প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৬
সাহিত্য পাতার কবিতা
নব অরুণ আলোকে এস ডি সুব্রত
বছরের শেষ সূর্যাস্তে মুছে যাক মনের কালিমা
ব্যাধি বেদনা দূর হোক নব অরুণ আলোকে
সূচি হোক এ বসুন্ধরা কেটে যাক ভয় শংকা
প্রার্থনা করি বন্ধ হোক যুদ্ধ ও বারুদের খেলা
ভালোবেসে দেশটাকে দাঁড়াই বিপন্নের পাশে
যেথায় বিপর্যস্ত মানুষ ও মানবতা
আঁধার কেটে যাক উঠুক রাঙ্গা রবি পহেলা বৈশাখে,
মুছে যাক যত গ্লানি ও বাধা ব্যবধান
বেজে উঠুক প্রিয় বাংলায় সুরের ঐকতান
আঁধার রাতের কলঙ্ক শেষে
নব অরুণ আলোকে সাজুক প্রিয় বাংলা ও বসুন্ধরা।লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক, সুনামগঞ্জ।
আচ্ছা, তুমি কি বৃষ্টিপ্রেমী?
মাহমুদ হাসান সজীব
না! কেনো বৃষ্টি কি তোমার বড্ড প্রিয় ?
হুম, বলতে পারো।
আমার আমিকেই আমি খুঁজে পাই বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটায়।
যখন আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায় তখন তোমার ভয় করে না?
ভয় করবে কেনো? ওরা তো আমার মনেরই প্রতিবিম্ব !
বজ্রের ঝলকানিতে যখন পুরো আকাশ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় তখন?
দূর বোকা ! ওটা তো আমার হাহাকারের তীব্র আর্ত চিৎকার মাত্র,
যখন আকাশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় তীক্ষ্ণ জলধারায় তোমার চিবুকে ব্যথা অনুভূত হয় ?
ওগুলো তো আমার কষ্টের বহিঃপ্রকাশ মাত্র,
তুমি আসলেই একটা পাগল।
হুম, আমি বড্ড পাগল বৃষ্টির জন্যে ।
মাহমুদ হাসান সজীব : মহামায়া বাজার, চাঁদপুর।
কিছু কথা বলার ছিলো
মো. রহমত আলীকিছু কথা বলার ছিলো
তবে শুনবে কে প্রলাপ! এসব শুনে কী লাভ?
খেয়াল করলাম সেলাই করা কতোগুলো মুখ,
ফিসফিস করে মাঝে মাঝে বলে ওঠে–
দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবস্থা শোচনীয় অবস্থা!
এসো তোমাদের মধ্যে থেকে... সৎ বীর কেউ,
এসে এই পতাকা শক্ত করে আঁকড়ে ধরো।
কিছু কথা বলার ছিলো
তবে কে শোনে কথা কার! বলেই বা কী লাভ!
দেখলাম ভুক্তভোগী গুমরে কাঁদে;
শুনলাম নিপীড়িত বলছে জর্জরিত কণ্ঠে;
স্বাধীন দেশে কেন নিরাপত্তাহীনতায় নাগরিক?
কেনইবা আজও অনিরাপদ জনপথ?
কেন রাষ্ট্র নীরব? কেন প্রশাসন নিথর?
কিছু কথা আরো ছিলো
তবে বলা বারণ! বলেও লাভ নেই কোনো!
বলতে শুনেছি বোবা-কণ্ঠে আকার-ইঙ্গিতে;
সুশাসন ও ন্যায়বিচার আর অবশিষ্ট নেই,
দুঃশাসনে নিমজ্জিত জাতি করুণ অবস্থায়,
অব্যবস্থাপনায় গোটা—আমূল ব্যবস্থাপনা;
নীতিভ্রষ্ট আজি দুর্নীতিগ্রস্ত পুরো মানচিত্র!
আরো কিছু বলার ছিলো
তবে কোথায় বলবো? কাকে বলবো?
কে দেখবে কে শুনবে? দায় কার দায়িত্ব কার?
নিষ্ঠাবান কে? নীতিবান কে? দায়িত্ববান কে?
তবে কোথায় কবে সমাধান? আর কবে..?মো. রহমত আলী : খালিশপুর, খুলনা।
ঠোঁটের নিবিড়ে একটি তিলক
দেবদাস কর্মকারভেতরে প্রবল তৃষ্ণা তবু দাঁড়াই দ্বিধাহীন
কোথায় বিপুল বিষাদ যেন ভেসে আসে
জনহীন সৈকত পুরনো শিরিষের গায়ে রাখি হাত
দৃষ্টির গভীরে পাতার ভেতরে চিরল ফুল মিঠে রঙে।
একটি জীবনে ফেরারি হয়ে এসেছে কতো মানুষের মন
ফেরি করেছে কতো শব্দমালা হাসি দুঃখের ঘাসফুল
কানাকড়িহীন উদাস পথিক যেন মাঝপথে গেছে থেমে
ভেতরে বিপুল তৃষ্ণা জানি না কোন্ অবেলায় এসেছি এখানে
অনুরণন ভেতরে ভেতরে কতো শোকগাথা
তরঙ্গিত ক্ষণে ক্ষণে ভেঙ্গে যায় সব চিহ্ন জীবনের
স্মৃতি-দায়-ঠাঁই, মিহি কণ্ঠের স্বর হাজার প্রশ্নমালা
অস্তিত্বের আড়ালে চলে গেলে যেন কেমন চোখের প্লাবন,
এভাবেই অন্তর্গত ক্ষোভ অভিমানে
ক্রমশ লুপ্ত হয়ে যায় সব নিবেদন
ঠোঁটের নিবিড়ে একটি তিলক
প্রবল তৃষ্ণার মতো করে যেন আয়না বদল।৩ এপ্রিল ২০২৬, ঢাকা, ২০ চৈত্র, ১৪৩২।








