প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৪, ০০:০০
প্রশান্তি মানে নবীর শহর

সৃষ্টির মাঝে শ্রষ্টাকে খুঁজে পাওয়ার অনুভব আলাদা। মদিনা কেন নবীর শহর? আল্লাহ নবী করিম (সাঃ)কে মদিনায় হিজরত করতে বললেন। পরবর্তী সময়ে মক্কা বিজয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের জন্য বেছে নিয়েছিলেন মদীনাকে। তিনি তো চাইলেই বিজিত মক্কায় ফিরে যেতে পারতেন। আল্লাহর নবী করিম (সাঃ) নিশ্চয়ই কোন না কোন কারণে মদীনাকে তাঁর শেষ বিছানা হিসেবে নিয়েছেন। আর তার কিছু কারণের মাঝে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শান্তি।
অদ্ভুত এক শান্তি মদিনার সবকিছুতে। যে শান্তি ছড়িয়ে যাবে আপনার মন, শরীরে। ধর্ম আপনাকে শান্তি দেবে। আপনার শেষ আশ্রয় এটা। মদিনায় বসে যখন আপনি পার্থিব চিন্তা করবেন, আপনার নিজেকে নিজের অচেনা মনে হবে। মদিনায় অনেক জায়গা আছে যে জায়গাগুলো নবীর পরশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদে ‘কোবা’। এই মসজিদ নবী করিম (সাঃ)-এর নিজের হাতে তৈরি। প্রতি শনিবার তিনি ফজর ওয়াক্ত থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত এখানে থাকতেন। তারপর মসজিদে নববীতে ফিরে যেতেন। ওখানে যোহর পড়াতেন। অসাধারণ সুন্দর এক সৃষ্টি। মন ভরে উঠে, নিস্তব্ধতা প্রহর বয়ে আনে হাজারো বছর ধরে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে থাকা স্মৃতি রোমন্থন করাকে। হাজারো কবুতর এখানে। প্রতিটি মসজিদ এ-তো বেশি সুন্দর, মন ভরে যায়। অদ্ভুত এক শান্তি এবং হাহাকার ছুঁয়ে থাকবে। মনে হবে এখানে আমার নবী এসেছিলেন। এ জায়গার কোথাও তাঁর ছোঁয়া লেগে আছে। সবচেয়ে অন্য রকম অনুভব হয়েছে উহুদ পাহাড় দেখে। আমি বোঝাতে পারবো না এ অনুভব কেমন। আমি একা হতে চাইছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল এ-র সবকিছু আমি শুনতে পারছি। হেঁটে হেঁটে নবী করিম (সাঃ) যেখানে তাঁর দাঁত মোবারক শহীদ হয়েছিল সে পাহাড়টুকুতে বসলাম। পাথরগুলো ছুঁয়ে মনে হলো ঠাণ্ডা একটা পরশ। চুপচাপ কিছু সময় নিজের ভিতরের আমিকে খুঁজে ফিরছিলাম। কী এক পাওয়া! আমার নিজের পার্থিব জীবনকে ওখানে আমার খুব হাস্যকর মনে হচ্ছিল। আসলে কতোটা অস্থির আমি! নিজের অনেক কাজের কোনো যৌক্তিক কারণ আমার কাছে নেই। অথচ কী অনায়াসে জাগতিক বিষয়গুলো আমার বলে দাবি! শুধু বুঝতে পারি অদ্ভুত এক প্রশান্তি জীবনের সব জায়গায় ছুঁয়ে আছে। কোথাও অদ্ভুত এক শান্তি মদিনার সবকিছুতে। যাওয়ার পর থেকে একটা দোয়া শিল্পীর মুখে শুনেছি ‘আল্লাহ সহজ করে দিন সবকিছু’ আমার মনে হয়েছে এটাই চাওয়া উচিত। আল্লাহ সবকিছু সহজ করে দেন বলেই হজ বা ওমরাহর করা মানুষের পক্ষে সম্ভব। আমি প্রতিটি বিষয়ে টের পেয়েছি, আল্লাহ কতোটা রহমত দিয়ে ঢেকে রেখেছেন তাঁর বান্দাদের। আর আমি কতোটা অকৃতজ্ঞ! আমি তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসতে পারি না। আমি মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে পারি না। আমার মনের গভীর কোন থেকে অন্য সৃষ্টি নিরাপদ নয়। আমার দ্বারা আল্লাহর তৈরি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ কষ্ট পায়। আমি মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করি। আমার আচরণ অন্যকে কষ্ট দেয়। আমি আমার রবকে আসলে কতোটা ভালোবাসতে পেরেছি? আল্লাহ মাফ করুন আমায়। আমার ভিতরের প্রশান্তিটুকু স্থায়ী হোক। মসজিদে নববী স্মৃতির অন্যরকম। আপনি ইবাদতের সবটুকু স্বাদ বুঝতে পারবেন। মনে হবে কেন সবকিছু অর্থহীন এখানে। প্রথম দিন সকালে নামাজ শেষে হেঁটে হেঁটে আমরা নবীজীর রওজা মুবারকের কাছাকাছি একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেকখানি সময়। নবীজির রওজার সবুজ রঙটা অদ্ভুত রকম অন্য রকম সবুজ। দেখলেই বুকের ভিতরটা হুহু করে ওঠে। হয়তো সকাল আর আমাদের চোখের জল দেখেই কেউ কিছু বলছিল না। মনে হচ্ছিল কতোটা কাছে আমি আমার নবীর। যিনি একমাত্র তার উম্মতের জন্য হাহাকার করে কাটিয়ে গেছেন জীবন। তিনিই আমাদের একমাত্র সাফায়েতকারী। আল্লাহ মাফ করো আমাদের সবাইকে। সঠিক জ্ঞান দিন। সঠিক পথ দেখান, সে পথে চলা সহজ করুন।