বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০৯:৩৮

তরপুরচণ্ডীর মেঘনারপাড়ে বাবুর হৃষ্টপুষ্ট কোরবানির পশুর খামার

‘আধুনিক যন্ত্রপাতির সাপোর্ট দিলে আমরা আরো এগুতে পারবো’

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
‘আধুনিক যন্ত্রপাতির সাপোর্ট দিলে আমরা আরো এগুতে পারবো’

চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের উত্তর-পশ্চিম মেঘনার পাড়ে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী কোরবানির পশুর খামার ‘সাফা এগ্রিকালচার এন্ড ক্রোপস’। প্রান্তিক কৃষক মো. সাদ্দাম হোসেন ওরফে বাবুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই খামারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের হৃষ্টপুষ্ট গরু পালন করা হচ্ছে।

খামারটিতে বর্তমানে হলিস্টিয়ান ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল ও নেপালি জাতের গরু রয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে খামারের গরুগুলো ক্রেতাদের নজর কেড়েছে। সুঠাম দেহ ও স্বাস্থ্যবান গরুগুলো দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন।

খামারের স্বত্বাধিকারী মো. সাদ্দাম ওরফে বাবু জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি গৃহপালিত পশু পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে গত কোরবানির পর তিনি ‘সাফা এগ্রিকালচার এন্ড ক্রোপস’ নামে আধুনিক এই খামার গড়ে তোলেন। তিনি আরো জানান “ব্যবসা হালাল, কোরবানিও হালাল। তাই আমি কখনো ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করি না। নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রস্তুতকৃত প্রাকৃতিক গো-খাদ্য খাইয়ে গরুগুলো হৃষ্টপুষ্ট করে তুলি।”

খামারে গরুর খাদ্য হিসেবে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয় ভুট্টার সাইলেজ। ভুট্টা গাছ, রাবের পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এ খাদ্য গরুর পুষ্টি নিশ্চিত করছে বলে জানান তিনি।

প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ খামারে একসাথে ২৫ থেকে ৩০টি গরু পালনের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে খামারে ১৩টি গরু রয়েছে এবং এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান খামার মালিক।

কোরবানির পশু ক্রয়ে আগ্রহীরা সরাসরি খামারে গিয়ে পশু দেখতে পারবেন। এছাড়া যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর : ০১৭৯৯-৬২২৮৮৮। খামারের যে কোনো কেউ কোরবানির পশু কিনলে ঈদের দিন পর্যন্ত রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রয়োজনে বিক্রেতার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার তাদের।

একজন আদর্শ খামারি হিসেবে সাদ্দাম সরকারের কাছে আর্জি করেছেন, আমরা যারা প্রকৃত খামারি আমাদেরকে সরকার বিভিন্ন সময় প্রণোদনা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সাপোর্ট দিলে আমরা আরো এগুতে পারবো। অন্যথায় দেশে শ্রমিকের যে অভাব, সেখানে এ রকম ব্যবসা করে টিকে থাকাটা কঠিন হবে। কারণ একটি খামারে একাধিক গরু লালনপালন করা হয়। সেখানে কর্মচারী দিয়ে ঘাস কাটাতে গেলে দিনে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা কেটে যায়। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আধুনিকতার কৌশল কাজে লাগিয়ে আমরা যদি কাজ করতে পারি, তাহলে আমরা কৃষকরা লাভবান হবো। মাংসের চাহিদা মেটাতে আর ভারতের গরুর প্রতি নির্ভর করতে হবে না। তখন এদেশের যুবকরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবে।

ছবির ক্যাপশন।। ‘সাফা এগ্রিকালচার এন্ড ক্রোপস’-এর প্রান্তিক কৃষক মো. সাদ্দাম হোসেন ওরফে বাবু তার খামারে গরু দেখভাল করছেন।

ফরিদগঞ্জের মোস্তাকিম ডেইরী এন্ড এগ্রোর কোরবানির জন্যে প্রস্তুতকৃত গরু। ছবি : আলআমিন হোসাইন।

ছবি-১০

নারিকেল বিক্রিতে অসন্তোষ প্রান্তিক চাষীদের

পাইকারদের দৌরাত্ম্যে গাছ কাটছেন অনেকে

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক ॥ একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় শোভা পেতো নারিকেল গাছ। পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো এই গাছ। কিন্তু বর্তমানে প্রান্তিক কৃষকদের অনেকেই নারিকেলের আশানুরূপ মূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বছরের পর বছর লালন করা গাছ কেটে ফেলছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি ডাব কিংবা নারিকেল উৎপাদনে বছরের পর বছর পরিচর্যা করতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে গাছ বড়ো করতে কৃষকদের যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু ফল বিক্রির সময় তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি বছরে একবার গাছ বাছাই করার জন্যে কোনো শ্রমিকও পাওয়া যায় না। যদি শ্রমিক মিলে তাও আবার দ্বিগুণ টাকা দিতে হয়।

ফরিদগঞ্জের রূপসা গ্রামের কৃষক ইসমাইল ও আব্দুল মান্নান জানান, আমাদের থেকে পাইকাররা খুব কম দামে ডাব বা নারিকেল কিনে নিয়ে যায়। এক জোড়া ডাব বা নারিকেল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে হয় আমাদের। অথচ একই ডাব বা নারিকেল গ্রামের হাটে বা শহরের বাজারে গিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা জোড়ায় বিক্রি হতে দেখি। এতে অবাক হয়ে যাই আমরাÑবিক্রি করি এতো কম দামে! কোনো কারণে আমাদের প্রয়োজন হলে কিনতে হয় বেশি দামে।

ওয়্যারলেস বাজারের ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান খান জিয়া জানান, নারিকেল একটি অর্থকারী ফসল। একজন উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝখানে বিশাল দামের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। যার সুবিধা নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ এগিয়ে আসলে অথবা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এগিয়ে আসলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে।

বিষ্ণুপুর ও বিষ্ণুদী গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল ও সোলায়মানের অভিযোগ, নারিকেল সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের জন্যে কোনো সংগঠিত ব্যবস্থা না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। অনেক সময় বাড়িতে ফল পাকলেও ক্রেতা পাওয়া যায় না। আবার পাইকাররা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করায় কৃষকরা বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করেন। ওই এলাকারই মিনহাজ বিভিন্ন দোকানে দোকানে হেঁটে হেঁটে এক জোড়া নারকেল বিক্রির চেষ্টা করে। দাম কম কয় বলে সে একাধিক দোকান ঘুরতে থাকে। পরিশেষে একজোড়া নাইকেল ৭০ টাকায় বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে হয় মনে ক্লান্তির চাপ নিয়ে।

কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “বছরের পর বছর গাছ লালন করি। কিন্তু বিক্রি করতে গেলে লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠে না। এজন্যে অনেকেই এখন নারিকেল গাছ কাটার চিন্তা করছেন।” তিনি জানান, কখনো গাছ বাছাইয়ের জন্যে কোনো শ্রমিক পাওয়া যায় না। আর পেলেও টাকা দিতে হয় দ্বিগুণ।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারিকেল একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। ডাব, নারিকেল, ছোবড়া ও কাঠ সবকিছুরই অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে।সরকারিভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, কৃষকদের সরাসরি বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আবারও নারিকেল চাষে আগ্রহী হবেন।

সচেতন মহল মনে করছে, প্রান্তিক কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তা না হলে একসময় গ্রামবাংলা থেকে নারিকেল গাছ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়