শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০০:২৭

হাজীগঞ্জে রাতের সড়কে প্রাণ গেলো নাতনি আর নানীর

কামরুজ্জামান টুটুল
হাজীগঞ্জে রাতের সড়কে প্রাণ গেলো নাতনি আর নানীর

হাজীগঞ্জ বাজারে সড়ক ডিভাইডারের কোল ঘেষে চাঁদপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী পদ্মা পরিবহনের একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নাতনি মার্জিয়া আক্তার (৮) ঘটনাস্থলে ও নানী নাজমা বেগম (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহতাবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে নাজমা বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর ২০২৫) রাত সাড়ে দশটার দিকে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ শেরাটন হোটেলের সামনে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মার্জিয়া আক্তার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বিঘা গ্রামের কালী বাড়ির মানিক হোসেনের মেয়ে। নানী নাজমা বেগম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড় হাজী বাড়ির মনির হোসেনের স্ত্রী। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পথিমধ্যে মারা যান।

মার্জিয়ার নানা মনির হোসেন জানান, এদিন রাতে তিনি তার স্ত্রী নাজমা বেগম ও বড় মেয়ের ঘরের নাতনি মার্জিয়াকে নিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। কেনাকাটা শেষে তারা উক্ত স্থান ধরে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী পদ্মা পরিবহনের বাসটি দ্রূত বেগে এসে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদেরকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মার্জিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা এবং নাজমা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নেয়ার পথে নাজমা বেগম মারা যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাজ্জাদ রশিদ ডেবিড জানান, তিনি সড়কের উত্তর পাশে ছিলেন। মানুষের ডাক-চিৎকার শুনে সড়কের দক্ষিণ পাশে গিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক শিশুটিকে কোলে তুলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তখনও শিশুটি জীবিত ছিলো, কিন্তু হাসপাতালে গেইটে প্রবেশের সময় শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোরাদ হোসেন ঘাতক বাসটিকে জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন। পরর্তীতে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শিশুটির মরদেহ পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, হাসপাতালে শিশু মার্জিয়াকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি এবং নাজমা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, বাস ও শিশুর মরদেহ পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়