প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৪, ০০:০০
আমি মৌমাছি নাম ভুলে গেছি

উড়তে উড়তে মধু নিতে নিতে ঝরছে মাথার ঘাম,
কর্মব্যস্ত মৌমাছি আজ ভুলে গেছে তার নাম।
নাম নাম করে ছুটলো আকাশে চোখে মুখে উদ্বেগ,
দেখলো আকাশে উড়ছে শুভ্র ছোট্ট একটু মেঘ।
মৌমাছি বলে, মেঘ ভাই তুমি, জানো কি আমার নাম?
না তো! বলে মেঘ, বললো, আমার কাজ আছে চললাম।
মৌমাছি দেখে চারপাশে বায়ু উড়িয়ে নিচ্ছে সব
তার পক্ষেই হয়তো বা নাম বলে দেয়া সম্ভব।
কিন্তু বাতাস পাশ কেটে গেলো করতে পেরেই আঁচ,
বললো, তোমার নাম বলে দেবে বনের সবুজ গাছ।
মৌমাছি বনে গাছকে বললো, ধরছি তোমার পাও,
কৃতজ্ঞ হবো আজকে আমার নামটা কি বলে দাও?
বৃক্ষ বললো পারবো না আমি, ওই যে খাচ্ছে ঘাস,
এক লাল ঘোড়া, নাম মনে রাখা তার এক নিঃশ্বাস।
মৌমাছি ছোটে ঘোড়াটার কাছে, ঘোড়াটাও অপারগ,
নাম ভুলে গেছে, এ কেমন কথা, ঘোড়া রেগে টগবগ।
তবু সে বললো শোনো মৌমাছি কাছে যাও নদীটার,
নদী সব জানে, সে যে এক বড়ো জলভরা ভান্ডার।
নদীও বললো শোনো এই প্রাণী আমার বুকের জল,
তোমাকে চেনে না, নামটা জানে না. অনুরোধ নিষ্ফল।
নদীটা বললো যতটুকু আমি করে যাই আন্দাজ?
কিছু মনে রাখা, ফের মনে করা, এটা মানুষের কাজ।
ওই দেখো তীরে এক মা আছেন তার কোলে সন্তান,
তার কাছে যাও কাজ হয়ে যাবে, যদিও ছোট্ট প্রাণ।
শিশুটির কাছে মৌমাছি এসে চাইলো নিজের নাম,
শুনলো সে ডাকে আদো আদো মাকে মা মা আর মাম মাম।
মাম মাম শুনে মৌমাছি দিলো গুঞ্জন চিৎকার,
বললো পেয়েছি, আমি মৌমাছি, ‘ম’ দিয়ে বানান যার।