প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪, ০০:০০
বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলো না কেন?

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া হাইস্কুলে ঈদুল আজহার বন্ধকালীন সময়ে সাবেক শিক্ষার্থী নামে স্থানীয় কিছু চিহ্নিত যুবক ডিজে পার্টি ও মদের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের কাজে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন একাধিক শিক্ষার্থী। বিষয়টি গোপন থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গ্রুপে এসব তথ্য, ডিজে পার্টি ও মদের বোতলের ছবি চলে আসে। এ ঘটনায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২৭ জুন বৃহস্পতিবার রাতে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমাম হোসেনের সাথে সাংবাদিকদের কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা জানান, ঈদ-পরবর্তী গত ১৮ জুন দিবাগত রাতে স্থানীয় বাসিন্দা সোলেমান মাঝির ছেলেসহ তার সহপাঠীরা বিদ্যালয়ে ডিজে পার্টি করে। একই সময় বসে মদের আসর। মদের খালি বোতল পড়েছিলো একাডেমিক ভবনের বারান্দা ও মাঠে। জানা গেছে, বিদ্যালয়ে ওইদিন নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে ছিলো মোক্তার কাজী নামে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। কিন্তু তিনি ওইদিন রাতে বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালন না করে অন্য কাউকে দিয়ে যান। প্রধান শিক্ষক ইমাম হোসেন বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক তা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছি এবং বহিরাগত যুবকদের চলে যাওয়ার জন্যে বলেছি। চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথকে ঘটনাটি অবগত করা হলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জেনে খুবই মর্মাহত। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কাম্য নয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো দেখবে। কোনো প্রয়োজন হলে আমাদেরকে জানাবে। তারপরেও আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলবো। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ কিংবা শিক্ষকদের সাহসী হওয়াটা নির্ভর করে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ওপর। তারা শক্তিশালী হলে ও প্রতিষ্ঠান প্রধান চৌকষ হলে তিনি ও শিক্ষকবৃন্দ পাঠদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় মনোযোগী হন, অনিয়ম, বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাহসিকতা প্রদর্শন করেন। অন্যথা হলে সবকিছুতেই ঢিলেঢালা ভাব পরিলক্ষিত হয়। বহরিয়া হাই স্কুলে ঈদুল আজহার ছুটি চলাকালে ডিজে পার্টি ও মদের আসরের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক যতোটুকু ভূমিকা নিয়েছেন, সেটা নিজ দায়িত্বে নিয়েছেন কিংবা ম্যানেজিং কমিটির ইশারা-ইঙ্গিতে নিয়েছেন। তার পূর্বে বিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণকে অপবিত্র করার কাজটুকু কম/বেশি হয়ে গেছে। কথা হলো, ডিজে পার্টি গোপনীয় বা দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয় নয়, এটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। নিশ্চয় ম্যানেজিং কমিটির নীরবতা/ উদাসীনতায় কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে অনেক সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশ্যেই হয়েছে ডিজে পার্টি। আর সাথে চলেছে গোপনীয় (!) মদের আসর। কথা উঠেছে, বিষয়টি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে কিংবা চাঁদপুর সদর মডেল থানায় যোগাযোগ করে পুলিশকে জানানোর মতো ঘটনা, কিন্তু কেউ সেটি করলো না কেন?