শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩৫ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

কলেজ স্মৃতি

তৃপ্তি সাহা
কলেজ স্মৃতি

মাতৃপীঠ এ একনাগাড়ে ১০ বছর কাটিয়ে ১৯৮১-৮২ তে চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হই। ১৯৮০ তেই সরকারিকরণ হয়। ফলে সরকারি স্কুল শেষ করে সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবো সেটাই পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়। হলামও তাই। যদিও প্রেমঘটিত বিষয়ে একটু জটিলতা তৈরি হয়েছিলো। চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো জীবন।

কলেজে বাংলায় সাত্তার স্যারকে পেয়েছিলাম, খলিল স্যারের বাংলা ছিলো অসাধারণ। রসায়নের নলিনী স্যার, গণিতের রনজিৎ নাহা, উদ্ভিদবিদ্যার তাজুল ইসলাম স্যার, প্রাণিবিদ্যার মোস্তাক হায়দার স্যার, বজলুল হক স্যার, পদার্থের ইসহাক স্যার। চোখে লেগে আছে পদার্থবিজ্ঞানের হাসান হায়দার স্যারের চেহারা। স্যার আমাদের বান্ধবী লিপির বাবা। স্যারের আধুনিকতা, সহজসরল জীবনবোধ, এত স্বচ্ছতা, এত সুন্দর, স্মার্ট-সত্যিই ভোলা যায় না। স্যারদের আন্তরিকতার কথা খুব মনে পড়ে।

আমরা স্যারদের পিছন পিছন ক্লাসে যেতাম, আবার স্যারদের পিছন পিছন ক্লাস থেকে বেরিয়ে কমন রুমে অথবা গ্রন্থাগারে প্রবেশ করতাম। তখন গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা ছিলেন মান্নান স্যার। সাহায্যকারী ছিলেন সবার পরিচিত মুখ রতন দা ওরফে মিজানুর রহমান।

আমরা অনেকেই গ্রন্থাগারে গিয়ে বই পড়তাম। শহীদুল্লাহ্ কায়সারের সংশপ্তক, আমরা চাঁদপুর কলেজ লাইব্রেরিতে পড়েছি। আমার সবচেয়ে প্রিয় কাছের বান্ধবী তাসলিমা খুব দ্রুত বই পড়তো। সে এখন অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম। সে অসাধারণ সব বইয়ের মধ্যেই মুখ লুকিয়ে রাখতো। বন্ধু ছিলো বর্তমান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল, চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত, শ্যামল ফিরোজা বেগম, পাকিজা, জিনুন্নাহার আরও অনেকে।

কলেজে আমরা মেয়েরা সংখ্যায় খুব কম ছিলাম। ছেলে প্রচুর ছিল, তিনটা সেকসন ছিলো।

কলেজের কথা মনে হলেই মনে পড়ে কলেজের রাস্তার দিকে যে মাঠ সেটিকে পিছনের দিক বলাটাই শ্রেয়। সেখানে একটি তুঁত গাছ ছিলো। তুঁত ফল ধরে থাকতো। সেখানটাতে আমরা মেয়েরা ক্লাসের ফাঁকে শীতের রোদে দাঁড়াতাম। তুঁত ফল খেতাম। ছেলেরা সেই টক খাওয়া নিয়ে অনেক বাজে হাসি ঠাট্টা করতো।

অনেক স্যার ছিলেন। সব মুখ হয়তো মনে নেই। ওয়ালিউল্লাহ স্যারের কথা খুব মনে পড়ে। এত সহজ করে ইংরেজি পড়াতেন। ক্লাস এতটাই প্রাণবন্ত করে রাখতেন যে, এতো বড় ছেলেমেয়েদের শাস্তি দিতেন, এমন কি বেঞ্চে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। কিন্তু তাঁর ক্লাস ভালো লাগেনি এ কথা কেউ বলবে না। একবার এক ছাত্র আঙ্গুলে তিনটা আংটি পরে এলো, পড়া পারেনি অথবা বই আনেনি। নিয়ম ছিলো বই আনতেই হবে। স্যার বেঞ্চের উপর দাঁড় করালেন। আঙ্গুলে আংটি দেখে বললেন, ‘আমার মেয়েরা তোমারে বিয়া করবো না’। এভাবেই কোন মেয়ে হয়তো কড়া লিপিস্টিক দিয়ে বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, মেয়েটি সুন্দরীও ছিলো অসামান্য। এমন বিদ্রূপ করলেন যে, আমরা তাজ্জব বনে গেলাম।

উদ্ভিদ বিদ্যার তাজুল ইসলাম স্যার, ছাত্রছাত্রীদের সাথে মিশে যেতেন। ভাবতো ছেলেমেয়েরা বুঝতে পারছে না। তাই বারবার বুঝাতেন। ইকোনোমিকস্-এর মশিউর স্যারের কথা খুব মনে পড়ে। কোন্ শিক্ষার্থী কোথায় ভর্তি হবে সেগুলো বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে, ডেকে নিয়ে বলতেন।

বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করার কথা মনে পড়ে। আমাদের সাথে পড়তো ১০৩৪ রোল নং-এর শাহানাজ, ওর কথা মনে পড়ে। ওকে নিয়ে হৈচৈ ছিলো খুব। রোল নং থাকে খাতায় কিন্তু ওর রোল নং দেওয়ালে লিখা থাকতো।

চাঁদপুর কলেজে পড়া দারুণ সৌভাগ্যের বিষয়। আমাদের সময়-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো না। অনার্সে ভর্তি পরীক্ষার ভাইবা দিতে গিয়ে যখন শুনতো চাঁদপুর কলেজের শিক্ষার্থী তখন ভাইবা বোর্ডের সকলের চোখে মুখে উজ্জ্বলতা ফুটে উঠতো। অনেক নামীদামী ব্যক্তিত্ব এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রী।

কলেজটি নিয়ে আমার স্বপ্ন প্রত্যাশা- পুরানো ঐতিহ্যকে ধরে নতুনের স্বপ্ন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাক আরো বেশি।

তৃপ্তি সাহা : এইচএসসি ১৯৮০-৮১ ব্যাচের শিক্ষার্থী; সাবেক লাইব্রেরী উন্নয়ন কর্মকর্তা, মাউশি, ঢাকা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়