প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪, ০০:০০
পথের স্মৃতি

তুমি হারানোর পর ঐ পথ দিয়ে কখনো হাঁটিনি আর
শেষ বয়সে এসে পুষে রেখেছি কথাগুলো তোমার।
অনুভবে শরীরের ঘ্রাণ, মুহূর্তগুলো আজও অম্লান
এখন মাঝে মাঝে যাই, ঐ পথ ধরেই যাই
চালতার ডালে চড়ে বসি, ভুতের মতো পা ছেড়ে দিই
সন্ধ্যা নামলেই ছুটে যাই সেখানে
আবার পালিয়ে আসি খুব ভোরে।
কেউ টের পাবে ভেবে কাশির শব্দও বেরোয় না সজোরে
স্মৃতি বলতে শুধু চালতা গাছটিই বাকি আছে
ঝরেপড়া পাতা সদৃশ পাপড়ি কুড়িয়ে আনি।
যত্ন করে মিটসেফটার কোনে রাখি
তোমার নামে লেখা কবিতার ভেতর।
তবুও আছো অনুভবে, তুমিই ছিলে
পালিয়েও রয়েছো মস্তিষ্কের পুরোটা জুড়ে
রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করার মতো অধিকার-
স্ট্যাম্প করে লিখে দিয়েছি কাগজে কলমে।
শুক্রবারে জোড়া কবিতা শোনানোর আবদার
হাসিমুখে দেখিয়েছি তোমায়, ঐ চোখ জোড়া
এর চেয়ে সুন্দর কবিতা কীই-বা হতে পারে
এখন লিখি শুধু নীলেদের গল্প।
চালতার পাপড়িতে কবিতা লিখে
পুরোটা পথ ছিটিয়ে দিই নিস্তব্ধ এ শহরে
দূর থেকে আসা কদমের গন্ধে বুঁদ হয়ে যাই
যেন অ্যালকোহলের স্বাদ।
মাঝে মধ্যে বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয়
দুঃখরা নুয়ে পড়ে মিশে যায় বড় স্রোতধারায়
আমার একাকিত্বের উল্লাস।
লুকিয়ে থাকা জোনাকি দলের উপহাস
দিনের আলোতে চলছি বেশ।
সন্ধ্যা নামলেই সৃষ্টি করা স্মৃতি কুড়োতে যাই
ভোর হতেই কাটে সেই নেশার রেশ
তবুও ভালো আছি, তুমি পুষে বাঁচি
কীসের এতো অপেক্ষা? এতো আক্ষেপ?
কাটানো দিনই ভালো ছিলো।
সামনের মুহূর্ত হয়তো অন্তিম সময়
স্মৃতিগুলোর বিচ্ছেদ ভুলি ভেদাভেদ।
ভালোবাসার পূর্ণতা মৃত্যুর আলিঙ্গনে
জীবন সুন্দর পালাবার তাড়া এলে
জীবনের মর্ম বোঝা যায় মৃত্যুর চিঠি হাতে পেলে।