প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫২
পেইন্টার

[পূর্ব প্রকাশিতের পর]
চাচাকে বিদায় করে আমার রুমে আসলাম যেন দুচোখ ভেঙ্গে আসতেছে। ঘুম জমাচ্ছে চোখের পাপড়িতে কিন্তু আমি অন্যের বিছানায় শুতে পারি না লাগেজ খুলে আবার ব্যাট সিট নিলাম বিছানা ধপাশ করে শুয়ে বিছানায় বাতাস করে শুয়ে গেলাম। রাত্রে প্রায় ৪.৩০ মিনিট। তাহাজ্জুদের সময় হয়েছে তখন আমার ঘুম ভেঙে গেল আমি যতই ক্লান্ত থাকি ঘুমে তাহাজ্জোর সময় সজাগ হয়ে যাই।আমি ঘুম থেকে উঠে দু হাত দিয়ে চোখ কচলিয়ে শৌচালয়ে গেলাম মুখ ধুয়ে ওযু করে তাহাজ্জুদ পড়ে কতক্ষণ তজবি গণনা করতে করতে ফজরের আজান হচ্ছে। একই ওযু দিয়ে ফজরের নামাজ শেষ করে নিলাম পাশে পাখিদের কুহু কুহু ডাক সকলেই রবের তরে জিকির করতেছে ঘর থেকে বেরোলাম চারপাশের ফুলগুলো আমাকে সকালের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে উপভোগ করার জন্য বাহিরের পরিবেশটা দেখার জন্য বের হলাম সালেহ বিধান দুজনেই নামাজ পড়ে ঘুমোচ্ছে মনে হয়। কারণ টিউবওয়েলের চারপাশের শ্যাত শ্যাতে।গেট খুলে বের হতে দেখলাম কয়েকজন লোক হঁাটতেছে মুসাফা করলাম এখানে আমি নতুন চারপাশটা দেখার জন্য বের হয়েছি লোকগুলোর সাথে অনেকটা পথ হঁাটার পর একটা চায়ের দোকান চোখে পড়লো। আমার মুখে আচমকা একটা হাসি এসে গেল! মুরুব্বী লোক জিজ্ঞেস করে আপনি কেন হাসতেছেন আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম সাথে সাথে বল্লাম তেমন কিছু না। আমি মনে মনে খুশি হওয়ার কারণ হলো ঐ যে আসার পথে দোকানদারের চায়ের স্বাদের কথা মনে হল।আমি বুঝতে পারলাম দোকানদারের স্ত্রী আমরাপালির মত নিশ্চয়ই এখানেও কেরালার খাচ জামরুল সন্দেশ তিলের বিস্কুট আরো কত কি থাকতে পারে। এসব ভাবতে ভাবতে দোকানের কাছে গিয়ে পেঁৗছালাম সম্মাননা দেখিয়ে সবার জন্য চায়ের অর্ডার করলাম চোখটা চার পাশে ঘুরিয়ে দেখলাম যেমন মনে করেছিলাম তেমন কিছু ই নেই। এ দোকানে আছে রসের মতো পেঁচানো এক জাতীয় মুরালি আর সন্দেশ বাকিগুলো চিনি না। মুরুব্বিরা সকলে মুরালীগুলো কুরকুর করে খাচ্ছে আর ফঁাকে ফঁাকে চায়ের কাপে উহু করে টান দিচ্ছে মনে হচ্ছে অমৃত পান করতেছে! কিন্তু আমি সম্মান রক্ষাতে চা টুকু গলার এপাশ-ওপাশ করেছি। আর একটু দুধ লাগত চিনি লাগত! লিকার করা হয়ে গিয়েছিল।
দোকান্দার বলল তো চিনলাম না সাহেব নতুন আসছে নিশ্চয়ই। আর একমাত্র এনারাই আসে সকালে আমার দোকানে আপনি যাদের এনেছেন। তার একজন কমও না, বেশিও না। আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম তাই নাকি আর হ্যঁা আমি এখানে নতুন গতকালকেই উঠেছি। এই রাস্তাটা যেখানে থেকে শুরু হয়েছে সেখানেই দোতলা
বাড়িটায়। দোকানদার অবাক হয়ে বললেন বড় বাড়িটার তরে চারপাশে ফুল গাছ লাগানো আর প্রত্যেকটা কোনে একটা করে কালো গোলাপ গাছ লাগানো।আমি বললাম সবেমাত্র এসেছিতো ভালো করে খেয়াল করিনি তবে ফুল গাছ তো সব বাড়িতেই থাকে আর কোনায় কোনায় গোলাপ গাছ এভাবে কেন বললেন?তখন পাশের মুরুব্বি লোকরাদোকানদারকে চোখের ইশারা দিল তেমন কিছু না সাহেব। চায়ের পর্ব শেষ করে বয়স্ক লোকদের সাথে বিদায় জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। হঁাটতে হঁাটতে ভাবতেছি, বাড়ির চার কোনায় গোলাপ গাছ লাগানো তাও আবার কালো গোলাপ অমনি বিধান ও সালেহা সামনে পড়ল।তারা দু’জন দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে। একেবারে হঁাপানি রোগীদের মত কি হয়েছে আর তোমাদের চেহারায় এত ভয়ের চিহ্ন কেন? বিধান আর সালেহে বলে আপনি কোথায় হারিয়ে গেলেন আমরা আপনাকে খুঁজতে খুঁজতে এমন ভয়ের চিহ্ন মুখে ফুটে উঠেছে ওদের মধ্য অন্য ভয় কাজ করেছিল সেটা আবার কি? পরক্ষণে ওরা বলে চলেন নাস্তা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে এলাম তাদের সাথে এসে দেখি টেবিল ভর্তি নাস্তা কঁাঠাল পাতার পিঠা পাযউরুি এর সাথে দুধ চা। আমিও তৃপ্তির শহীদ খেয়ে আমার রুমে গেলাম আলমারি খুলে লাগিস বের করলাম কিছু পেন্টার নামিয়ে দেয়ালে টাঙ্গালাম দোকানদারের কথা মনে পড়ল ছাদে গিয়ে দেখি চারপাশে চারটা গোলাপ গাছ লাগানো আছে। ঠিক যেমন ভাবে কোনায় বলেছিল তাও কালো রঙের । মুরুব্বী লোকেরা লুকিয়ে চোখের ইশারা দেওয়া বিধান আর সালেহা অন্য ভয় পাওয়ার যোগ সূত্র কি এই গোলাপ গাছের সাথে যুক্ত আছে? মনে হাজার প্রশ্ন ওকি দিচ্ছে মাত্র একদিন। কি এমন রহস্য লুকিয়ে আছে এই গোলাপে তার শেষটা উদঘাটন করেই ছাড়বো। পুনরায় আবার রুমে গেলাম ড্রইং করার জন্য।পড়ে ভাবলাম সবেতো মাত্র এসেছি আগে দেখি চারপাশটা তারপর বসব। সকল জিনিসপত্র গুলো গুছিয়ে একটা পার্টসে রাখলাম এবং আজ বিকেলে বের হব এক নতুন যাত্রায়। এ যাত্রার উদ্দেশ্যে হবে দুইটি
১. আমার পেইন্টিং আকার জন্য চারপাশে দৃশ্য সুন্দর মতো উপভোগ করা।
২. কালো গোলাপের রহস্য নিয়ে নিজে নিজে চর্চা করা।
দুপুরে খাবার খেয়ে বিছানায় কিছুক্ষন বিশ্রাম নিলাম।ইসলামে আছে দুপুরে খাবার খেয়ে কিছু সময় শুতে হয়।বিশ্রামের নামে কখন যে চোখে ঘুম আসলো বুঝিনি এলার্ম বেজে উঠে তখনই সজাগ হলাম তবে আমি একটু অবাক হয়েছি কারণ আমি তো কোন ঘড়ি রাখিনি।তাহলে এলাম কোথা থেকে আসলো মনে ভয় আসলে একটু তখনই বিধান নিছে বলে সাহেব আপনি উঠেছেন? আপনার জন্য কি চা এনে দিব আমি বিধানের সাথে যখনই ঘড়ির ব্যাপারে বলতে যাব সে বারবার জিজ্ঞেস করতে লালগ সাহেব আপনার জন্য
গরম গরম চা ডাইনিং টেবিলে দিয়ে রেখেছি। চায়ের কথা বললেই আসার পথে আমরপালির কথা মনে পড়ে যায় কারণ তার খাবারগুলো সুস্বাদু ছিল। ফ্রেশ হয়ে আমি চলে গেলাম ডাইনিং টেবিলে চায়ের কাপটায় একটা অসাধারণ নকশা আকঁা।নকশার মধ্য পান পাতার মতো সবুজ তিন রকমের চিহ্নিত চিত্র অংকন করা।তারপর কাপের সাথে ছোট পেয়ালা থেকে তিন পিস বিসকুট খেলাম। কিছুটা আমরােপালির হাতের বানানো স্বাদের মতো।আবার ভাবি এত দূরে আমরাপালি কীভাবে আসবে? আর তার মত ডিজাইন নেই এখানে অন্যরকমের। শুধু স্বাদটুকু কিছু আসে ওর হাতের।তাদের সাথে তো আমার দেখা হওয়া এখন খুব কথা।কিন্তু এই ব্যাপারগুলো মাথায় ঘুরপাক খেলে মনে হয় আমি একজন আর্টিস নই গোয়েন্দাগিরি সদস্য কিংবা অফিসার। তারপর নাস্তা শেষ হতে বিধান সালেহ হাজির। খাওয়ার শেষ হতে না হতেই পেয়ালা, চায়ের কাপ নিয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে পরিষ্কার দিক থেকে তারা খুব সচেতন।ডাইনিং রুম থেকে সোজা বেরিয়ে গেলাম হঁাটার পর থেকে সালেহ বিধান পিছন থেকে সাহেব বলে ডাকতেছে । তাদের হাতে আমার পেইন্টারের জিনিসপত্র।কাছাকাছি এসে দিয়ে বলল আপনি এগুলো আনতে ভুলে গেছেন ডাইনিং রুমে ছিল।আমি কখন এগুলা নিচে নিয়ে আসলাম? কিছুই মনে পড়তেছেনা!মনে হচ্ছে সেসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কারণে সব ভুলে যাচ্ছি।তবুও মনের কোনে একটু প্রশ্ন উকিঁ দেয় আমি এগুলো কীভাবে ভুলে গেলাম? এমন চিন্তাধারা মনের মধ্যে চলমান রইল। হাটতে হঁাটতে একটা নলকূপ পড়লো সামনে অনেকগুলো ছোট বাচ্চা গোসল করতেছে কেউ কেউ খালি আবার কেউ কেউ ছোট পেন্ট পাশে রেখে গোসল করতেছে।ছোটদের এই অনুভূতি দেখে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল তাদের মত আমারও একটা শৈশব ছিল।তাদের মতো আমাদের ও একটা খেলার টিম ছিল। আমাদের দলনেতার নাম ছিল আনজুফ। কত বিকেল করে ঘরে ফিরেছি হিসেব নেই এই দেরি করা নিয়ে অনেক বকুনি খেয়েছি মায়ের।আমরা সপ্তাহে সাত দিন সাত রকমের খেলা খেলতাম।
শনিবারÑএক্কাদোক্কা খেলা।
রবিবারÑহা-ডু-ডু খেলা।
সোমবারÑকানামাছি খেলা।
মঙ্গলবারÑসাতছাড়া ও পুতুল খেলা।
বুধ ও বৃহস্পতিবারÑআকাশের তিনতারা খেলা।
শুক্রবার-সিমার খেলা আর জোলাবাতি খেলা।
কতো আনন্দময় জীবন ছিলো তখনকার সময়ে।
আমার শুভাকাঙ্খীত প্রিয় পাঠক গন আপনারা
নিশ্চয়ই মোটামুটি এ খেলাগুলোর সাথে পরিচিত কারণ সকলেরই এমন শৈশব কেটেছে। আমরা সকলেই এই শৈশবের কথা মনে করে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বেচেঁ থাকি।শুক্রবারের খেলা টার ভিতরে দুইটা খেলার নাম উল্লেখ আছে এক সীমার খেলা দুই জোলা বাতি।
সীমার খেলা:-
সহপাটিরা মিলে ঘর বানানো হয়,ঘর বানানোর পর দুজনেই একপাশ হয় আর এক জোড়া জোড়া করে যেকোন ফলের নাম একেক জনকে দিয়ে দুজনের সাথে ভাগাভাগি হয় হাতে আঙ্গুল দিয়ে এপিঠ ওপিঠ করে একজন কুকুর হয় আর চারজন চার কোনায় দঁাড়া এভাবেই খেলাটি শুরু হয় ।
খেলার শুরুরে একটা কবিতার মতো ছন্দ মিলিয়ে একটা লিরিক্স বলা হয়। লিরিক্সটি হলো;-
বাস পতা নড়েচড়ে,সীমার কথা মনে পড়ে।যদি সীমা জানতো একটা চিঠি লিখতো
এবার আসি জোলা বাতি:Ñ
শুক্রবার মানে স্কুল বন্ধ ছোট ছোট মশারির টুকরো বা খালের পাশে বা ক্ষেতের পাশে ছোট ছোট গর্ত কিংবা পুকুরের রশি দিয়ে থেকে মাছ ধরে বাসায় এনে সবার ঘর থেকে পেঁয়াজ রসুন, তৈল, লবণ,মরিচ,হলুদ, কড়াই,ভাতের পাতিল বিভিন্ন জায়গা থেকে পাতা লাকড়ি কুড়ি এনে গর্ত করে তিনটা ইটের সাহায্যে ধুমায় চোখ লাল করে রান্না করে দুপুরে গোসল করে একসাথে বসে খাওয়ার আনন্দটা সত্যিই স্মৃতি চারণ করে রাখার মত একটি দিন। আমরা প্রতিদিন খেলায় আনজুফের সকল কথা মেনে চলতাম।কারণ ওর চিন্তাধারা খুব সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিন্যাস একদম সুনিপুণ ছিল সে খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারতো।
তবে বড় হয়েও একেক জন একেক জায়গায় চলে গিয়েছি।অনেক দিন হলো আনজুফের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। পুরুনো ঝাপ্স পড়া দেওয়ালে টাঙানো অজস্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্মৃতিতে যখন ডুবে মনের অজান্তেই মুছকি হাসি দিতেছি তখন হঠাৎ করে আমার শরীরে কীসের ছিটে পড়তে লাগলো। আমি দেখলাম বাচ্চাগুলো হাতে করে আমার দিকে পানি দিচ্ছে আমি একটু পিছিয়ে গেলাম সাথের নাট যুক্ত চেয়ারটা নিয়ে বসলাম। যেহেতু এই দৃশ্য দেখে আমার নিজের ছোটবেলার শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল তাহলে অবশ্যই পেইন্টিং করলে কোম্পানিরও অনেক লাভ হবে আর লাভ হলে আমার সুনাম অর্জন হবে। আর
সুনাম অর্জন করতে পারলেইতো আমার প্রমোশন হবে। কেননা সকলেই শৈশবের সময়টা নতুন করে দেখতে চায়। আমি (এ-ফোর) সাইজের একটা কাগজ ক্লিপ দিয়ে নাট যুক্ত চেয়ারে লাগালাম। মাথা বরাবর করে ক্লিপ টাইট দিয়ে দিলাম। এই শরহেরপুর গ্রামে আমার প্রথম দৃশ্য অঁাকার আগে গ্রামের নামটা লিখলাম আর শিরোনাম দিলাম গত হওয়া শৈশব।
চিত্র অঁাকা মাঝপথে সূর্যটা অস্ত যাচ্ছিল কি অপূর্ব দেখাচ্ছিলো যেন বাচ্চাদের সাথে একবারে হেসে হেসে সূর্য তার বেলা ফুরিয়ে নিজ কক্ষে প্রবেশ করতেছে।বেলা ফুরিয়ে গেল বাচ্চারা বাড়ি গিয়ে চলে গেল। আমি এখনো সেখানেই বসে আছি।হালকা হালকা অন্ধকার গ্রামীন দৃশ্য সত্যিই চমৎকার পরিবেশ। ইট পাথরের শহরে সারাক্ষণ বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকে এমন মুহূর্ত অনুভব করার সময় কখনোই পাইনি। তবে এত সুন্দর মুহূর্ত ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করতেছে না। কিন্তু রাত গভীর হওয়ার আগেই ফিরে যেতে হবে আমাকে। নতুন পরিবেশ নতুন স্থান সকলে দু’শ্চিন্তা করবে আমার জন্য। তার সাথে সকালকার মুরুব্বিদের লুকোচুরি খুব চিন্তার বিষয়। সালেহা বিধান আমার জিনিসপত্র খাবার টেবিলে পাওয়া,চারটে কালো গোলাপ গাছ, এগুলো একটা বিহিত করতেই হবে। ফিরে এলাম বাড়ি এসে দেখি একজন বয়স্ক মহিলা কিছু নাস্তা টেবিলের সাজিয়ে দঁাড়িয়ে আছে। গতকাল তো কোনো মেয়েমানুষ বা মহিলা আজ হঠাৎ কোথা থেকে আসলো বিধান কোথায় গেল? আমি সোজা আমার রুমে গেলাম হাতের জিনিসপত্র রেখে ছবিটার স্ক্রিপ্টটা ঘরের একপাশে দেয়ালে আটকালাম।যেহেতু শরহেপুর আমার প্রথম আর্ট তাই এ পেন্টার আমার জন্য খুব স্পেশাল। যদিও বেলা ফুরিয়ে যাওয়ায় ছবিটার পূর্ণাঙ্গ রূপ আমি ফোটাতে পারিনি তাই এটার কাজ আমি আবার ধরে শেষ করব। কারণ শৈশবে আমাদের সবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।সকল কিছু রেখে ফ্রেশ হলাম পোষাক পরিবর্তন করলাম। তারপর নিচে গেলাম।খাবারের টেবিলের পাশে দঁাড়িয়ে আছে কাছে আসতে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলল বাবা খাবার ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে প্রায় পুনরায় গরম করে আনব আবার? আমি বয়সের তারতম্য হিসেব করে আর বলিনি তাছাড়া খাবার এতটাও ঠান্ডা হয়ে যায়নি যে আবার গরম পড়তে হবে।খাবারের মাঝপথে আমার হেচঁকি উঠলো! তিনি পানি এগিয়ে দিয়ে পিঠে ঘসে দিতে লাগলো আর বললো বাবা আপনার বিয়ন গেছে মনে হয়! আর কেউ মনে হয় আপনাকে মনে করতেছে এজন্যই এমন হয়েছে। খাবার শেষ করে যখনই উঠতে যাব তখন বিধান চা নিয়ে চলে আসলো।বল্লো গরম গরম চা খেয়ে নেন সারাদিনের ক্লান্তি চলে যাবে। আর রাতে কি রান্না করবো সাহেব? আমি বললাম তোমাদের খাবারে অনেক স্বাদ যেকোনো একটা রান্না করে নাও। হঠাৎ মনে হলো সে গোলাপ গাছের কথা দৌড়ে চলে ছাদে গেলাম।আর নজর গেল কালো গোলাপ গাছের উপর। মনে মনে ভাবি কি হতে পারে এই চার গোলাপ গাছের রহস্য।
তখনই দেখতে পেলাম খানিকটা দূরে একটা টাওয়ার। আর তার ওপর লাল আলো জ্বলতেছে।সাথে কিছু একটা আছে।দূরের হওয়াতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না।







