সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:১৯

এক রুমেই বাস, এক রুমেই সর্বনাশ: ওবায়দুল্লাহর রক্তে ভাসল মতিঝিলের সেই ঘর!

বিশেষ প্রতিবেদন : মো. জাকির হোসেন
এক রুমেই বাস, এক রুমেই সর্বনাশ: ওবায়দুল্লাহর রক্তে ভাসল মতিঝিলের সেই ঘর!
ছবি :সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলে তুচ্ছ ঘটনা ও অনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ওবায়দুল্লাহ (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ সাত টুকরো করার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে পুলিশ। ঘাতক শাহীন (২৭) অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিজের বাইসাইকেলে করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে লাশের খণ্ডাংশগুলো ফেলে দেয়। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান এসব তথ্য জানান।

যেভাবে শুরু ঝগড়া

পুলিশ জানায়, ঘাতক শাহীন ও নিহত ওবায়দুল্লাহ মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি বাসায় গত তিন মাস ধরে রুমমেট হিসেবে থাকতেন। শাহীন স্থানীয় ‘হোটেল হিরাঝিল’-এ কাজ করতেন এবং ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিও প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং অফিসার ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের শাহীন জানায়, ওবায়দুল্লাহ প্রায়ই তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং কথা না শুনলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। ঘটনার রাতে (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে দিয়ে বারবার বাইরে থেকে সিগারেট ও খাবার আনিয়ে নেন। ক্লান্ত শাহীন প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনের বাবা-মাকে নিয়ে গালি দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীন রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে ওবায়দুল্লাহর ঘাড় ও গলায় কোপ দেন।

ঠাণ্ডা মাথায় দেহ ৭ খণ্ড

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ধরা পড়ার ভয়ে শাহীন মরদেহটি বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে ওবায়দুল্লাহর দেহটিকে মাথা, দুই হাত, দুই পা এবং ধড়সহ মোট সাতটি টুকরো করে আলাদা আলাদা কালো পলিথিনে প্যাকেট করে। এরপর নিজের বাইসাইকেলে করে রাতভর ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব অংশ ফেলে দিয়ে আসে।

সিসিটিভি ফুটেজে মিলল ক্লু

শনিবার সকালে নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি হাত উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর একে একে বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে পা এবং কমলাপুর থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি বাইসাইকেলে করে পলিথিন ব্যাগ ফেলছেন। সেই সুত্র ধরেই পুলিশ শাহীনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।

মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান

শাহীন স্বীকার করেছে যে, লাশের কোমর ও ধড়ের কিছু অংশ সে সাভারের আমিনবাজার সালেহপুর ব্রিজ থেকে তুরাগ নদীতে ফেলে দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আজ (রোববার) সকাল থেকে সেখানে অভিযান চালিয়ে কিছু দেহাংশ উদ্ধার করেছে। নিহত ওবায়দুল্লাহর বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে এনআইডি সার্ভারের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করেছে পিবিআই। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও বাইসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘাতক শাহীনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়