বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬

রায়পুরে বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
রায়পুরে বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এলকেএইচ উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের নিচু জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সোমবার ( ৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের এলকেএইচ উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের দু পাশে প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চলমান। সারা বছর স্কুলের মাঠটি নিচু জমি হওয়ায় জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে। নতুন ভবন হলেও রাস্তা ও বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠের মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করছেন। ফলে মাঠটিতে ঝুঁকিপূর্ণ চারটি গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিদার মোল্লাসহ কয়েকজন বলেন, বিদ্যালয় মাঠের মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ বিধিবহির্ভূত কাজ। গত কয়েক মাস বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি না থাকায় প্রধান শিক্ষক হঠকারী সিদ্ধান্ত ও অভিভাবকদের মতামতের গুরুত্ব না থাকায় বিভিন্ন সময় সরকারি বরাদ্দের স্লিপের টাকাও

যেনতেনভাবে খরচ দেখিয়ে পার করেছেন তিনি। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিস্বার্থে নিজের ইচ্ছেমত কাজ ও ব্যবহার করছেন। প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তান অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের দু পাশে নতুন দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের স্বার্থে মাঠের মাটি কেটে রাস্তা করা হয়। রাস্তা না করে দিলে তার বরাদ্দ বাতিল হবে এবং গাড়ি নিয়ে ঢুকতে অসুবিধা হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে মাঠের মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, নিচু জমি বা নষ্ট জমি, যাই হোক শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ কেটে কোনো কিছুই করা যাবে না। খেলার মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাঁকে অবহিত করেননি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি আবদুর রশীদ মোল্লা বলেন, বিদ্যালয় চত্বরের মাটি কাটার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাঁকে কিছুই জানাননি। প্রধান শিক্ষকের মধ্যে কিছু খামখেয়ালিপনা রয়েছে। তিনি কোনো সিদ্ধান্তই রেজুলেশন আকারে করেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাছান কাউছার বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়