প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৩
পারিবারিক সম্প্রীতির বন্ধনে ‘শিশুর ইফতার ও ঈদ’

পারিবারিক শিক্ষা হলো একটি শিশুর জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। এটি কোনো পাঠ্যবইয়ের মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং পরিবার থেকে অর্জিত সেই আদব-কায়দা, মূল্যবোধ এবং আচরণের সমষ্টি যা একজন মানুষকে সমাজ ও রাষ্ট্রের একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। অর্থাৎ একটি শিশু হাঁটি হাঁটি পা পা করে বড় হওয়ার সময় তার মা-বাবা, ভাই-বোন এবং পরিবারের বড়দের কাছ থেকে যা দেখে এবং শেখে, তা-ই তার পারিবারিক শিক্ষা।
আমাদের বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য ছিল পরিবারের সবাই মিলে একসাথে বসে খাবার খাওয়া। এক সময় মা-চাচিরা পরম মমতায় সবাইকে নিয়ে দস্তরখানে বসতেন, যেখানে খাবারের স্বাদের চেয়েও বড় ছিল একে অপরের প্রতি টান আর ভালোবাসা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক যান্ত্রিকতা আর অতিব্যস্ততা সেই সুন্দর সংস্কৃতিকে ম্লান করে দিচ্ছে। এখন একই ছাদের নিচে থেকেও আমাদের খাওয়ার সময় আলাদা, এমনকি রুচিও ভিন্ন। এই বিচ্ছিন্নতার যুগে পবিত্র রমজান আমাদের মাঝে ফিরে আসে সেই হারানো ঐতিহ্য আর পারিবারিক বন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করার এক ঐশী বার্তা নিয়ে।
এক দস্তরখানে আত্মার বন্ধন
সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় আধুনিক পরিবারগুলোতে এখন একেকজনের খাওয়ার সময় একেক রকম। বাবা যখন ফেরেন, সন্তান তখন ঘুমে; কিংবা মা যখন খেতে বসেন, অন্য সদস্যরা হয়তো বাইরের কাজে ব্যস্ত। এই যে যান্ত্রিকতা, তা আমাদের অজান্তেই মানসিকভাবে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিল। রমজানে ইফতারের সময়টি এমন এক মুহূর্ত, যখন পৃথিবীর যাবতীয় কাজ থমকে দাঁড়ায়। পরিবারের ছোট-বড় সবাই একই টেবিলে বা দস্তরখানে অপেক্ষমাণ থাকে। মাহে রমজানে ইফতার যেন এক অঘোষিত মিলনমেলার ডাক দেয়।
এটি কেবল ক্ষুধা নিবারণের আয়োজন নয়; বরং এটি একে অপরের খোঁজ নেওয়ার, সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার এক গভীর মানবিক সুযোগ। নির্দিষ্ট সময়ে সবাই একসাথে দস্তরখানে বসা, একে অন্যের পাতে খাবার তুলে দেওয়া কিংবা শরবত ভাগ করে নেওয়াÑএই দৃশ্যগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা একে অপরের কতটা আপন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:”তোমরা একসাথে বসে খাবার খাও এবং আল্লাহর নাম নাও (বিসমিল্লাহ বলো), তাহলে তোমাদের খাবারে বরকত দেওয়া হবে।” (আবু দাউদ)
ইফতারের সামাজিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইফতারের এই মেলবন্ধন কেবল পারিবারিক গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি ছড়িয়ে পড়ে সমাজ থেকে রাষ্ট্রে, এমনকি সারা বিশ্বে।
মসজিদের আঙিনায় সাম্য: মসজিদে যখন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই সারিবদ্ধ হয়ে বসে একই খাবার দিয়ে ইফতার করেন, তখন সেখানে কোনো বিভেদ থাকে না।
কর্মক্ষেত্রে সহমর্মিতা: অফিস-আদালত বা কলকারখানায় সহকর্মীদের সাথে বসে ইফতার করার মাধ্যমে পেশাদারিত্বের দেয়াল ভেঙে তৈরি হয় এক ধরণের মানবিক হৃদ্যতা।
বিশ্বজনীন একতা: বিশ্বের যে প্রান্তেই মুসলমানরা থাকুক না কেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেহরি ও ইফতারের এই নিয়ম পৃথিবীর বুকে এক বিরল শৃঙ্খলা ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
১১ মাসের দূরত্ব ঘোচানোর এক মাস
বছরের বাকি ১১ মাস হয়তো কাজের চাপে আমরা পাশের মানুষটির চোখের ভাষা পড়ার সুযোগ পাই না। কিন্তু রমজানের এই ৩০ দিন আমাদের এক ছাদের নিচে, এক টেবিলে বসার সুযোগ করে দেয়। সেহরির শেষ সময়ে ঘুমের আমেজ নিয়ে একসাথে খাওয়া কিংবা ইফতারের আগমুহূর্তে মোনাজাতে শামিল হওয়াÑএই সময়গুলোই পারিবারিক বন্ধনকে নতুন করে ঝালাই করে। খাবার কমবেশি হলে তা ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা আমাদের ভেতর ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলে, যা স্বার্থপরতার বিষবাষ্প থেকে সমাজকে মুক্ত রাখে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য:”একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট, আর দুজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।” (সহীহ মুসলিম)
আধ্যাত্মিক প্রশান্তি
ইফতারের আগমুহূর্তে যখন পুরো পরিবার একসাথে হাত তুলে দোয়া করে, তখন সেখানে এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি হয়। বড়দের সাথে ছোটদের এই দোয়ায় শামিল হওয়া তাদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানেও বড় ভূমিকা রাখে। ইফতারের সময় নবীজী এই দোয়াটি পড়তেন “জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ” অর্থ: “পিপাসা মিটেছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ পুরস্কারও নির্ধারিত হয়েছে।” (আবু দাউদ)
পরিশেষে বলা যায়, ইফতার কেবল একটি ধর্মীয় উপাচার বা ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের যান্ত্রিক জীবনে হারিয়ে যাওয়া ‘একত্রে বসে খাওয়ার’ সেই চিরায়ত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক ঐশী রক্ষাকবচ। ১১ মাসের কর্মব্যস্ততা ও ডিজিটাল আসক্তি আমাদের মধ্যে যে অলক্ষ্য দেয়াল তুলে দেয়, রমজানের ৩০ দিন সেই দেয়াল ভেঙে আমাদের আবার এক দস্তরখানে ফিরিয়ে আনে। ইফতারের এই বরকতময় মুহূর্তগুলো আমাদের শেখায় যেÑখাবার ভাগ করে নিলে ভালোবাসা বাড়ে, আর সময় ভাগ করে নিলে বন্ধন দৃঢ় হয়। এই যে একসাথে বসে ইফতার করার সংস্কৃতি, এটিই আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর প্রাণশক্তি। রমজানের এই সম্প্রীতির শিক্ষা যদি আমরা বছরের বাকি সময়গুলোতেও অন্তত দিনে একবার চর্চা করতে পারি, তবে আমাদের ঘরগুলো হয়ে উঠবে প্রশান্তির নীড় আর সমাজ হবে মানবিকতায় অনন্য।
ঈদের আনন্দে শিশুদের পারিবারিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গঠন।
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। তবে শিশুদের কাছে ঈদের সংজ্ঞা কেবল নতুন পোশাক বা সেমাই-পায়েসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি হলো প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং একাত্ববোধের এক মহাউৎসব। একটি শিশুর মানসিক বিকাশে এবং সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক গঠনে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ঈদ এমন একটি উপলক্ষ্য যা যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে পরিবারের সকল সদস্যকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ঈদের এই পবিত্র ও আনন্দঘন পরিবেশ শিশুদের মধ্যে পারিবারিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১. গুণগত সময় কাটানো (ছঁধষরঃু ঞরসব)
আধুনিক যুগে স্মার্টফোন এবং প্রযুক্তির ভিড়ে পারিবারিক যোগাযোগ অনেকাংশে কমে গেছে। ঈদ এমন একটি সময় যখন বড়রা কাজ থেকে ছুটি পান এবং ছোটরা পড়াশোনার চাপমুক্ত থাকে।
* একত্রে খাবার গ্রহণ: ডাইনিং টেবিলে সবাই মিলে গল্প করতে করতে খাওয়া শিশুদের মনে এক ধরণের নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে।
* স্মৃতিচারণ: বড়দের শৈশবের ঈদের গল্প শোনার মাধ্যমে শিশুরা পরিবারের শেকড় সম্পর্কে জানতে পারে, যা তাদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করে।
২. দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া ও সহযোগিতার মনোভাব
ঈদের প্রস্তুতিতে শিশুদের ছোট ছোট কাজে সম্পৃক্ত করা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
* ঘর সাজানো: ঘর গোছানো বা ঘর সাজানোর কাজে শিশুকে সাথে নিলে সে নিজেকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে।
* রান্নায় সহায়তা: নিরাপদ কোনো কাজে মাকে সাহায্য করা বা টেবিল গুছানোর মাধ্যমে তাদের মধ্যে ‘টিমওয়ার্ক’ বা দলগত কাজের মানসিকতা গড়ে ওঠে। এটি ভাই-বোনদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরির একটি অনন্য উপায়।
৩. সহমর্মিতা ও নৈতিক শিক্ষা
ঈদের অন্যতম শিক্ষা হলো ত্যাগের মহিমা এবং অন্যের কথা ভাবা। শিশুদের মধ্যে এই গুণাবলী গড়ে তোলার এটাই সেরা সময়।
* ফিতরা ও দান: নিজ হাতে অভাবী শিশুদের মাঝে উপহার বা অর্থ বিতরণের সুযোগ দিলে শিশুর মধ্যে সহমর্মিতা জন্মায়। সে বুঝতে শেখে যে, নিজের আনন্দের চেয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটানো বেশি তৃপ্তিদায়ক।
* কুরবানির শিক্ষা: পশুর প্রতি মমতা এবং ত্যাগের প্রকৃত অর্থ বড়দের আচরণের মাধ্যমেই শিশুরা শেখে।
৪. আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ়করণ
যান্ত্রিক জীবনে আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা হওয়া খুব সীমিত হয়ে পড়েছে।
* দাদা-দাদি ও নানা-নানির সান্নিধ্য: ঈদ উপলক্ষে দাদা-বাড়ি বা নানা-বাড়ি যাওয়ার মাধ্যমে শিশুরা প্রবীণ সদস্যদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পায়। তাদের আদর এবং শাসন শিশুদের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (ঊসড়ঃরড়হধষ ওহঃবষষরমবহপব) বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
* কাজিনদের সাথে বন্ধুত্ব: সমবয়সী ভাই-বোন বা কাজিনদের সাথে খেলাধুলা করার মাধ্যমে শিশুদের সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এটি তাদের একাকিত্ব দূর করে এবং শেয়ারিং (ঝযধৎরহম) বা ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে।
৫. ডিজিটাল ডিটক্স ও সৃজনশীলতা
ঈদের ছুটিতে শিশুদের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা যায়।
* সাংস্কৃতিক আয়োজন: ঘরোয়াভাবে গান, কবিতা বা কৌতুকের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে শিশুর জড়তা কাটে এবং পরিবারের সবার সাথে তার দূরত্ব কমে।
* উপহার আদান-প্রদান: হাতে বানানো কার্ড বা ছোট উপহার বড়দের দেওয়ার মাধ্যমে শিশুরা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ শিখতে পারে।
৬. বড়দের আদর্শ আচরণ
শিশুরা যা শোনে তার চেয়ে যা দেখে তা বেশি অনুসরণ করে। ঈদের দিন পরিবারের বড়রা যদি একে অপরের সাথে বিনয়ী আচরণ করেন, কোলাকুলি করেন এবং মান-অভিমান ভুলে মিশে যান, তবে শিশুটিও সেই আদর্শ গ্রহণ করে। বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের স্নেহ করার বাস্তব শিক্ষা ঈদ থেকেই শুরু হয়। শিশুর শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো পরিবার। একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে পরিবার, সেখান থেকে যে শিক্ষাটা পায়- সেটাকেই আমরা বলি পারিবারিক শিক্ষা।
ঈদের আনন্দ কেবল একদিনের উৎসব নয়, এটি শিশুদের মনের গহীনে পারিবারিক মূল্যবোধের বীজ বপন করার একটি শ্রেষ্ঠ সময়। যখন একটি শিশু তার পরিবারে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতার পরিবেশ দেখে, তখন তার মধ্যে এক ধরণের মানসিক প্রশান্তি তৈরি হয়। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে ভবিষ্যতে একজন সচেতন, সংবেদনশীল এবং সামাজিকভাবে দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই প্রতিটি অভিভাবকের উচিত ঈদের প্রতিটি মুহূর্তকে শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় এবং আনন্দময় করে তোলা। এ সম্পর্কিত কিছু পরামর্শ নিম্নে দেওয়া হল-
১. শিশুদের ওপর কোনো নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে আনন্দের মাধ্যমে শেখান।
২. উপহারের চেয়ে আপনার সান্নিধ্য ও সময়কে বেশি গুরুত্ব দিন।
৩. তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন, এতে তারা সম্মানিত বোধ করবে।
৪. সন্তান কে অনেক কিছু মা বাবা শিক্ষা দেন, যা সে তার জীবনে চলতে কাজে লাগায়।আমার মা ছোট বেলায় অনেক কিছু আমাকে শিখিয়েছিলেন।আমি আজও চোখ বন্ধ করে সেই বিষয় গুলো মনে করি , আর মা বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
ছোট বেলায় আমার মা কখনও আমাকে গোসল করার পর ভিজা চুলে টপটপ করে পানি পরবে সেটা ধষষড়ি করেনি।সব সময় মাথা গোসল খানা থেকেই টাওয়াল দিয়ে পেচিয়ে বের হতে বলতেন।পরে মুছে বাতাসে কিছুক্ষণ হালকা শুকিয়ে তারপর বড় চিড়ুনী দিয়ে আচরাতে বলতেন।বড় চিড়ুনী তে চুল কম পরে আর ব্যাথা কম লাগে।
শীতের দিনে যতবার পানি শরীরে লাগতো ততবারই আমার মা লোশন ক্রিম লাগিয়ে দিতেন।রাতে ঘুমানোর আগে ভেসলিন লাগিয়ে দিতেন।ফলশ্রুতিতে আজও অবধি কোন দিন আমাদের হাত পা চামড়া ফাঁটেনি আলহামদুলিল্লাহ।
আমার মা আমাদের খালি পায়ে হেটে কখনো বিছানা তে উঠতে দেয়নি। কারন বিছানা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরী। খালি পায়ে হেটে বিছানা তে গেলে পায়ের ময়লা থেকে চাদরও দ্রুত নোংরা হয়।
আমাদের ঠান্ডা কাশি সর্দি হলে নাকের জন্য আলাদা পাতলা রুমাল দিতেন যেহেতু সেই সময়ে টিস্যু ছিলোনা। আর আমার মা আমাদের নাকের নিচে আর ঠোঁট এর উপর ভেসলিন দিয়ে রাখতেন যাতে নাকের সর্দি জমে সাদা হয়ে ময়লা না হয়ে থাকে।
আমার মা আমাদের কখনো বাসার বাইরের থেকে এসেই বিছানাতে শুতে মানা করতেন। বাইরের কাপড় আর বাসার এক নয়।কাপড় না পাল্টে হাতমুখ না ধুয়ে অবশ্য ই বিছানা তে শোয়া যাবেনা।
খাওয়ার সময় শিখিয়ে ছিলেন হাতের পুরো কব্জিতে যেন খাবার না জড়ানো থাকে বা পুরো আংগুলের বাইরে যেন খাবার জড়িয়ে না যায়।
রাতে চুল পরিপাটি করে ঘুমানো , সকালে চুল পরিপাটি করা , স্কুল থেকে এসে ড্রেস ঠিক মত রেখে গোসল করে ফেলা, বাথরুম এ কাপড় রেখে বের হওয়া বা দীর্ঘ সময় ওয়াসরুমে কাপড় ফেলে না রাখা।
টেবিলে বসে পড়ার সময় হাতের কুনুই টেবিলে ভর দিয়ে না রাখা কারন এতে হাতের কুনুই কালো হয়ে যায়।
হাটার সময় অন্যের স্যান্ডেল লাথি না মারা, বড়দের কে চেয়ার ছেড়ে দেয়া, মুরব্বিদের সামনে পায়ের পজিশন ঠিক রাখা, পুরো চায়ের কাপ শেষ না করে সামান্য অবশিষ্ট রাখা, পানির গ্লাস ঢেকে রাখা আরও হাজার টা শিক্ষা আমার মা বাবা আমাদের শিখিয়েছে।
এগুলো অনেক ছোট খাটো বিষয় কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ জীবনের চলার পথে।আমি করেছি , আমি শিখে আমার বাচ্চাদের শিখিয়েছি।
“উবপবহপু” অনেক বড় আর গভীর একটি শব্দ। আমি বিশ্বাস করি পরিবার আমাদের অনেক কিছু শিখায় আবার আমরা তা আমাদের সন্তানদের শেখাই।একদিন চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখেন মা কতকিছু আমাদের শেখায় কিন্তু আমরা তা কয়জন মনে করে দেখি বা উপলব্ধি করি।মায়ের বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা সর্বদা।
মনে রাখবেন , শিক্ষা দক্ষতা সব ম্লান হয়ে যায় যদি আপনার জীবনে চলার পথে কমনসেন্সের ও উবপবহপু র অভাব থাকে। একদিন সময় করে ভাববেন মা বাবা কত কিছু শেখায়। আমরা আজ যা কিছু সব তাদেরই অবদান।
তাই পরিবারের সকলের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলায় ইফতার এবং ঈদ একটি শিশুর জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। এক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা সর্বদাই অগ্রগণ্য।
রাশেদ আতিক রোজি : ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার (ইউপিইটিসি), চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।







