প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০০:০০

‘চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল হয়ে যায়’ এ প্রবাদ বাক্যটি আসলেই যে সত্য তা আবারও প্রমাণ হলো। আর তা প্রমাণ করলো চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ছিলো চাঁদপুরের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠক, সংগীতগুরু ও চাঁদপুর ললিতকলার অধ্যক্ষ বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী প্রয়াত শীতল ঘোষালের ১৪তম প্রয়াণ দিবস। একে একে এই সংগীত গুরুর ১৪টি প্রয়াণ দিবস পার হয়ে গেলো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই প্রয়াণ দিবসগুলোতে চাঁদপুরের কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। বিষয়টি আমাকে আহত করেছে বা আমার মনে বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রয়াত শীতল ঘোষাল ছিলেন চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। এ নক্ষত্রটি সংস্কৃতি অঙ্গনের আকাশ থেকে ঝরে যাওয়ার পর চাঁদপুরের সংস্কৃতি কর্মীরা আজ তাঁকে ভুলতে বসেছে। তাঁর প্রয়াণ দিবসগুলোতে পারিবারিক কিছু আয়োজন ছাড়া শিল্প-সংস্কৃতির জগতে কোনো ধরনের আয়োজন থাকে না।
চাঁদপুরের বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কেনো এই প্রখ্যাত সংগীত গুরুর প্রয়াণ দিবসটি পালন করা হচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য নয়। শুধু আমার নয়, চাঁদপুরের সংস্কৃতিপ্রেমীদের মনেও এ বিষয়টি অনেক প্রশ্নের উদ্রেক ঘটিয়েছে।
২০০৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় চাঁদপুর সেন্ট্রাল হাসপাতালে যখন এ সংগীতগুরু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তখন চাঁদপুরের প্রত্যেকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীর চোখ ছিলো অশ্রুসিক্ত। তখন মনে হয়েছিলো এই সংগীতগুরু চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক আকাশ থেকে কখনওই মুছে যাবেন না। তাহলে কি সেদিনের সেই অশ্রুসিক্ত নয়ন ছিলো শুধুই লোক দেখানো ?
আজ এ সময়ে যাদের বলিষ্ঠ পদচারণায় চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গন সরগরম, তারাও হয়তো একদিন এ সংগীতগুরুর মতো পরলোকেগমন করবেন। এটাই সত্যি, এটাই বাস্তব, এটাই পৃথিবীর নিয়ম। এ নিয়ম ভাঙ্গার সাধ্য কারো নেই। সেদিন হয়তো প্রয়াত সংগীতগুরু শীতল ঘোষালের মতো সবাই ভুলে যাবে আপনাদের। তাই সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনের জোয়ারে কেবল গা না ভাসিয়ে আসুন আমরা আমাদের অগ্রজদেরও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।
আহমেদ শাহেদ : গণমাধ্যমকর্মী ও ফ্রিল্যান্স ভয়েস আর্টিস্ট।