প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:০২
সংগীতগুরু স্বপন সেনগুপ্তের প্রস্থান
সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া

চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ, সংগীতগুরু এবং চাঁদপুর সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ স্বপন সেনগুপ্ত (৭৪) আর বেঁচে নেই। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে ঢাকার মিরপুরস্থ ডেলটা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও চাঁদপুরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকায় তার ছেলের বাসায় থাকাকালীন তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাঁকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার থেকে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে ছিলেন।
স্বপন সেনগুপ্ত তাঁর সুদীর্ঘ জীবনে প্রায় ৫৩ বছর ধরে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 'চাঁদপুর সংগীত নিকেতনে' অধ্যক্ষের গুরুদায়িত্ব পালন করে এসেছেন, যা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সাল থেকে। তাঁর হাতেই বহু প্রতিভাবান শিল্পী সংগীত জগতে পরিচিতি লাভ করেছেন।
চাঁদপুর শহরের কদমতলা নিবাসী এই গুণী ব্যক্তিত্বের পিতার নাম ছিল মৃত রসিক রঞ্জন সেনগুপ্ত এবং মাতার নাম ছিল বরুনা বালা সেনগুপ্ত। তিনি কণ্ঠশিল্পী মিরা সেনগুপ্তের স্বামী। তাঁদের দু ছেলে রয়েছে। বড়ো ছেলে ডা. কৌসিক সেনগুপ্ত এবং ছোট ছেলে কল্লোল সেনগুপ্ত, যিনি নিটল টাটা গ্রুপে কর্মরত।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে তাঁর মরদেহ চাঁদপুরের কদমতলায় নিজ বাসভবনে আনা হবে। এরপর মরদেহ কোড়ালিয়া সংগীত নিকেতন প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। সবশেষে রাত ১২টায় চাঁদপুর মহাশ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
স্বপন সেনগুপ্তের মৃত্যুতে চাঁদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, চাঁদপুর সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ স্বপন সেনগুপ্তের মহাপ্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর জীবনব্যাপী সংগীত সাধনা এবং প্রায় ৫৩ বছর ধরে শিক্ষকতার মাধ্যমে অসংখ্য শিল্পী সৃষ্টি করার কাজটি তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। তাঁর এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।








