প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:০৪
পেইন্টার

সালেহ বল্লো সাহেব আসুন খেয়ে নেন এক সাথে হাঁটতে যাব। তাদের সাথে করে নিয়ে নাস্তা করে গেইটের কাছে আসলাম। আমি লুকিয়ে একটু গোলাপ গাছগুলোর দিকে খেয়াল করলাম দেখলাম কি চমৎকার দেখাচ্ছে । একদম কচ কচে কালো যেন অমাবস্যার রাতের মত। তাছাড়া গোলাপ খুব সুন্দর একটা ফুল।যার সুভাস অতি চমৎকার বিশেষ করে ভালোবাসার প্রতি হচ্ছে লাল। আমরা সচারাচর জানি,লাল গোলাপ প্রধানত গভীর ভালোবাসা, প্রেম, রোমান্স এবং ভক্তি বা শ্রদ্ধার প্রতীক। এটি ভালোবাসার মানুষকে আবেগ নিবেদনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। এছাড়া, লাল গোলাপ সৌন্দর্য, সাহসিকতা এবং অনুরাগেরও প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সে সাথে ভালোবাসার মাস বলা হয় ফেব্রুয়ারিকে। ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে বা বিশ্ব গোলাপ দিবস। প্রিয় মানুষকে গোলাপ উপহার দিয়ে প্রকাশ করা হয় ভালোবাসা। লাল গোলাপের প্রতীকী অর্থ সম্পর্কে আমার অনুমান থেকে ক্ষুদ্র করে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
প্রেম ও রোমান্স: এটি ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে দেওয়ার জন্য সেরা ফুল এবং প্রথম প্রেমের প্রতীক।
শ্রদ্ধা ও ভক্তি: ভালোবাসা ছাড়াও লাল গোলাপ কাউকে সম্মান বা শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনী: গ্রিক ও রোমান পুরাণে লাল গোলাপকে প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি বা ভেনাসের সাথে সম্পর্কিত পবিত্র ফুল মনে করা হয়।
লাল রঙের বিশেষত্ব: গাঢ় লাল গোলাপ সাধারণত গভীর আবেগ, ভালোবাসা এবং ভালোবাসার সম্পর্কের চরম পর্যায় নির্দেশ করে এক কথায় লাল গোলাপ হলো নিরঙ্কুশ ভালোবাসার চিরন্তন প্রতীক।
তবে গোলাপের ও রয়েছে বিভিন্ন অর্থ। জেনে নেই কোন গোলাপ কিসের প্রতীক।
১.লাল গোলাপকে বলা হয় ভালোবাসা ও রোমান্সের প্রতীক।
২.হলুদ গোলাপ বন্ধুত্বের প্রতীক। বা আনন্দের প্রতীকও বলা হয় একে।
৩. শুদ্ধতার প্রতীক হচ্ছে সাদা গোলাপ। অনেক ধর্মে বিয়ের দিন বর-কনে একে অন্যকে সাদা গোলাপ উপহার দেন।
৪.কাছের মানুষটিকে ধন্যবাদ দিতে চাইলে বেছে নিতে পারেন গোলাপি গোলাপ বা পিঙ্ক রোজ। এটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও প্রশংসার প্রতীক।
৫.কাউকে শুভেচ্ছা জানাতে চাইলে অরেঞ্জ রোজ বা কমলা রঙের গোলাপ উপহার দিতে পারেন।
৬.কালো গোলাপ সাধারণত রহস্য, মৃত্যু, শোক, এবং বিষাদ বা বিচ্ছেদের প্রতীক। এটি গভীর, অন্ধকারাচ্ছন্ন অনুভূতি, পুনর্জন্ম, বা কোনো কিছুর চূড়ান্ত সমাপ্তি নির্দেশ করে। এছাড়াও, এটি মাঝে মাঝে নতুন সূচনার বা বিদ্রোহী ও বিপ্লবী মানসিকতার প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়
কালো গোলাপের প্রধান প্রতীকী অর্থগুলো নিচে দেওয়া হলো:
* শোক ও বিদায়: এটি গভীর শোক, বিচ্ছেদ বা কাউকে শেষ বিদায় জানানোর প্রতীক।
রহস্য ও রহস্যময়তা: এর গাঢ় রঙের কারণে এটি রহস্য, অজানা এবং অলৌকিক কিছুর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
মৃত্যু ও সমাপ্তি: অশুভ কিছু বা সম্পর্কের সমাপ্তি বোঝাতেও কালো গোলাপ ব্যবহৃত হয়।
বিদ্রোহ ও নতুন শুরু: আধুনিক সংজ্ঞায় এটি নতুন শুরু, বা কোনো কিছু নতুনভাবে শুরু করার সাহস বোঝাতে পারে।
বিরলতা ও শক্তি: এটি অনন্য এবং শক্তিশালী আবেগের প্রতীক, যা সাহসের সাথে অন্ধকারকে আলিঙ্গন করা নির্দেশ করে।
কালো গোলাপের অর্থ ব্যবহারের প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
আবার গোলাপ ফুলের পাতাও সিদ্ধ করে সংরক্ষণের মাধ্যমে জল তৈরি করা হয় যা মানুষ মারা গেলে ছিটিয়ে পবিত্র করে দেয় স্থান।
আধুনিকায়ন যুগে বহু প্রেমিক প্রেমিকা আছে যাদের প্রেমের উৎপত্তি রেড রোজের বদলে ব্লেক রোজ দিয়ে শুরু করে। বিচিত্র টানাপোড়েনে শহরে মানুষের পছন্দের ফুল ও হরেক রকমের হয়! কিন্তু এখানে বাড়ির চার কোনে যে চারটি কালো গোলাপ এটা কীসের রহস্যের গণ্ডি। আমাকে এ রহস্যের উন্মোচন করতেই হবে!হঠাৎ ই সালেহ বল্লো সাহেব কী দেখছেন আড়মোড় চোখে?আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম নাহ্ আপনি কিছু না। চলো যাওয়া যাক তাহলে। সেদিনের মুরুব্বীদের সাথে আবারো দেখা হলো।সকলে মিলে সে চা ওয়ালা দোকানে গেলাম। খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে ভাবছি একটু দূরে কোথাও হাঁটতে যাবো।এতে করে গ্রামটাও দেখা হয়ে যাবে সাথে রাস্তা ঘাট চিনে নিবো।কিন্তু সালে বলে এখন রোদের তাপমাত্রা বেশি থাকবে। আমি একটা ছোট্ট শিশুর মত তাদের কথা মেনে বাড়ি রওনা হলাম। দোকান থেকে ফেরার পথে পাশে একটা রাস্তা পড়লো আমাদের সামনে যদিও আকাঁ বাঁকা তবে কাচাঁ মাটির রাস্তা জিজ্ঞেস করলাম এটা দিয়ে কোথায় কোথায় যায়? সালেহ বল্লো রাস্তাটা বেশ লম্বা সাহেব।রাতের বেলা ছাঁদে উঠলে দেখবেন দূরে একটা টাওয়ারের মাথায় বাতি দেখা যায় ঐ টাওয়ারে এই রাস্তাটা দিয়ে যায় সাহেব।আর সামনে আগালে দেখতে পাবেন কয়েকটা বাড়ি আর রাস্তার পাশে খেজুর গাছ,তালগাছ রাস্তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার জন্য গ্রামবাসীর এগুলো লাগিয়েছে। আর এ রাস্তা ধরে সামনে এগুলে বাঁদিকে একটা পুকুর পড়বে সে পুকুরের পাড়ে দিয়ে যে পথটা দেখতে পাবেন ঐ পথটায় আমাদের বাসার সামনে নিয়ে যাবে। আমি বললাম চলো এই পথ ঘুরে যাই। যেহেতু পুকুরপাড় বলেছ অনেক গাছপালা লাগানো থাকবে নিশ্চয়ই। আমাদের সূর্যেরও বেশি তাপ লাগবে না। গাছের ছায়ায় ধীরে ধীরে পৌঁছে যেতে পারবো বাসায়।দুজনের রাজি হল।সামনে কয়েকটা ঘর পরলো। খুব অদ্ভুত,ঘরে উঠোনি কেউ নেই!কোন বাচ্চার চিৎকার নেই,কোলাহল নেই,যেন এ আরেক রহস্য ঘেরা চৌকাঠ। কিন্তু কালো গোলাপের চারা সবার ঘরের সামনে আছে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমরা পুকুর পাড়ে আসতে একজন মধ্যবয়স্ক লোকের সাথে দেখা হলো।মনে হচ্ছে টাওয়ারের ওই দিক থেকে আসতেছে। লোকটার চোখে মুখে ক্লান্তি দেখেছি আর পায়ের টাকনোর উপর অনেক বালু জমা হয়েছে দেখেছি। একমাত্র দীর্ঘ পথ হাঁটলেই এমনটা হয় আমার পাশ কেটে চলে গেল। মনে হয় খুব ক্লান্ত থাকার কারণে কে পাশে বা কার পাশ দিয়ে যাচ্ছে খেয়াল ই করেনি।তাছাড়া গ্রামের নতুন মানুষ দেখলে সবাই একটু লজ্জা বোধ করে। উনি চলে যাওয়ার পরে বিধানও সালেহকে জিজ্ঞেস করলাম উনি কে? উত্তরে তারা বলল উনি উনি হাসান ভাই। ওই যে টাওয়ার আমরা দেখতে পেয়েছিলাম সে টাওয়ারের দাড়ওয়ান।সকাল সকাল চলে আসে গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ে আবার বিকেলে যায় পুরো রাত থাকে ওখানে। আগে তো রমিজ চাচা ওখানে থাকতো।গত মাসে জন্ডিসে মারা গেছে এমনটাই সকলে বলেছে শুনেছি। আমি তো শুনে অবাক এখানে যিনি আমাকে এনেছিলেন ওই ভদ্রলোকের নাম রমিজ ছিল। কি অদ্ভুত ব্যাপার এই শরহে পর গ্রামের প্রতিটি কোনায় কোনায় রহস্য লুকিয়ে আছে! এসব নিয়ে আলোচনা করতে করতে চলে এলাম গেটের কাছে। হাত মুখ ধুয়ে নাস্তার টেবিলে এসে দেখিস সে বয়স্ক মহিলা। আমি বললাম আরে কাকিমা আপনি? গতকাল এক ঝলক দেখেছিলাম আর দেখি নাই আপনাকে। কোথায় ছিলেন আপনি? বসুন আমার সাথে নাস্তা করে নেন। এমন সময় সালেহ ও বিধান চলে আসলো। কাকীমা মনে হয় সংকোচবোধ করে বলল না বাবা তুমি খেয়ে নাও। আমি নামাজ পড়ার সাথে সাথে ঘরে চিড়া ও মুড়ি করে মধু দিয়ে খেয়ে নিয়েছি। তারপর তিনি রান্না ঘরের দিকে চলে গেলেন। আজকেও তাদের কাছে কাকিমার বিষয়ে জিগ্যেস করিনি।মনে মনে ভাবি যেহেতু আজকে কথা হয়েছে কাল আবারও কথা বলব ধীরে জেনে নিব। নাস্তার পর্ব শেষ করে রুমে গেলাম। নতুন করে কিছুই না ভাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। কারণ আজ এত অবাক হওয়া কাণ্ডে জর্জড়িত হয়েছি বেশি প্রেশার নিলে মস্তিষ্ক থেকে ঘুম উড়ে যাবে।কিছুক্ষন রুমে সময় কাটালাম! তারপর সাওয়ার শেষ করে দুপুরের লাঞ্চ করে নিলাম।একাকী সময়ের টানাপোড়েনের গল্পে আমি অধিক ছায়া দেখতে পাচ্ছি তাই কিলহীন হচ্ছি।তবে সকল আলোকপাত রূপকথার গল্পে হরেকরকমের মোড় থাকাটাই স্বাভাবিক।গোধূলি মাখা আকাশ দেখতে চলে গেলাম ছাঁদে, তার সাথে টাওয়ারের আলোর দেখি সমাধানের কোন সূত্র পাই কিনা! পায়চারি করতে করতে মনে মনে ভাবি রমিজ চাচা কী আদৌ ও জন্ডিসে মারা যাওয়া সে ব্যাক্তি হতে পারে? নাকি উনি আরেকজন! কেননা এক নামে কয়েকজন মানুষ হতে পারে।আর আমি শুনেছি এক চেহারার মানুষ ও দু’জন হয়। বেলা শেষে সন্ধ্যা নেমে এলো মাগরিবের আজান হচ্ছে চারপাশে আর টাওয়ারের আলোটা ক্রমশো উজ্জ্বল হচ্ছে! চলে এলাম নামাজ পড়তে।মাগরিবের নামাজের সময় অতি কম হয়ে থাকে। নামাজের শেষে বসে তাজবীহ গননা করতেছিলাম কিছুক্ষন তখনি বিধান চা নিয়ে আসলো!চা খেলে মনে হয় দুনিয়ার সকল দুশ্চিন্তা একপাশে চলে যায় শরীরে এনার্জি চলে আসে ৫০% এর মতো।






