বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬

জেলা পরিষদের এই ব্যয়ের সুফল হোক আশানুরূপ ও টেকসই

অনলাইন ডেস্ক
জেলা পরিষদের এই ব্যয়ের সুফল হোক আশানুরূপ ও টেকসই

চাঁদপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মেথা রোড ও জেএম সেনগুপ্ত সড়ক সংলগ্ন এসবি খালের ওপর নির্মিত নবনির্মিত আরসিসি বক্স কালভার্টটির শুভ উদ্বোধন হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জেলা পরিষদের ৫০ লাখ টাকা অর্থায়নে নির্মিত এই কালভার্টটির ফলক উন্মোচন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম। দীর্ঘদিনের যানজট ও যাতায়াত দুর্ভোগ কাটাতে এই অবকাঠামো নির্মাণ স্থানীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।

একটি ক্রমবর্ধমান শহরের সচলতার প্রধান শর্ত হলো এর নির্বিঘ্ন যোগাযোগব্যবস্থা। সেখানে এসবি খাল সংলগ্ন অপ্রশস্ত সড়কে প্রতিনিয়ত লেগে থাকা যানজট কেবল পথচারী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির কারণ ছিলো না, বরং তা শহরের স্বাভাবিক গতিকেও থমকে দিতো। এই বাস্তবতায় জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের তাগিদে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. মোহসেন উদ্দিনের উদ্যোগ ও জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক কবির হোসেন সর্দারের পদক্ষেপে খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণ করে সড়ক প্রশস্ত করার কার্যক্রমটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হয়েছে। ৫০ লাখ টাকার এই সরকারি বিনিয়োগের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের পোহানো দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে বলে প্রতীয়মান হয়।

তবে যে কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়নের আসল সার্থকতা নির্ভর করে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল ও সুশাসনের ওপর। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, নতুন রাস্তা, বিদ্যমান রাস্তা প্রশস্ত করা বা কালভার্ট চালুর পর তা তদারকির অভাবে অবৈধ দখলদার, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং কিংবা যত্রতত্র হকারদের দখলে চলে যায়। ফলে সরকারের বিপুল অর্থব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোর মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যায়। এসবি খালের ওপর নির্মিত নতুন এই বক্স কালভার্ট ও সংলগ্ন প্রশস্ত রাস্তার ক্ষেত্রে যেন সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে জেলা পরিষদ ও চাঁদপুর পৌরসভাকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার হিসাব ও তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া নাগরিক অধিকার। কালভার্ট চালুর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগের যে নতুন সম্ভাবনা ও স্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা টেকসই করতে প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা আবশ্যক। আমরা আশা করি, চাঁদপুর জেলা পরিষদের এই অর্থায়নের পূর্ণ সুফল নগরবাসী দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করবেন এবং এটি কেবল কাগজ-কলমের উন্নয়ন নয়, বরং শহরের স্থবিরতা কাটিয়ে একটি সচল ও সুশৃঙ্খল চাঁদপুর গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়