প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৯
নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবিতে লন্ডনে মানববন্ধন

নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবিতে লন্ডনে মানববন্ধন করেছে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত গ্রেটার নোয়াখালীর প্রবাসীরা। হোয়াইটচ্যাপেলের আলতাব আলী পার্কে গ্রেটার নোয়াখালীবাসী ইন ইউকের উদ্যোগে রোববার এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আয়োজকরা নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরকে একত্র করে ‘নোয়াখালী বিভাগ’ ঘোষণার জোর দাবি জানান। মানববন্ধন পরিচালনা করেন আজাদ হোসাইন।
মানববন্ধনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলার কো-অর্ডিনেটর আতাউল্যাহ ফারুক, লক্ষ্মীপুর জেলা কো-র্ডিনেটর ড. মনোয়ার হোসেন, ফেনী জেলা কো-অর্ডিনেটর আবু নাসের মোহাম্মদ মুজাহিদ। মানব বন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন এ কে আজাদ, এম এ সালাম (ভিপি হারুন), আশরাফ উদ্দিন, আনোয়ার চৌধুরী, মোতাহের হোসেন লিটন, শহিদুল্লাহ খান, ফিরোজ হায়াত খান, আব্দুল হক রাজ, মোজাহিদুল ইসলাম, আলী আকবর খোকন, আব্দুর রব, আবুল হোসেন জসিম, মোহাম্মদ শাহজাহান, নাজমুল আহসান খসরুসহ গ্রেটার নোয়াখালীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
মানবন্ধনে বক্তারা জানান, প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস, শক্তিশালী অর্থনীতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বিশাল প্রবাসী সমাজ থাকা সত্ত্বেও গ্রেটার নোয়াখালী এখনও প্রশাসনিক অবহেলায় পিছিয়ে আছে। দূরবর্তী চট্টগ্রাম বিভাগের অংশ হিসেবে থাকার কারণে উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদানে বিলম্ব ঘটছে। স্বতন্ত্র নোয়াখালী বিভাগ গঠন করা হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই দাবির পক্ষে আন্দোলন করে আসছে।
প্রবাসীরা দাবি করেন, নোয়াখালী বিভাগের সম্ভাবনা অপরিসীম এলাকার কৃষি, মৎস্য, লবণ উৎপাদন ও সম্ভাব্য প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটন ও নৌবাণিজ্যের বিকাশেও এটি হতে পারে একটি নতুন কেন্দ্র। প্রবাসী নোয়াখালীবাসী প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও বার্ষিক ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন, যদি নোয়াখালীকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তারা সতর্ক করে বলেন, গ্রেটার নোয়াখালীকে প্রস্তাবিত কুমিল্লা বা ‘মেঘনা বিভাগ’-এর সঙ্গে একীভূত করা হলে অঞ্চলটি উপেক্ষিত হবে এবং স্থানীয় জনগণের পরিচয় ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রবাসীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে নোয়াখালীর এ ঐতিহাসিক দাবি শিগগিরই বাস্তবে রূপ নেবে।




