প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০০:০০
গাঢ় বেদনার ভার

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত বড্ডো বিস্বাদে গেল ভরে
আকাশ জুড়ে সপ্তর্ষি নক্ষত্রের ঘুম
মেরুন বিকেলে সবটুকু আলো নিভে গেলে
বন্ধু বিপ্লবের টেলিফোনে কথা বাজে-"চল যাই"-
যাই -
আমি বিপ্লব দুজনেই প্রায়শ যাই
তাজমহল রোডের জীর্ণ বাড়িটির চারতলা ঘরে
কী সুন্দর মঙ্গলের সুর ধ্বনিত হয় সেখানে
সাজগোজহীন জ্যোৎস্নার আলো
অপূর্ব বিন্যাস বন্ধুত্বের আহ্বান।
এই তো সেই ষষ্ঠী পূজার দিনে কেমন রাজছত্র ধরে তুমি এলে-
সম্পূর্ণ সন্ধ্যার আকাশ খানা ভরে গেল রঙে
স্নিগ্ধ কলরবে ভরে গেল আমার গৃহবাস
শ্রেয়তর সময়ে থেমে গেল বুঝি সব
কোন সুতীব্র মোহ মায়া
একে একে ইতুর ডাইনিং টেবিলে সযত্ন খাবারের মেন্যু
তুমি পরিতৃপ্ত মনে চেখে নিলে সবকিছু
অমিত অয়ন আমার পুত্রদ্বয় কণ্ঠ মেলালো তোমার সুরে
আমার হারমোনিয়ামের প্রতিটি রিডে তোমার আঙ্গুল
সব ধ্যানের স্পষ্ট স্পর্শ,
অয়নের তোমার কাছে আর যাওয়া হলো না বন্ধু।
আমার অন্তর জুড়ে যেন হিম গলা বেদনার ভার
অজস্র যন্ত্রণার স্রোতে ভরা তোমার যে জীবন
সেখানে কী করে যে ছিল অনন্ত মহৎ আকাশ
তবু কেন ক্লান্ত ছিলে তুমি!
পৃথিবীর মিঠে হাওয়া ঘাসের গন্ধ নদীর নরোম ধ্বনি
অন্তর কোড়ানো সবটুকু ভালোবাসা !
মানুষের হৃদয়ের বেদনা আর তোমাকে স্পর্শ করে না
তাই বুঝি নিরিবিলি সন্ধ্যার আঁধারে চলে গেলে
বড্ডো অভিমানে-
"একগাছা দড়ি নিয়ে হাতে গিয়েছিলে তবু একা একা"
১৪ মার্চ ২০২৪, ঢাকা।