প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০০:২৭
কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় দায়ের করা একাধিক ধর্ষণ মামলার আসামি চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. মেহেদী হাছান (৩৯)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলিমের নেতৃত্বে একটি দল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অভিযান চালায়। এ সময় অভিযুক্ত মেহেদী হাছানকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাছান চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ফতেপুর তুলপাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
|আরো খবর
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী একজন নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্ত মেহেদী হাছান বিভিন্ন সময়ে ওই শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের ফলে ভুক্তভোগী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করলে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লা। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।” এদিকে, একজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।








