প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১১:০০
অনেক দায়িত্ব তাঁর, সামলাবার সামর্থ্য হোক

চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের দু দুবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব মাহবুবুর রহমান শাহীন বাংলাদেশ স্পোর্টস্ ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনকল্পে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের সকল ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ স্পোর্টস্ ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালামকে সভাপতি ও মো. মোস্তাকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক এবং চঁাদপুরের কৃতী সন্তান মাহবুবুর রহমান শাহীনকে সহ-সভাপতি ঘোষণা করে সংগঠনের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত এই কমিটির নেতৃবৃন্দ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, মাহবুবুর রহমান শাহীন চঁাদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও ঢাকাস্থ ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।
|আরো খবর
মাহবুবুর রহমান শাহীনের সবচে’ বড়ো দায়িত্ব হচ্ছে তিনি বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। আর অন্য দায়িত্বগুলো হচ্ছে তঁার জন্যে বাড়তি অলঙ্কার। তিনি এমন এক মাটিতে বেড়ে উঠেছেন, যেখানকার মাটি একসময় সঁাতারের জন্যে ছিলো ভীষণ উর্বর। চঁাদপুর নামক সেই উর্বর স্থানটিতে আজ সঁাতারে চলছে খরা। অথচ এই চঁাদপুরে জন্মেছিলেন ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সঁাতারু আব্দুল মালেক এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অবিরাম সঁাতারে বিশ্ব রেকর্ড অর্জনকারী ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সঁাতারু অরুন নন্দী। তঁাদের এই খ্যাতিকে উত্তর প্রজন্মের মাঝে ছড়িতে দিতে চঁাদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা তাদের দুটি স্থাপনার নাম করেছে যথাক্রমে ‘মালেক ক্রীড়া ভবন’ এবং ‘অরুন নন্দী সুইমিং পুল’ নামে। চঁাদপুর স্টেডিয়ামের প্রথম ও পুরানো প্যাভিলিয়ন হচ্ছে ‘মালেক ক্রীড়া ভবন’। আর সরকারি অর্থায়নে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম নির্মিত সুইমিং পুল হচ্ছে ‘অরুন নন্দী সুইমিং পুল’। অরুন নন্দী জীবদ্দশায় তদবির করে এই সুইমিং পুলের জন্যে সরকারি বরাদ্দ এনেছিলেন। চঁাদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ দুটি স্থাপনা ছাড়া আর কোনো স্থাপনা অন্য কোনো ক্রীড়াবিদের নামে নেই। অথচ চরম দুর্ভাগ্য, চঁাদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থায় বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও চঁাদপুরের কোনো সঁাতার সংগঠনকে স্বাধীনতোত্তর তাদের অন্তর্ভুক্ত সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় নি। সুইমিং পুল থাকা সত্ত্বেও জেলা ক্রীড়া সংস্থা এটির ম্যানটেন্যান্সে মনোযোগী হয় নি, সঁাতারু তৈরির জন্যে কোনো বাজেট রাখেনি। চঁাদপুর সঁাতার পরিষদ জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে লীজ নিয়ে অরুন নন্দী সুইমিং পুল সচল রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকারের শেষ সময়ে নিয়োজিত ঠিকাদার সুইমিং পুলটি সংস্কারের নামে দায়িত্ব নিয়ে গত চার বছরেও সেটি হস্তান্তর করেনি। ফলে সঁাতার শেখা বন্ধ ও উদীয়মান সঁাতারুদের অনুশীলন বন্ধ। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সঁাতারের জন্যে বিকল্প কোনো স্থান ও বরাদ্দ না রাখায় চঁাদপুরের সঁাতার কার্যত এখন নির্বাসনে। জনাব মাহবুবুর রহমান শাহীন তঁার জন্মস্থান চঁাদপুরে তঁার সকল ক্ষমতাবলে ও তদবিরে সঁাতারকে এই নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে সঁাতারের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক আন্তরিক হবেন--সেটাই সঁাতারপ্রেমী প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশা। জনাব শাহীনের ব্যাপক সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তঁাকে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট দেশের বিখ্যাত অনেক প্রতিষ্ঠান/ সংগঠনে সম্মানজনক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। আমরা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করছি যে, মহান আল্লাহ তঁাকে সুস্থতার মতো বড়ো নিয়ামত দিয়ে সকল দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের সামথের্য সৌভাগ্যবান করুক এবং চঁাদপুরের সঁাতারের পুনরুজ্জীবনে কাণ্ডারীর ভূমিকা পালনের সুযোগে ঋদ্ধ করুক। আমিন।








