শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৭

শীতের দিনে পথের শিশু

সাঈদুর রহমান লিটন
শীতের দিনে পথের শিশু

শীত এলেই রাব্বির কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। রাব্বি থাকে মধুখালীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আশপাশে। তার নিজের বলে কিছু নেই। না ঘর, না বিছানা, না গরম কাপড়। পথই তার ঠিকানা। ভোরবেলা কুয়াশা ভেজা বাতাসে রাব্বির ঘুম ভাঙে।

ঘুম ভাঙে বলা ভুল হবে। ঠাণ্ডা তাকে জাগিয়ে তোলে। শরীর কঁাপে। দঁাত ঠকঠক করে। গায়ে একটা পুরোনো, ছেঁড়া জামা। হাড়গুলো স্পষ্ট দেখা যায়। শীতে সেগুলো যেন আরও শক্ত হয়ে বেঁকে গেছে। রাব্বির বাবা অনেক আগেই মরে গেছেন। মা নতুন কারো হাত ধরে দূরে চলে গেছেন। ফিরে তাকায়নি একবারও। রাব্বি জানে না, মা এখন কেমন আছে। মাও জানে না, রাব্বি বেঁচে আছে কি না মরে গেছে। দিনের বেলা রাব্বি রাস্তায় ঘোরে। মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। হাত বাড়ায় না। শুধু তাকিয়ে থাকে। কেউ বিরক্ত হয়। কেউ চোখ ফিরিয়ে নেয়। কেউ দেখে না দেখার ভান করে।

ভদ্র পাড়ার মানুষগুলো তাড়াতাড়ি হেঁটে চলে যায়। নাক দিয়ে সর্দি ঝরে। গায়ে জ্বর। মাথা ঝিমঝিম করে। ক্ষুধায় পেট জ্বলে। তবু রাব্বি কঁাদে না। কঁাদতে কঁাদতে সে ক্লান্ত হয়ে গেছে। রাত হলে কষ্ট আরও বাড়ে। কখনো দোকানের সামনে, কখনো অন্যের বারান্দায়, কখনো খোলা আকাশের নিচে শুয়ে থাকে। শুয়ে থাকলেও বাতাস ঢুকে পড়ে বুকের ভেতর। শীত তার শরীর কেটে নেয়। ঘুম আসে না। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। মায়ের কথা মনে পড়ে। চোখ ভিজে যায়। একদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় কয়েকজন শিশু তাকে দেখে থেমে যায়। রাব্বি তখন কঁাপছে। একজন ফিসফিস করে বলে, ছেলেটা কি বেঁচে আছে? খবরটা একজন শিক্ষকের কানে যায়। তিনি এগিয়ে আসেন। রাব্বির মাথায় হাত রাখেন। কিছু গরম কাপড় জোগাড় করা হয়। একটা সোয়েটার। একটা পুরোনো কম্বল। কাপড়গুলো হাতে পেয়ে রাব্বির হাত কেঁপে ওঠে। সে কিছু বলতে পারে না। চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে। এটাই কি ভালোবাসা? সেই রাতে কম্বল জড়িয়ে রাব্বি ঘুমায়। অনেক দিন পর। কষ্ট এখনো আছে।

তবু তার শরীর একটু উষ্ণ আলোয় জ্বলে ওঠে।

ছবি-২৩

ধারাবাহিক উপন্যাস-২৮

নিকুঞ্জ নিকেতন

রাজীব কুমার দাস

(পূর্ব প্রকাশের পর)

রেস্তোরঁা থেকে বের হয়ে আমরা যথারীতি হঁাটতে হঁাটতে বাজার পর্যন্ত এসেছি। রাত দশটা হতে এখনো অনেকটা সময় বাকি আছে। কটেজ বেশকিছু দূরে আর খাওয়ার পর শরীর এতটা ওজন মনে হচ্ছে যে কোনোভাবেই হেঁটে এতদূর যেতে পারব না। বাজারে এসে বসে এককাপ চা নিতেই আলস্য ভর করল। চায়ের পর্ব শেষ করে ভ্যানগাড়িতে চেপে চলে এলাম কটেজের দিকে। রুমে এখন না আরও পরে যাব তাই সকলের সিদ্ধান্তক্রমে আমরা চলে আসলাম বীচের দিকে। কক্সবাজারের মতো এখানকার বীচে তেমন আলোকসজ্জা নেই তবে একটা মিল আছে এখানেও বীচ সিটগুলো বসানো আছে। আমরা তিনটে সিট ভাড়া করে এগুলো একসাথ করে রিল্যাক্সে বসে পড়ি। পিটার তার ট্রাভলিং ব্যাগ থেকে অবশেষে বোতলটা বের করল।

‘আপনারা যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি কয়েক প্যাগ নিতে পারি।’

‘এটা কোথায় পেলে, কখন নিয়েছ পিটার?’

‘গতকালই নিয়েছিলাম কক্সবাজার থেকে।’

‘আরে বল কী? তুমি জান না অ্যালকোহল পরিবহন নিষেধ। গাড়িতে পুলিশ চেকিং এ যদি ধরা খেতে আমাদের মান-সম্মান সবই যেত।’

‘তা ঠিক তবে এটাও ভেবেছি এই জীবনটা হয়তো আর দ্বিতীয়বার আসবে না। বঁাচবই বা কয় দিন। অভ্যেস যেহেতু আছে তাতে মন্দ কী? তা আপনাদের অনুমতি হলে প্যাগ বানাতে পারি।’

‘দু প্যাগের বেশি না। বেশি হলে অসুস্থ্য হয়ে পড়তে পার তখন ঘুরেফিরে মজা পাবে না।’

‘অনিমেষ সঙ্গ দিবে নাকি?

‘অভ্যেস নেই তবে একটা চেখে দেখা যায়।’

বীচে আমরা বসে আছি অনিমেষ আর পিটার আমাদের কাছ থেকে সরে গিয়ে বীচের বালিতে বসে পড়ল। গত পরশু চন্দ্রিমা রজনী ছিল তাই চঁাদের জোছনা এখনো মলিন হয়নি। চঁাদনী রাতে বীচের অনেকাংশে স্পষ্ট দেখা যায়। কুয়াশা তেমন নেই আর নেই ঠান্ডাও। অনিমেষ এক প্যাগ নিয়েই চুপ হয়ে গেল আর প্যাকেট থেকে সিগারেট নিয়ে জ্বালিয়ে নিল। পিটার বড় করে দু প্যাগ মেরে নেয়। অল্প সময়ের মধ্যে অনিমেষ এসে আমাদের পাশে বসে পড়ে হেলানো অবস্থায়। সারোয়ারসহ আমরা বসে আড্ডা দিচ্ছি হঠাৎ দেখি সারোয়ার আমাকে নাড়া দিয়ে বলেÑ

‘দাদা কিছু একটা হয়েছে নইলে পিটার এভাবে বসে আছে কেন?’

‘তাইতো! চল আমরা গিয়ে দেখে আসি।’

আমরা সকলে উঠে পিটারের দিকে আগাই আর কাছে যেতেই দেখি পিটার অঝোরে কঁাদছে। এটা তার মাতলামি নাকি স্বাভাবিকতা বুঝে উঠতে পারছি না। সারোয়ার অনিমেষ তাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে কিন্তু হচ্ছে না।

‘পিটার-আসার আগে আমি সকলকে বলেছিলাম কোনো পিছুটান রাখবে না। কোনো দুঃখ নেই, অভিমান নেই যা থাকবে তা আমাদের নিজের জন্য বঁাচা, কথাগুলো কী ভুলে গেছ?’

‘আমাকে কেন নতুন করে বঁাচতে শিখাচ্ছেন দাদা যেখানে আমার আগের জীবনটাই অপেক্ষা করছে। ভাবতে পারিনি কভু জীবনের শেষটা এত বিশ্রিভাবে কাটাব। জীবন নাকি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ কিন্তু সে জীবনই আমার অভিশাপে পরিণত হয়েছে।’

‘পিটার আমাদের সকলের জীবনেই কিছু না কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা আছে যার বোঝাটা না চাইতেও আমরা বহন করি।’

‘তুমি কী মনে কর পিটার জীবনে শুধু তোমারই দুঃখ কষ্ট আছে আর কারো নেই। আমাদের সকলেরই আছে তাই বলে কী বঁাচতে চাই না আমরা।’

‘আমার আর তোমার জীবনধারা এক না সারোয়ার। পরে দুঃখ দিলে মেনে নেওয়া যায় কিন্তু আপন মানুষের দেওয়া কষ্টগুলো মেনে নেওয়া যায় না। তোমার মতো জীবনটা গোছানো হলে আফসোস করতাম না। হেঁসে খেলে জীবনটা পার করতাম।’

‘তোমায় কে বলেছে আমার জীবন গোছান। বাইরের চাকচিক্য দেখে কী মনে হয় আমি সুখি? আমারও বেদনা আছে বেশ কিছু। তোমাদের কখনো জানতে দেইনি, বুঝতে দেইনি। প্রতিনিয়ত আমায় সেগুলো খুঁড়ে খুঁড়ে খায় জান। এসো আমার সাথে সিটে গিয়ে বসি। খুব অল্প বয়সে আব্বা-আম্মা একসাথে এক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আব্বার মৃত্যুর পূর্বে তখন আব্বা ছাড়া আমরা কেহই উপার্জন করি না আর আমি পরিবারের বড় ছেলে। আমার ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়নি তখনো। পরীক্ষা চলাকালীন এই দুর্ঘটনায় এত জোরে হেঁাচট খেয়েছি যে উঠে দঁাড়াতে পারছি না কোনোভাবেই। আমার মাথায় পুরো সংসারের দায়িত্ব এবং দায়িত্ব ছোট ভাই-বোনদেরও। আব্বা-আম্মার মৃত্যুর দুদিন পর ম্যাথ পরীক্ষা ছিল আর পরীক্ষার হলে যখন যাই তখন মাথায় ম্যাথের ইকুয়েশন নয় ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা সামনে ভেসে আসে। আগামী দিনের বাজার টাকা ছাড়া কীভাবে করব তাই ভেবে উঠতে পারছিলাম না। আমরা দু-চারদিন শুকনো ভাত খেয়ে কাটিয়েছিলাম বুঝলে। তারপর একদিন পাড়ার এক মুরব্বির সাহায্যে পাশের ফ্যাক্টরিতে লেবারদের সর্দার হিসেবে দায়িত্ব পাই। আমার অধীনে থাকবে বেশ কিছু শ্রমিক। সেবারের পরীক্ষাটা আমার ভালো হয়নি, ফেল করি। জীবনের প্রথম ফেল মানে প্রথম ব্যর্থতা। বিষয়টা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। আশপাশের লোকজন কিছু সহানুভূতি দেখালেও অনেকেই আমাদের তাড়িয়ে দিতে চায় সম্পত্তি দখলের লোভে। মাথা গেঁাজার ঠঁাই ছিল বলেই রক্ষে নতুবা বাসাভাড়া দিয়ে ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচ চালানো দায় হয়ে পড়ত। কলেজ জীবন থেকেই আমি বেশ চটপটে আর মিশুক স্বভাবের ছিলাম। মানুষের সাথে মিশতে পারা আড্ডাবাজি এগুলো আমার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ ছিল। হুটহাট এত অভাব, অসংগতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। ভালো প্রস্তুতি নিয়েও ডিগ্রি পাশ করতে পারলাম না আর আগামীতে যে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করব সেই সামর্থ ও সুযোগ নেই। লেবারদের মাঝে থেকে সারাদিন অশালিন কথাবার্তা ও তাদের আচরণ আমায় পাগল করে তুলছিল। ওদের সাথে না মিশে আড়াল থাকলেও সমস্যা তাদের ইগোতে লাগে আবার আমার আচরণও তাদের স্টেটাসে যায় না ওরা এটাকে কটুক্তি করে। বিষয়গুলো কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। আমার আচরণ পাগলের মতো হয়ে আছে আর একটা সাধারণ মানুষ হয়ে ভিন্ন ভিন্ন বেঁচে থাকাও হচ্ছে না। ভাবছি নিজের বা পরিবারের জন্য আমি কিছুই করতে পারছি না। জীবনের যুদ্ধটায় যেন পুরোপুরি হেরে গেছি তাহলে বেঁচে থেকে কী লাভ। তারপর একদিন রাতের বেলা ঘরের কাপড় শুকানোর দঁড়িটা ফ্যানে ঝুলিয়েছি তারপর দীর্ঘনিঃশ্বাস নিয়ে গলায় পঁ্যাচানোর চেষ্টা করলাম। ইচ্ছে করে মরতে গেলে অনেক সাহস লাগে বুঝলে। আমার সেই সাহস সঞ্চার করেছিলাম সারাদিনে কারণ প্ল্যানিংটা আগেই ছিল। গলায় দড়ি টাঙ্গিয়ে টেবিলটা পায়ের নিচ থেকে সরানোর আগেই পরিবারের সকলের মুখগুলো ভেসে আসে চোখের সামনে। পাশে থেকে কেউ যেন ইশারা দিয়ে বারণ করছে অথচ আমি তাকিয়ে দেখি কেউ নেই পুরো ঘর অন্ধকার। মনের মধ্যে একটা আওয়াজ আসছিলÑআমি কী কাপুরুষ যে জীবন যুদ্ধে পরাজয় মেনে নিব। যুদ্ধে হেরে যাওয়াও বীরত্বের কিন্তু পরাজয় মেনে নেওয়া হয় কাপুরুষত্ব। পাশের রুমে গিয়ে ভাই-বোনদের চেহারা দেখে মরা আর হয়নি। না চাইতেও লেবারদের মাঝে কাজ করতে হচ্ছে কারণ এতে আমার সংসার চলে। ভাই-বোনদের পড়াশোনা করাতে অর্থের প্রয়োজন তাই টিউশনে মেতে উঠলাম। ওদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকি টিউশনের টাকা দিয়ে। কাজ থেকে ফিরে রাত নয়টা পর্যন্ত টিউশন করতাম কিন্তু শিফট ডিউটি করার ফলে টিউশনগুলো চালিয়ে যেতে বেশ কষ্ট হতো। পরবতর্ী বছর আবার ডিগ্রি ফাইনাল দেই। সারাদিন কাজ করে লেখাপড়ায় মনযোগ দেওয়া বেশ কষ্টের ছিল তাই কোনোরকম সেকেন্ড ক্লাসে পাশ করে যাই। এভাবে লেবারদের ইনচার্জ হয়ে কাজ করাটা চলতে থাকে বেশ কিছু বছর। তারপর সৌভাগ্যক্রমে সাকুর্লার হওয়ায় এই সরকারি চাকরিটা ম্যানেজ করি। নিজের ভবিষ্যতের কথা কখনো ভাবিনি অথচ পরিবারের সিংহভাগ উপার্জন আমার পরিশ্রমে। বোনদের বিয়ে দেই ভাইটা মাস্টার্স শেষ করে বি.সি.এস সিলেকশন হয়ে ক্যাডার সার্ভিস করে এখন। তারপর একদিন পরিবারে দেখা দেয় অসংগতি। ভাই বোনদের আমাকে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। আমি একজন সাধারণ কর্মচারী আর উনারা বড় পদের অফিসার। একই ছাদের নিচে থাকাটাও ওদের জন্য মুশকিল ছিল কারণ বিসিএস ক্যাডারের ভাই একজন সাধারণ ক্লার্ক। অবশেষে একদিন কথাগুলো বলে ফেলে তারপর আমি বলি এই ক্লার্কের উপার্জন দিয়েই আজ তোমরা এখানে। আমায় কী বলে জান! রিজিকের মালিক আল্লাহ তুমি আমাদের জন্য কী করেছ? আমাদের মেধা ছিল বলেই আমরা আজ এখানে তোমার সে মেধা ও যোগ্যতা নেই বলে তুমি একজন ক্লার্ক। কথাটা শোনার পর আমার হাত-পা অবস হয়ে আসে। অবশ্যই রিজিকের মালিক আল্লাহ তাই বলে কী আমার তাদের প্রতি কর্তব্যকর্ম কিছুই ছিল না! ওদের গড়ে তোলার জন্য জীবনে যা কিছু বিসর্জন দিয়েছি সবই বৃথা।

[পরের পর্ব আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে]

ছবি-২১

আশরাফ চঞ্চল

কবিতা সুন্দরীর কাছে মিনতি

তোমাকে ছুঁতে চেয়েছি বারবার

পরিভ্রমণে প্রদক্ষিণ করতে চেয়েছি বর্তুল নিতম্ব সুডৌল স্তন আলতা রঙের ঠেঁাট মেদবহুল নাভি ও উরুভঁাজের অনিন্দ্যসুন্দর!

সেই বয়ঃসন্ধি থেকে তোমাকে দেখার প্রতীক্ষিত লোভ কচুরিপানার মতো বাড়তে বাড়তে পুরো জলাশয় ছড়িয়ে গেছে

তোমাকে ছুঁয়ার আকাঙ্ক্ষায় ডিজিটাল মোমের মতো গলতে গলতে মিশে যাচ্ছি সন্ধ্যার নির্মল বাতাসে বাতাসে

দেহমন্দিরের চারদেয়ালে আমার কামার্ত ঠেঁাট দিয়ে এঁকেই যাচ্ছি ক্ষুধার্ত যৌবনের অপেরা চিত্র!

প্লিজ! এবার ব্যারিকেড তুলে নাও

যেভাবে ৩৬ জুলাই দেশপ্রেমে ব্যারিকেড তুলে নিয়েছিল দায়িত্বরত দাঙ্গা পুলিশ আনসার-ভিডিপি সেনা ও বিজিবি!

তৃষ্ণায় কাতরাতে কাতরাতে চৌচির মাঠের মতো ফেটে যাচ্ছি

চৈত্রের দুপুরে ঈশানকোণ থেকে ভেসে এসো একটুকরো দমকা বাতাসে একখানা মেঘখণ্ড হয়ে

বৃষ্টির সংস্রবে সেঁাদামাখা ঘ্রাণ হয়ে ওগো প্রকৃতির সুষমাময়ী অদেখা কবিতা সুন্দরী!

ছবি-২১

মুহাম্মদ কাউছার আলম রবি

মনের জানালায় তুমি

উৎসর্গ : প্রিয় মানবী মানসী অনন্যাকে।

মনের জানালায় তুমি,

তোমার নামটা গোপনে গোপনে

হৃদয়ের দেওয়ালে লিখে রাখি প্রতিদিন।

ভোরের আলো মেঘ ছুঁয়ে উঠলে,

সবচেয়ে আগে তোমার মুখটাই ভেসে ওঠে,

মনে হয়, পৃথিবীটা নতুন করে সাজল

শুধু তোমাকে দিয়ে, তোমার জন্যে, তোমার মতো করে।

জানালার কঁাচে হাত রাখলে

তোমার উষ্ণ স্পর্শের মায়া পাই,

শীতের কুয়াশা ভেদ করে

তোমার নিঃশ্বাসের মতো নরম বাতাস

আমার গায়ে এসে লাগে,

তখন বুঝিÑ

ভালোবাসা সত্যিই দৃশ্য নয়, অনুভব।

তোমার চোখ দুটো রাতের আকাশে থমকে থাকা

দুটি দীপ্ত তারাÑ

যেখানে আমি হারাই, ডুবে যাই,

নিজেকে খুঁজে পাই আবার।

তোমার হাসি যেন নদীর কলতান,

যার স্রোতে ভেসে যেতে ইচ্ছে করে

জীবনের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত।

তুমি এলে মন সাজে উৎসবের মতোÑ

রঙের খেলায়, আলোর মালায়,

গোপন গানের অস্পষ্ট সুরে।

তোমার একটুখানি ছেঁায়া,

একটুকু ডাক,

একবার পাশে বসা,

সবই আমাকে করে তোলেÑ

সবচেয়ে ধনী, সবচেয়ে পূর্ণ, সবচেয়ে সুখী।

মনের জানালায় তুমিÑ

তুমি আছো আলো হয়ে,

আছো নিঃশব্দ মুগ্ধতায়,

আছো প্রেমের লুকানো গল্প হয়ে।

আমি শুধু চাইÑ

জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে

পরের পৃষ্ঠায়, পরের বাক্যে

তুমি থাকবে, তুমি থাকবে,

অবিচল একটি ছায়া হয়ে নয়Ñ

বরং রোদ্দুর হয়ে,

আমার অনন্ত কবিতার শেষ না হওয়া ছন্দ হয়ে।

ছবি-২১

এম আর এম শোভন

আকাশÑ

হে আকাশ তুমি কি জানো,

মানুষ কত ঋণে জন্মায় তোমার কাছে?

স্বপ্ন ধার নেয়,

হে আকাশ আশা রাখে তোমার কাছে আমানত,

ফিরিয়ে দিতে ভুলে যায় কৃতজ্ঞতা।

আমার জীবনের স্বপ্নের অগোচরে

তোমার নীলে লুকিয়ে থাকে

অগণিত না-পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস,

মেঘেরা আসে যায়Ñ

যেমন আসে যায় মানুষ,

কিন্তু তুমি থেকে যাও

নির্লিপ্ত, বিস্তৃত।

রোদে তুমি কঠোর শিক্ষক,

বৃষ্টিতে নরম অভিভাবক,

রাতে তারার আলো জ্বেলে

শিখিয়ে দাওÑ

অন্ধকার মানেই শেষ নয়।

আমরা মাটির মানুষ,

তবু চোখ তুলে তাকাই তোমার দিকে,

কারণ আকাশই একমাত্র ঠিকানা

যেখানে পেঁৗছাতে

কোনো সীমানা লাগে না।

তোমার সীমানায় উৎসর্গ করলাম আমার স্বপ্নগুলো।

ছবি-২১

দেলওয়ার মফিজ

ধীরে বহে মেঘনা

ধীরে বহে মেঘনা নদী

দুই তীরে তার গ্রাম

দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছে

মেঘনা নদীর নাম।

রূপালি স্রোত বুকে ধরে

বইছে এঁকে-বেঁকে

জলের নূপুর বাজিয়ে মধুর

বইছে জন্ম থেকে।

দীর্ঘ তার যাত্রাপথ

বিশাল তার ধারা

দুই তীরে তার কীর্তি কতো

কালের স্রোতে গড়া।

মেঘনা পাড়ে বসত-বাটি

সুখে বঁাধা নীড়

বালুচরে চখাচখি

নানান পাখির ভিড়।

বক-বালিহঁাস শঙ্খচিল

রঙিন ডানায় ওড়ে

জলতরঙ্গের নানা ছবি

ভাসে বুকের পরে।

মেঘনা নদীর মিষ্টি জল

শীতল করে প্রাণ

বউ-ঝিয়ারি কৃষাণ মজুর

সুখে করে স্নান।

রুই কাতলা বোয়াল চিতল

নানা জাতের মাছ

উজান-ভাটির স্রোতের ধারায়

ছুটছে বারোমাস।

ডিঙি নৌকায় ভেসে ভেসে

ইলিশ ধরে জেলে

আনন্দে প্রাণ ওঠে নেচে

রূপালি ইলিশ পেলে।

কতো কবির ছন্দগঁাথায়

মেঘনা আছে ছেয়ে

গ্রাম্য-কিশোর সুখে ভাসে

তালের নৌকা বেয়ে।

রঙিন পালের নৌকা কতো

ভাসতো মেঘনা বুকে

হারিয়ে গেছে সেসব ছবি

কালের ধূসরলোকে।

মেঘনা নদীর তীরে-তরঙ্গে

নেইকো শোভার শেষ

নীল আকাশের ছায়াতলে

দেখতে লাগে বেশ।

আকাশগাঙে ঘনায় যখন

মেঘের ঘনঘটা

ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি ঝরে

ছড়ায় রূপের ছটা।

জোর বাতাসে দুরন্ত ঢেউ

নাচে ফণা তুলে

মাঝি-মাল্লা সামাল সামাল

পানসি-তরী দোলে।

সূর্যডোবা দৃশ্য শোভা

কাড়ে সবার মন

ঢেউয়ের বুকে ছড়িয়ে পড়ে

লাল সুরুজের রং।

নদী-নিসর্গের অবদানের

নেইকো তুলনা

দূষণ-দখল মুক্ত থাকুক

সব-নদী আর মেঘনা।

ছবি-২১

এস ডি সুব্রত

শীত উৎসব ভাবভক্তি

হিম হাওয়া নিয়ে আসে উত্তরে শীত

কাকডাকা ভোরে ঘন কুয়াশা

রোদমাখা সকালে মৃদু উষ্ণ অনুভব

মাঠে মাঠে নবান্নের রেশ

সোনাবরণ ধানের মৌ মৌ গন্ধ

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মোড়ে মোড়ে

গুড় নারকেলের গরম ভাপা পিঠা,

পরিযায়ী পাখির নিত্য আনাগোনা

খেজুর রসের পিঠা পায়েস

বাংলার ঐতিহ্যের পৌষ পার্বণ।

শীতে জমে উঠে বাউল গানের আসর

গ্রামে শহরে ওয়াজ মাহফিল কীর্তন

শীত উৎসব আয়োজনের সাথে পাল্লা দিয়ে

বেড়ে যায় ভাবভক্তি বেশ।

ছবি-২১

মো. হানজালা দিপু

প্রেমের প্রদর্শনী

তুমি আমার মনকুটিরের চঁাদ,

আমি জ্যোসনা মাখাই গায়,

তুমি আমার স্পর্শকাতর অনুভূতি,

আমি সুখী তোমাকে কল্পনায়,

তুমি সুখের এক কোটি বছর রাত,

আমার প্রেমের সুপ্রভাত৷

আমি তৃষ্ণার্তকাতর প্রেমিক,

তুমি শুধু আমার হও করি মোনাজাত।

আমি অবাক চিত্রকর,

কল্পনায় বঁাধি তোমার সাথে ঘর।

তোমার কাজল রাঙা চোখ,

আমার সুখের কারণ হোক।

তোমার ঝুমকা কানের দুল,

আমি তোমার প্রিয় ফুল,

তুমি বেঁধে নিও তা খোপায়,

আমার প্রিয় তোমার রেশমি কালো চুল৷

তোমার অবাক চাহনি,

আমার প্রেমের প্রদর্শনী।

আমার ভালো লাগে তোমার হাসি,

যেনো সুখের জলরাশি।

তুমি বৃষ্টির ফেঁাটা হও যদি,

আমি মাটি হবো তবে,

তুমি লুটালে আমার বুকে,

আমি তৃপ্ত সেই সুখে।

ছবি-২১

মাহমুদ হাসান সজীব

নয়নের ভাষা

কাজল-কালো অঁাখির তারায়

জমে আছে না বলা গান,

শান্ত দিঘির গভীর জলে

ডুবে থাকে নীরব টান।

ঠেঁাটের কোণে আলতো হাসি

ছড়িয়ে পড়ে নয়নজুড়ে,

অচেনা এক মায়ার ছেঁায়ায়

মনটা যেন যায় ভরে।

শব্দ ছাড়াও কথা বলে

ও দুটি চোখের নীরব ভাষা,

সরলতার আবরণে

লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা।

সেই চাহনিতে থেমে যায়

পথিক মনের সব তাড়া,

ও চোখ শুধু অঁাকে হৃদয়ে

অব্যক্ত ব্যথা আর সাধা।

ছবি-২১

মুহাম্মদ শাহিন

ছায়া

ধীরে ধীরে ছায়া ছড়িয়ে যায়,

নীরবতার ফঁাকে মিলিয়ে যায় স্পর্শ।

কোনো শব্দই আজ পথ খুঁজে পায় না,

তুমিÑএক নিষিদ্ধ পৃষ্ঠা, যেটা খুলতে পারি না।

আমি ভুলি, তুমি ভুলো না;

এক সময় আমরা একই রঙে অঁাকা ছিলাম।

শেকলের আঘাত লেগেছে কখনো,

তবু ভাঙেনি, শুধু গোপন চোখে পড়ে।

রাতভর নিঃশ্বাসে গুঞ্জন,

কতবার ভেবেছি হয়তো হারিয়ে যাবে সব,

কিন্তু অদৃশ্য কিছু অঁাকড়ে ধরে রাখে,

যা চাও, তার থেকেও গভীর।

মানুষ যা অঁাকড়ে ধরে,

সেটিই হয় সবচেয়ে অদৃশ্য।

আর আমরাÑ

নীরবতার আড়ালে একে অপরের ছায়ায়,

ধীরে ধীরে বেঁচে থাকি।

ছবি-২১

আসাদুজ্জামান খান মুকুল

নির্বাক শহর

আকাশটা আজ যেন মনমরা

ফ্যাকাশে আর কুয়াশায় ভেজা একমুঠো বিষাদ।

ভোরের হাওয়াটা আসলে হাওয়া নয় যেন-

অদৃশ্য নখের মতো বিঁধে যাচ্ছে পঁাজরের ঠিক মাঝখানে।

রাস্তার মোড়ে ওই কুণ্ডলী পাকানো লোকটা কি মানুষ?

নাকি এক দলা পরিত্যক্ত আবর্জনা?

নিভে যাওয়া উনুনের পাশে একটা শিশুও ওম খেঁাজে,

আধপোড়া কাঠে কি আর ক্ষুধা মেটে?

ওদিকের অট্টালিকায় উৎসবের রোশনাই,

বড় বেশি ঝকঝকে।

অথচ এই দেয়ালটার ঠিক ওপারেই?

এক টুকরো উষ্ণতার জন্য বিনিদ্র রাত জাগে

কোনো এক হার না মানা প্রাণ।

পেটের ভেতর শীতের কামড় যখন তীব্র হয়,

তখন পকেটভর্তি টাকা স্রেফ রঙমাখানো কিছু কাগজ।

হাহাকার শোনার সময় কার আছে এই পাথরের শহরে?

সভ্যতা আজ বড় নিষ্ঠুর,

এক ঘুমন্ত পাহারাদার।

ছবি-২১

জি. এম. শাহ্আলম

মুক্তির আশা

মুক্তির আশায় নেমে রাস্তায় আজ,

শিকল ভাঙার গর্জনে কঁাপে সমাজ।

শৃঙ্খল ভাঙার শপথে দৃপ্ত পা, ভয়কে হার মানায় অদম্য আশা।

রক্তে লেখা ইতিহাসের পাতা, ডাকে আজ স্বাধীনতার প্রভাতা।

নীরব আর নয়Ñগর্জে উঠুক কণ্ঠ,

অন্যায়ের বুকে হানুক প্রতিবাদী দন্ত।

ঝড়ের মতো ছুটে আসে প্রতিবাদ,

ভাঙে মিথ্যা, ভাঙে জুলুমের ফঁাদ। একটি স্বপ্নÑনির্ভীক, অটল,

মুক্তির আলোয় হবে জীবন সফল।

ছবি-২১

ইমরান খান রাজ

নতুন শপথ

নতুন বছর নতুন করে

দিচ্ছে আবার ডাক,

অতীত স্মৃতি ভুলে গিয়ে

হও এবার সজাগ।

আগের যত ভুল ছিল

শুদ্ধ করে নাও,

দেশের জন্য সবার আগে

যাও এগিয়ে যাও।

নতুন আলোর নতুন

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়