সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২১

কোচিং ও নোট-গাইডের বাস্তবতা!

মাছুম বিল্লাহ
কোচিং ও নোট-গাইডের বাস্তবতা!

১৭ এপ্রিল, ২০২৬। দিনাজপুর অঞ্চলের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রসচিবদের সাথে মতবিনিময়কালে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ধরুন আমি কোচিং সেন্টার বন্ধ করার আইন করে দিলাম। কিন্তু আপনারা যদি ঠিক করে না পড়ান তখন? তখন তো অভিভাবকরা আমাকে ধরবে। আপনারাই পারেন কোচিং বন্ধ করতে। আপনারা পড়ানোর মান বাড়ান।’

এই ক’টি বাক্যের মধ্যে অনেক কিছু লুকিয়ে আছে যেগুলো অত্যন্ত বাস্তব! অনেকে মনে করেন সরকার আইন করে দিলেই দেশের কোচিং ও নোট-গাইড বন্ধ হয়ে যাবে। কিছু শিক্ষাবিদ শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথম কথাই বলেন কোচিং আর নোট গাইড বন্ধ করা নিয়ে। তাদের উত্তরও মন্ত্রী মহোদয় দিয়ে দিয়েছেন। আমি যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে এসেছি (ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ক্যাডেট কলেজ, রাজউক কলেজ) সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তথাকথিত নোট-গাইড না পড়লেও এবং কোচিং না করলেও সেরা ফল করেছে এবং করবে। কিন্তু আমি তারপরেও কোনদিন এভাবে বলিনি যে, নোট-গাইড বন্ধ করে দিলেই শিক্ষার মান আকাশে উঠে যাবে। নিজের আগ্রহ, ব্র্যাক শিক্ষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা ও বর্তমানে সংগঠন পরিচালনার কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতে হয় এবং হচ্ছে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা, মত বিনিময় করা এবং বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্কশপ পরিচালনা করার কারণে দেখলাম বাস্তব আর তথাকথিত আলোচনার মধ্যে অনেক তফাৎ!

নতুন শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যের সব পাঠ্যবই নির্দিষ্ট সময়ের কয়েকমাস পরেও শিক্ষার্থীদের হাতে এবারও তুলে দেয়া যায়নি। কিন্তু নোট ও গাইড বই ঠিকভাবেই ছাপা হয়েছে। যদিও বিগত আওয়ামী লীগ আমল থেকে নোট-গাইড বইয়ের মালিকরা সহায়ক বইয়ের মোড়কে এসব নিষিদ্ধ বই প্রকাশ ও বিক্রি করে আসছেন। ‘এনসিটিবিতে কর্মরত অধিকাংশই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের শিক্ষক। তাদের একটা অংশ বিভিন্ন কলেজে চাকরিকালীন সময়ে নোট-গাইড কোম্পানির কাছ থেকে আর্থিকসহ নানা সুবিধা নিয়ে থাকেন। বদলি হয়ে এনসিটিবিতে এলে এসব শিক্ষকই প্রেস পরিদর্শনের দায়িত্ব পান। তাদের বদলির পেছনে মাফিয়া নোট-গাইড কোম্পানির মালিকদের যোগসূত্র থাকে।’ মাস খানেক আগে এমন একটি সংবাদ ছেপেছে শিক্ষার একমাত্র পত্রিকা ‘আমাদের বার্তা‘। এটিও একটি বাস্তব চিত্র!

শিক্ষার্থীরা বাজারের নোট ও গাইড বই পড়ে কেনো? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন চার দিন আগে এক আত্মীয়ের বাসায় যাই, তার মেধাবী সন্তান চিন্তিত যে, ইংরেজি ভার্সনের রসায়নের গাইড বই তখনও বাজারে পাওয়া যাচ্ছিলো না, বাংলা ভার্সনেরটা পাওয়া যাচ্ছে। কথায় কথায় প্রশ্ন এলো গাইড কেনো পড়তে হবে, তারা তো ব্রিলিয়্যান্ট শিক্ষার্থী। উত্তর হলো ওরা তো শুধু গাইড বই পড়ে না, কয়েক ধরনের বই পড়ে, নিজের মতো করে লেখে। গাইড থেকে ধারণা নেয়। আমি বললাম, সেটি তো ক্লাসের পড়ার মাধ্যমেই নিতে পারে। বললো, ক্লাসে সেভাবে সব কাভার করা যায় না এবং সাথে আরেকটি কথা বললো যে, এখন সে ধরনের শিক্ষকও নেই। যাচাই বাছাই করে শিক্ষক নেওয়া হয় ছেলেটি যেখানে পড়ে, তারপরেও মেধাবীদের পড়ানোর মতো শিক্ষব সবাই নয়। কাজেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বই থেকে বিশেষত বাজারের গাইড থেকে অনেক কিছু পড়তে হয়। মন্ত্রী মহোদয় শিক্ষকদের যে উপদেশটি দিলেন সেটির প্রতিফলন কিন্তু অভিভাবকের কথায় পেয়ে গেলাম। এটি একটি খোলামেলা বিষয়। শিক্ষার উপাদান শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন উৎস থেকে গ্রহন করতে পারে কিন্তু প্রশ্ন করার সময় এমনভাবে প্রশ্ন করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ের মূল ধারণগুলো অর্জন করেছে কিনা সেটি যাচাই করা যায়। কিন্তু সেই বিষয়টিই আমাদের শিক্ষায় ঘটেনা।

আমাদের বিদ্যালয়গুলো বছরে সব ছুটি ছাটা বাদ দিয়ে ১২০ দিন ক্লাস করানোর সুযোগ পায় কিন্তু ১২০ দিনও ঠিকমতো ক্লাস হয়না, শুধু নামকরা বেসরকারি, মিশনারি আর সেনাপরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া। ফলে, শিক্ষার্থীদের বিরাট ঘাটতি থেকে যায় দিনের পর দিন যা জমে জমে বিশাল পাহাড়ের মতো হয়। সেই ঘাটতি আর কোনদিন পূরণ হয় না। এই অবস্থা লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বন্ধে বাসায় পড়েনা, কোনো ধরনের কাজ করেনা। মুষ্টিমেয় সংখ্যক শিক্ষার্থী যারা একটু সিরিয়াস, অভিভাবক সিরিয়াস এবং যারা উন্নতমানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ে সেখানে বিভিন্ন ধরনের হোমওয়ার্ক করতে হয়, ক্লাসে ক্লাসওয়ার্ক করতে হয়। তারা এগিয়ে থাকে সব বিষয়ে। তাদের কথা অনেকটাই আলাদা। আমাদের চিন্তা করতে হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এইসব শিক্ষার্থীরা কিন্তু পুরোটাই নির্ভর করে বাজারের গাইড ও নোটের উপর এবং কোচিংয়ের উপর।

একটি ক্লাসে সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী, যেখানে একজন শিক্ষক ইচ্ছে করলেও সকল শিক্ষার্থীদের মূল ধারণা দিতে পারেন না, সবার খাতা চেক করতে পারেন না, সকলকে শ্রেণিকাজে সমানভাবে অংশগ্রহণ করাতে পারেন না। এসব শিক্ষার্থীর নোট ও গাইড বইয়ের উপর নির্ভর করতে হয়। হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানে যেসব শিক্ষক শিক্ষাদান করেন তারা প্রায় সবাই নির্ভর করেন নোট ও গাইডের ওপর। কারণ অনেকের সে ধরনের পড়াশোনা নেই যা দিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী পাঠদান করতে পারেন। নোট গাইড যারা লেখেন তারা দেখেশুনে এবং সাধারণ শিক্ষকদের চাইতে একটু জানাশোনা শিক্ষক এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরাও জড়িত। দেশে নন-এমপিও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোর শিক্ষকরা কোন ধরনের বেতন পাননা, তারা কোন সাইড ব্যবসা কিংবা প্রাইভেট টিউশন করে সংসার নির্বাহ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকট সহজ ও পরীক্ষামুখী উপকরণ অনেক কাক্সিক্ষত এবং উপকারী। তারা সহজে পাস করার পথ খুঁজেন। মেইনস্ট্রিম বা নিয়মিত টিচিং লার্নিং সিচুয়েশনের সাথে তাদের তেমন কোন যোগাযোগ নেই। তারা এই নোট ও গাইড দিয়েই পরীক্ষা দেন কারণ সেখানে সংক্ষিপ্ত ও সহজ সমাধান দেয়া থাকে। এগুলো সমাজের রূঢ় বাস্তবতা। আমরা যারা এসব চিন্তায় না নিয়ে শুধু ভাবি নোট-গাইড বন্ধ করে দিলে সমাজ হু হু করে উন্নতির শিখরে উঠে যাবে তাদের এসব বাস্তব বিষয়গুলো নিয়ে আরও চিন্তার অবকাশ রয়েছে।

প্রতি বছর অমর একুশে বইমেলায় প্রচুর বই ছাপা হয়। বিভিন্ন প্রকাশনী বিভিন্ন ধরনের বই প্রকাশ করে। তার সবগুলোই কি মানসম্পন্ন? অনেক বই-ই মানসম্পন্ন নয়। তারপরেও সেগুলো প্রকাশ করতে তেমন কোন বাধা নিষেধ নেই। বিচারের দায়িত্ব পাঠকের। পাঠকদের যেগুলো ভাল লাগবে তারা সেই বই কিনবে। বাকীগুলো হয় পড়ে থাকবে না হয় প্রকাশক কিংবা লেখকগন সেগুলোর দায়দায়িত্ব নিবে। এমনিতেই বাঙালীর বই পড়ার অভ্যেস নেই। নতুন বইয়ের কারণে কিংবা বাৎসরিক মেলার কারণেই হোক দু চারটা বই কিনলে তার মধ্যে দুএকটি তো পড়া হয়। সেটিও যদি বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে তো পড়াই হবেনা। একইভাবে, শিক্ষার্থীরা এমনিতেই পড়া বিমুখ। অনেক বিষয় তারা বুঝেনা। পাঠ্যবইয়ে অনেক কিছু উহ্য থাকে। প্রচুর অনুশীলন দরকার সে ধরনের অনুশীলন পাঠ্যবইয়ে কোন কোন অধ্যায়ে একেবারেই থাকেনা, কোথাও একটু আধটু থাকে। এখানে প্রয়োজন শিক্ষকের ব্যাখ্যা করা, নতুন নতুন অনুশীলন তৈরি করা। সেটি আমরা ক’জন শিক্ষকের কাছ থেকে আশা করতে পারি? একটি সময় হয়তো সেটি হবে কিন্তু সেটি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আমরা পড়ার অভ্যাস নষ্ট করে দিতে পারিনা। তাদের জানার পরিধিতে রেশনিং করতে পারি না এবং করা উচতিও নয়।

বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের সাহায্যকারী বই যা আমরা নোট ও গাইড বই হিসেবেই চিনি ও জানি সেগুলো কিন্তু তীব্র প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটের মধ্যে দিযে যায়। ফলে, কে কত ভাল কাগজ, কে কত নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারে কোন একটি বিষয়, কে কত তাড়াতাড়ি এবং কে কত শিক্ষার্থীবান্ধব করতে পারে সেই প্রতিযোগিতা একে অপরের মধ্যে থাকে। ফলে, অনেকটাই ভাল মানের বই বিশেষ করে একটু উন্নতমানের পাবলিকেশন্স থেকে পাওয়া যায়। আমাদের মুল বই কিন্তু কোন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যায়না। ফলে, প্রতিবছর প্রচুর ভুল, নিম্নমানের কাগজ, এলোমেলো পৃষ্ঠা ইত্যাদিসহ বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়। এগুলো শিক্ষার্থীবান্ধব হয়না।

নোট গাইড আর কোচিং একেবারেই খোলামেলা বিষয়। সকল ধরনের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক নোট গাইড আর কোচিং-এর সুবিধা নেয়। কিন্তু কথা বলার সময় সবাই এমনভাবে বলেন যে, এ দুটো মহা অপরাধ, মহাপাপ। দেশের সমস্ত শিক্ষিত, তথাকথিত উচ্চশিক্ষিতরাই দেশের সব কি পয়েন্টে বসে আছেন আর তারাই দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পুরোপুরি সরিয়েছেন। দেশের জনগণের পবিত্র আমানত! এদের মধ্যে অনেকেই বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তথাকথিত উচ্চতর গ্রেড নিয়ে বের হওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে যারাই রাষ্ট্রীয় যে যে দায়িত্বে আছেন সবাই ঘুষ সংস্কৃতি চমৎকারভাবে টিকিয়ে রেখেছেন। দেশ থেকে এসব চিরতরে দূর করা দরকার। এগুলো নিয়ে খুব একটা কথা শুনিনা অথচ নোট-গাইড, কোচিং আর শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে সব তোলপাড়! মনে হয়, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা এগুলো। এগুলো থেকে উদ্ধার হলেই দেশ যেন উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছে যাবে। এগুলো সমাজের বাস্তবতা। বিশ্বের অনেক দেশে উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে কিছু উপার্জন করে, সেই দিয়ে তারা পড়াশোনার খরচ চালায়। আমাদের দেশে কোচিং-এর সাথে এ ধরনের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী জড়িত যারা অতিরিক্ত কিছু উপার্জন করে অভিভাবকদের কাছ থেকে খরচ নেননা, বরং তাদেরকে আরও দেন। কিন্তু আমরা যেভাবে লেগে আছি যেন, কোচিং-এর মতো মহাপাপ আর কিছুতে নেই, এ থেকে দেশকে মুক্তি দিতে না পারলে আর রক্ষা নেই। বাজার থেকে নোট গাইড সরাতে না পারলে জাতির মুক্তি নেই!

দক্ষিণ কোরিয়া উন্নত বিশ্বের কাতারে অবস্থান করছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের স্কুল বার ঘণ্টা অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের বার ঘণ্টা বিদ্যালয়ে কাটাতে হয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা ভোররাত পর্যন্ত প্রাইভেট কোচিংগুলোতে পড়ে। যদিও রাত দশটার পর কোচিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা এবং সরকার বর্তমানে সেই নিয়ম করতে যাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে তাদের পড়াশোনা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের যেতে হয়। তাদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতিকে ধরে রাখার জন্য এবং এসব ক্ষেত্রে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার নিমিত্তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিতে হয় আর তাই তাদের প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। এখানকার পড়াশোনা মারাত্মক প্রতিযোগিতাপূর্ণ! সাথে সাথে মনে পড়ে গেল আমাদের দেশের তথাকথিত’ এক্সপেরিয়েনসিয়াল লার্নিং’ চালু করার কথা যেখানে বলা হয়েছিলো বা এখনো বলা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনে প্রতিযোগিতা থাকবে না, তারা শুধু খেলাধুলা আর আনন্দের মধ্যে দিয়ে শিখবে। যে দেশে শিক্ষার্থীরা মোটে পড়তে চায়না, ক্লাসে আসতে চায় না, কিছু জেনে পরীক্ষায় বসতে চায়না, সবকিছুতে চায়’ অটো-পাস, অটোপ্রমোশন আর অটোজানা সেখানে আমরা প্রতিযোগিতা শব্দটি বাদ দিতে চাই! এ যেন না ুনে বুড়ির কানে ঢোলের বাড়ি দেওয়া! আমি যখন কর্তাব্যক্তিদের প্রশ্ন করলাম যে, প্রতিযোগিতা থাকবে না তাহলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় কিভাবে ভর্তি হবে। তাদের কোনও উত্তর ছিলনা, শুধু বলেছিল তখন দেখা যাবে। তার অর্থ তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিলনা। তাদের গ্রেডিং ছিল’ খুব ভাল, ভাল, মধ্যম আর উন্নতি প্রয়োজন ইত্যাদি শব্দ দ্বারা একাডেমিক ফল প্রকাশ করার নিয়ম ছিল। দক্ষিন কোরিয়ার মতো উন্নত দেশ ও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থায় যদি দিনরাত কোচিং থাকে তার অর্থ হচ্ছে জ্ঞান আহরণ করা বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে এবং একটি সুস্থ প্রতিযোগিতাও প্রয়োজন। যে খেলায় কোন প্রতিযোগিতা নেই সেটি কোনো খেলা নয়, সে খেলা কেউ খেলতে চায় না। আমাদের লেখাপড়া একটি বড় খেলা, এর চেয়ে বড় কোনো খেলা নেই। সেই খেলায় আমরা প্রতিযোগিতা বাদ দেয়ার সব আয়োজন করেছিলাম, এখনও থেকে থেকে বলা হচ্ছেÑশিক্ষার্থীরা শুধু আনন্দের মাধ্যমে শিখবে, সেখানে থাকবে না কোনো প্রতিযোগিতা। খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা আছে, পরিশ্রম আছে এবং আনন্দও আছে। প্রতিযোগিতা না থাকলে যে আনন্দ থাকবে না তা নয়। কিন্তু আমরা কেনো জানি একটি ভুল ব্যাখ্যা এবং ভুল ধারণায় বন্দি হয়ে যেতে চাই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়