শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০

পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার কবিতাগুচ্ছ
অনলাইন ডেস্ক

শিল্পসুধা

একদিন কবিতা ক্যাফেতে কফি খেতে গিয়েছিলাম

গরম ধোঁয়া ওঠা কড়া এককাপ ব্ল্যাক কফি

ডায়াবেটিসের রোগি বলে ভয়ে ভয়ে চিনি চাইনি

মিনিট পাঁচেক প্রতীক্ষায় রেখে যা এলো তা লোভনীয়

কফির মগে এতোকিছু ধরবে তা ভাবিনি কখনো

শার্ল বোদলেয়ারের নাটক সমারসেট মমের ছোটগল্প

ভিক্টর হুগোর উপন্যাস রবীন্দ্রনাথের গান আর উইলিয়াম

শেক্সপীয়ারের কমেডিতে টই টই করে ভরে উঠেছে মগ

স্বপ্নের পানীয় পেয়ে গলা বুঝি আগের চেয়ে আরো বেশি

পিপাসার্ত হয়ে উঠেছে অপ্রত্যাশিত আপ্যায়নে

এমন পানীয়ের সুঘ্রাণে নিজেকে একদিনের বাদশাহর

মতো লাগছিল যেন স্বপ্নের মদিরায় তরলিত হয়ে উঠেছে

শিল্পের ফল্গুধারা আর পৌরাণিক নদীর জমে যাওয়া জল!

এক মগ কবিতা ক্যাফের কফি পান করে আমি হয়ে উঠেছি

জাতিস্মর আর ক্রমে ক্রমে মনে পড়ে যায় মেঘদূতের সখ্য

চন্দ্রাবতীর সাক্ষাৎ কিংবা কাহ্ণ পা-র চর্যালোচনার নির্যাস।

সেই যে শতবর্ষ আগের এক মগ কফির প্রণয় তা আজও

অ্যান্টিবডির শক্তি নিয়ে দশকভেদের জীর্ণতাকে বুড়ো আঙুল দেখায়

আর উত্তরাধুনিক আকাশকে পেড়ে আনে ধ্রুপদীর আঙিনায়।

মুক্তি

নদীর হাজার ধারা

জলের অনন্ত স্রোত

শাখানদী উপনদী মহানদী হয়ে

মোহনায় সাগর সঙ্গম

তারপর ক্ষুদ্রতা বিলীন ঔদার্যে

অনিত্যের পরম অভিসার।

ধ্যানেরও এমনই স্রোত

ভাষাহীন মূক মুখে

মৌনী বাক্সময় আপন অনন্তে

স্তরের পর স্তর সোপানের পর সোপান

অতিক্রান্ত মীনতায় ধ্যানীর অভীষ্ট

ধ্যান ক্ষুদ্র ও পরমের কথোপকথনে উত্তম বাহন।

ধ্যানের নদীতে সাঁতার

অনাহারীর অমৃত অভিসার

রুমির ফানা'র জ্ঞান, সামা-নাচ

সারিপুত্রের অর্হত্বের প্রজ্ঞা

বৈষ্ণবের মার্গযোগ

লালনের হাওয়ার সাধন

ধ্যানে মনের নিকেতনে

পরকালী ফসলের চাষ

কবিতার ধ্যানে কবির মুক্তি

শব্দের পরমাত্মায় ক্ষুদ্রের অমৃত সঞ্জীবন।

আলো-আঁধার

দীর্ঘকাল অন্ধকারে থেকে থেকে

আলোর ঝলকানি হয়ে ওঠে মারণাস্ত্র

অতি আলোর চোখণ্ডজ্বালা স্রোতে

আঁধার আপন হয়ে ওঠে অবিকল্পভাবে।

সকল আলোয় আনে না কল্যাণ

যেমন আনে না বিজলির চমক মাইগ্রেন-চকমকি

বন্দুকের নল উদ্গীরণে বিচ্ছুরিত ফুলকিমালা

আঁধারও তাই কখনো কাক্সিক্ষত জীবনের কাছে।

যে আঁধারে জন্ম নেয় আলো

যে কৃষ্ণবিবরে স্বনিত হয় মহানাদ

যে আঁধারে মৌনী তাপস লাভ করে নির্বাণ

সে আঁধারই অনন্ত আলোকনের বিমুক্তি।

আলো ও আঁধার এক অমীমাংসিত দ্বন্দ্বসূত্র

মায়ের গর্ভে সমাধির আঁধারে আসে দেহান্তর

প্রতিটি দেহান্তর আনে মুক্তির উল্লাস

আঁধার তাই চির ঈর্ষণীয় আলোকের কাছে।

কবিদের ঘর

কবিদের ঘর

ফাগুনের স্বর পাতা মর্মর

কবিদের ঘর

আষাঢ়ে সাগর ঝরে ঝরোঝর।

কবিদের ঘর

আকাশের সর আলোর নগর

কবিদের ঘর

ফোটায় অজর মালতী টগর।

কবিদের ঘর

নতুন খবর প্রমিত শেকড়

কবিদের ঘর

সুখ নয় পর দুঃখের কবর।

কবিদের ঘর

সত্যের ঝড় সতত অনড়

কবিদের ঘর

অবিরত বর মসির অধর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়