শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১১:১২

যে পত্রিকা সৃষ্টি করে লেখক

মোঃ তাইয়্যেব হোসাইন
যে পত্রিকা সৃষ্টি করে লেখক

লেখালেখির প্রতি আমার আগ্রহ ও অভ্যাস মূলত দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পড়ার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল। এর আগে আমি বিভিন্ন ম্যাগাজিন পড়তাম, পৌর পাঠাগারে গিয়ে নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম। ওয়ান মিনিটের কাছে দেয়ালে চাঁদপুর কণ্ঠ টাঙানো থাকতো আর আমি সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই পত্রিকা পড়তাম।

একদিন শুক্রবারে পত্রিকায় “শিশু কণ্ঠ” নামে একটি পাতা প্রকাশিত হলো। পাতাজুড়ে ছিল ছড়া, কবিতা,গল্প ও শিশুদের সাক্ষাৎকার। একদম নিচে লেখা ছিল লেখাপাঠানোর ঠিকানা। তখন মনে হলো, যেহেতু পাতাটির নাম “শিশু কণ্ঠ”, হয়তো এখানে শিশুরাই লেখালেখি করে। সেই ভাবনা থেকে সাহস করে আমিও একটি ছড়া লিখে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেই। এর আগেও আমি নোটবুকে ,ডায়রিতে গল্প-কবিতা লিখে রাখতাম।

আমি “মায়ের আদর” নামে একটি ছড়া হলুদ খামে ভরে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠাই। পরে সরাসরি প্রেস ক্লাবের পাশে রেডক্রিসেন্ট ভবনে চাঁদপুর কণ্ঠের অফিসে গিয়ে শিশু কণ্ঠের বিভাগীয় সম্পাদক সোহাঈদ খান জিয়া ভাইয়ের হাতে লেখাটি জমা দেই। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে আমার জীবনের প্রথম ছড়াটি প্রকাশিত হয়।

সেই সময় পত্রিকার দাম ছিল মাত্র তিন টাকা। নিজের প্রকাশিত লেখা দেখার আনন্দে আমি একসঙ্গে ৩০টি পত্রিকা কিনেছিলাম। আশেপাশের পরিচিত মানুষদের হাতে পত্রিকা তুলে দিয়ে বলতাম, “ভিতরে আমার লেখা আছে।” সেই আনন্দঘন মুহূর্ত আজও আমার হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।

আমার কাছে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ শুধু একটি পত্রিকা নয়, বরং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো। এটি যেমন লেখক তৈরি করে, তেমনি সাংবাদিকও তৈরি করে। আমার মতো অসংখ্য শিশুকে লেখালেখির প্রতি অভ্যস্ত করে তুলছে এই পত্রিকাটি। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত আমি নিয়মিত শিশু পাতায় লিখে যাচ্ছি।

আমাদের আশেপাশের অনেক পরিচিত লেখকের কাছ থেকেও শুনেছি, উনাদের জীবনের প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়েছিল চাঁদপুর কণ্ঠের শিশু পাতায়। উনাদের মধ্যে অনেকে আজ একাধিক গ্রন্থের লেখক এবং দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ যেমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালন করছে, তেমনি এখানকার বিভাগীয় সম্পাদকরাও শিক্ষকের মতো দায়িত্ব পালন করেন। আমার লেখায় ভুল থাকলেও তাঁরা আমার মনের ভাষা বুঝতে পারতেন এবং সুন্দরভাবে সংশোধন করে দিতেন। এটি একজন নতুন লেখকের জন্য ছিল অসাধারণ অনুপ্রেরণা।

পরিশেষে, দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের কাছে আমি চিরঋণী তাই আজীবন শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে চাঁদপুর কন্ঠের পাশে থাকতে চাই। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ও “শিশু কণ্ঠ” পাতার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এই ধারা অব্যাহত থাকুক। প্রতিনিয়ত তৈরি হোক নতুন নতুন লেখক ও সৃজনশীল ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়