প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০

আমাদের কাছে শিক্ষা মনেই হচ্ছে পড়ো আর লিখো। যেহেতু লিখতে হবে অতএব গোগ্রাসে মুখস্থ কর। সাড়ে ৫ বছর ধরে টিচার্স ট্রেনিং কলেজে কাজ করছি। আর আগে কিছুদিন ছিলাম সরকারি হাইস্কুলে। সে সূত্রে কিছু শিক্ষা বিষয়ক বইপত্র উল্টানোর সুযোগ ঘটেছে এ জীবনে। এসব পড়ে দেখি এতো দিন শিক্ষা বলে আমাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে তার কতটুকু শিক্ষা কার্যক্রম তা-ই প্রশ্নসাপেক্ষিক।
ষাটের দশকের পর থেকে শিক্ষা একটি প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমারা বিএড এমএড এবং বিভিন্ন লং ও শর্ট কোর্সে এর আলোকেই শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। কিন্তু এটাও বাস্তব এসব শিক্ষন ও প্রশিক্ষণ সকলের পক্ষে পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। যে কোনো সাধারণ কৌতূহলী মানুষ শিক্ষা নিয়ে ভাবলে হাজারটা প্রশ্ন এসে ভিড় করে মাথার ভেতরে। শিক্ষার লক্ষ্য কি, কেনো শিক্ষা নেবো, শিক্ষার ব্যাপ্তি হবে কত দূর, গুণগত শিক্ষাই বা কি, কিভাবে শিক্ষা হবে ফলপ্রসূ, কিভাবে মানুষ শিখে ইত্যাদি ইত্যাদি। বিভিন্ন বই কিংবা নেটে এর সুন্দর উত্তর মেলে। কিন্তু পাঠাভ্যাসবিহীন এই জাতির জন্যে খুঁটে খুঁটে জ্ঞানার্জন অনেকটা দুরূহ। সত্যটা অনেকক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষক সমাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তার সাথে আছে দেশের সর্বত্র পুস্তকের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণের সংকট। ফলে ইচ্ছে থাকলেও অনেক সময় সাত মণ দুধও হয় না রাজার পুকুর পূর্ণও হয় না। তাই শিক্ষা বিজ্ঞানের সাধারণ খুঁটিনাটি বিষয় এবং বাংলাদেশের শিক্ষার পরিস্থিতি নিয়ে একটা হ্যান্ডবুকের মতো বই থাকলে শিক্ষার সাথে জড়িত সবার ধারণা লাভ ও তাৎক্ষণিক তথ্য অনুসন্ধানে সহায়ক হয়। এই চিন্তায় ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ট কমিশনের অর্থায়নে ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় ‘শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা’ শিরোনামে একটি বই। গেলো ফেব্রুয়ারি মাসে এর ষষ্ঠ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
৬৯১ পৃষ্ঠার ডাউস সাইজের বইটির মূল্য মাত্র সাড়ে ৪ শত টাকা। প্রকাশক র্যামন পাবলিশার্স। এতে ষোলটি অধ্যায়ে শিক্ষা, শিক্ষা বিজ্ঞান পরিচিতি, শিশু শিক্ষা, বাংলাদেশের শিক্ষা, বাংলাদেশে শিক্ষাক্রম, বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, শিক্ষণ পদ্ধতি ও কৌশল, মূল্যায়ন ব্যবস্থা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও মানবসম্পত, শিক্ষায় অর্থায়ন, শিক্ষায় দক্ষতা ও অপচয়, গুণগত শিক্ষা, বাংলাদেশে শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা, সমকালীন সমস্যা ও ইস্যু এবং বিশ্ব পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি লিখেছেন স্বনামধন্য ৪ শিক্ষা গবেষক যূথবদ্ধ প্রচেষ্টায়। নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃতী শিক্ষক প্রফেসর ড. আব্দুল মালেক। বাকি তিনজন হচ্ছেন প্রফেসর ড. মরিয়ম বেগম, ড. ফখরুল ইসলাম, শেখ শাহবাজ রিয়াদ। একেবারে শেষজন হচ্ছেন আমাদের জ্যেষ্ঠ সহকর্মী। তাঁর কল্যাণে সর্বশেষ সংস্করণের প্রচ্ছদ করার সুযোগ পেয়েছিলাম আমি। এ রকম একটা আকরগ্রন্থে নিজের নাম দেখতে পেয়ে যারপরনাই আমি আহ্লাদিত। যাদের শিক্ষা নিয়ে আগ্রহ আছে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।