বারবার কোন্দল ও সহিংসতা ঘটছে, যা দলটির ঐক্যের অভাব ও নেতৃত্বের সংকটকে ফুটিয়ে তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার লড়াই ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত। এটি শুধু আওয়ামী লীগের নয়, সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি অশনি সংকেত। ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ের অভাব এবং নৈতিকতার অভাব এসব ঘটনার মূল কারণ। শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার অভাবে দেশের রাজনীতি দিন দিন সহিংস হয়ে উঠছে।
এই ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নৈতিকতা, সুশাসন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা না হলে, এমন সহিংসতা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনের স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হতে পারে।
ডিসিকে/এমজেডএইচ