প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০
চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের ১০ দিনব্যাপী নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সফল সমাপ্তি

চাঁদপুরের নাট্যচর্চা ও সংস্কৃতি অঙ্গনকে প্রাণবন্ত করে তুলতে চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ১০ দিনব্যাপী ‘নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬’-এর সফল সমাপ্তি হয়েছে। গত ২২ আগস্ট ২০২৬ শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের দশম দিনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, উৎসব পর্ব ও নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে সাজানো এ আয়োজন ইতোমধ্যে চাঁদপুরের নাট্যপ্রেমী দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন নাট্য, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রতিদিন শিল্পী-কর্মী ও দর্শকদের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল মুখর হয়ে ওঠে।
উৎসবের প্রথম দিন ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১০ দিনব্যাপী এ আয়োজনের সূচনা হয়। এরপর উৎসব পর্ব শেষে বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘গিঠটু’।
দ্বিতীয় দিন ২৩ আগস্ট ‘সুরধ্বনি সাংস্কৃতিক সংগঠন’-এর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে মেঘনা থিয়েটার, চাঁদপুর পরিবেশন করে নাটক ‘ভাঙা গ্লাস’।
তৃতীয় দিন ২৪ আগস্ট ‘রংধনু’ সংগঠনের নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উৎসব পর্ব শেষে অরূপ নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘প্রেমের আলো’। ২৫ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে উৎসবের কোনো অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি।
উৎসবের চতুর্থ দিন ২৬ আগস্ট ‘বহুবচন’ সংগঠনের আবৃত্তি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজন শুরু হয়। পরে ‘চাঁদপুর ড্রামা’র পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘বৌমা’।
২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কারণে থিয়েটার ফোরামের কোনো কর্মসূচি ছিলো না।
২৮ আগস্ট ‘নৃত্যধারা’র নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের পরবর্তী আয়োজন শুরু হয়। পরে বর্ণমালা থিয়েটার, চাঁদপুর পরিবেশন করে নাটক ‘গ্রন্থিক’। ২৯ আগস্ট ‘প্রান্তিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন’-এর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বরলিপি নাট্যগোষ্ঠী মঞ্চস্থ করে নাটক ‘স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন’।
উৎসবের অষ্টম দিন ৩০ আগস্ট ‘সপ্তরূপা নৃত্য শিক্ষালয়’-এর নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজন শুরু হয়। পরে ‘নটমঞ্চ’-এর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘তামাশা’। ৩১ আগস্ট ‘স্বদেশ’ ও ‘বঙ্গজ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন’-এর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে অনুপম নাট্যগোষ্ঠী পরিবেশন করে নাটক ‘পুনর্জন্ম’। ১ সেপ্টেম্বর উৎসবের নবম দিনের আয়োজন ‘নৃত্যাঙ্গন’-এর নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পরে ‘চাঁদপুর সরকারি কলেজ নাট্যমঞ্চ’-এর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘মহুয়া’।
সবশেষে ২ সেপ্টেম্বর ১০ দিনব্যাপী এ নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টায় ‘সপ্তসুর সংগীত একাডেমি’র পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত ৮টায় ‘অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’র পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘জলরূপালী’।
চাঁদপুরের নাট্যচর্চাকে আরও গতিশীল করা, নাট্যকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং দর্শকদের কাছে বৈচিত্র্যময় মঞ্চনাটক পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
১০ দিনের এ উৎসবকে ঘিরে চাঁদপুরের নাট্য, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নাটক মঞ্চায়নে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে। নাটকের অভিনয়, সংলাপ, মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ১০ দিনব্যাপী এ নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে এবং নাট্যপ্রেমী দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে এক আনন্দময় মিলনমেলা।







