প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০
কাউছার আলম রবির তিনটি কবিতা

ঘুণমানুষ
আমি আর আশ্চর্য হই না কোন কিছুতে,
জীবনের এই রহস্যময় গোলকধাঁধার খেলাতে।
ক্লান্ত ভীষণ, প্রত্যাশাও নেই, তবুও ছুটে চলি অজানার ¯্রােতে,
স্বপ্নেরাও কোথায় যেন হারিয়ে গেছে ঘুণমানুষের মেলাতে।
আমি আজকাল আর তোমার নির্লিপ্ত চোখে স্বপ্ন দেখি না,
দ্বিধার চশমা চোখে স্বপ্নেরা চোখ বুজেছে তীব্র আলোতেও।
আমি আর ক্লান্ত চোখে ভালোবাসার শব্দ খুঁজি না,
দ্বিধা দ্বন্দের দুর্বোধ্য ওই স্বপ্নবিহীন তোমার চোখজোড়াতে।
তোমাকে চাই
ঘনঘোর নিরবতায় তোমাকে চাই,
নিঝুম অন্ধকারে তোমাকে চাই,
রাতভোর হলে আমি তোমাকে চাই,
সকালের কৈশোরে তোমাকে চাই,
সন্ধ্যার অবকাশে তোমাকে চাই,
চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে তোমার মাঝে হারিয়ে যাই,
ছাতক ছাতকির মতো পাশে বসে গল্প শোনাই।
বৈশাখী ঝড়ে আমি তোমাকে চাই,
আষাঢ়ের মেঘে আমি তোমাকে চাই,
শ্রাবণের প্লাবণে তোমাকে চাই,
তীব্র শীতে তোমাকে চাই,
কাকডাকা ভোরে তোমায় নিয়ে কুয়াশা গায়ে মাখতে চাই,
শীতে জুবুথুবু থেকে বাঁচতে,
উষ্ণতার পরশ পেতে তোমাকে চাই।
অকাল বোধনে আমি তোমাকে চাই,
আমার বার্ধক্যে তোমাকে চাই,
আমার সুস্থতায় আমি তোমাকে চাই,
আমার অসুস্থতায় পাশে তোমাকে চাই,
আমার সুখের দিনে তোমাকে চাই,
আমার দুঃখের দিনে আরো বেশি করে তোমাকে চাই।
প্রথমত আমি তোমাকে চাই,
দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই,
তৃতীয়ত আমি তোমাকে চাই,
শেষ পর্যন্ত শুধু তোমাকেই চাই,
তোমাতে আমাতে মিলেমিশে যেন জীবন ঘড়ি পার হয়ে যায়।
রহিম রহমান
গত বর্ষায় দেখেছিনু যারে আজিতো সে পরপারে,
গত বর্ষায় কাটিছিলো সময় প্রমোদ উল্লাসে,
আজিতো তা ধারণ করলো ভয়ঙ্কর প্লাবণে,
বসতভিটা সব যাচ্ছে ডুবে, ভেসে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় সব,
আপনি আমাদের রক্ষা করুন, হে আমার প্রিয় রব।
চলিছে মুষলধারে বৃষ্টি, পার্শ্বদেশ ভারতীয়দের পড়িছে কুদৃষ্টি,
তেতাল্লিশ বছর পরে ডুম্বুরের গেট খুলে দিয়ে,
ওরা সৃষ্টি করলো কৃত্রিম দুর্যোগ,
সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশটা মাথা তুলে না দাঁড়াতেই চলে আসিছে চরম দুর্ভোগ।
হে মোর প্রভু করো এ দুর্দশার সমাধান,
তুমি পারবে কারণ তুমিতো রহিম রহমান।