শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:৩৬

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ ফরাজী

অনলাইন ডেস্ক
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

প্রথম অধ্যায়

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

কম্পিউটার সিস্টেমের সাহায্যে কোন একটি পরিবেশ বা ঘটনার কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক রুপায়ন হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। কম্পিউটার প্রযুক্তির সাহায্যে কৃত্রিম পরিবেশকে এমনভাবে তৈরি ও উপস্থাপন করা হয়, যা ব্যবহারকারীর কাছে সত্য ও বাস্তব বলে মনে হয়। ১৯৬২ সালে মর্টন এল হেলগি তাঁর তৈরি সেন্সোরামা স্টিমুলেটর নামক যন্ত্রের মাধ্যমে প্রথম ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আত্মপ্রকাশ করেন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দটি সর্বপ্রথমে ব্যবহৃত হয় ফরাসি নাট্যকর কবি, নির্দেশক ও অভিনেতা Antonim Artaud (অ্যান্টোনিন আরচিউড)-এর The Theatre and Its Double (১৯৩৮) বইটিতে। এই শব্দটি আরও ব্যবহৃত হয় Demien Broderick (ডেমিয়েন ব্রডরিক)-এর সায়েন্স ফিকশন “The Judas Mandala” তে। এ প্রযুক্তির সাথে কম্পিউটারের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ১৯৮০ সালের দিকে প্রথম ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টি হয়। ১৯৮৪ সালে কম্পিউটার হ্যাকার লেনিয়ার সর্বপ্রথম ক্যালিফোর্নিয়ার ডিপিএল রিচার্স করপোরেশনে এ সংক্রান্ত গবেষণা শুরু করেন।

প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা অনুভবে বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রি-মাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভব। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ যেখানে ব্যবহারকারী ঐ পরিবেশে মগ্ন হয়, বাস্তবের অনুকরণে সৃষ্ট দৃশ্য উপভোগ করে, সেই সাথে বাস্তবের ন্যায় শ্রবণানুভূতি এবং দৈহিক ও মানসিক ভাবাবেগ, উত্তেজনা অনুভূতি প্রভৃতির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে মাল্টিসেন্সর হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টার সেন্সরসমূহের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকে যা মানব ব্যবহারকারীদেরকে কম্পিউটার-সিমুলেটেড অবজেক্ট, স্পেস, কার্যক্রম এবং বিশ্বকে একবারে বাস্তবের মতো অভিজ্ঞতা প্রদানে সক্ষম করে তোলে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো সেই প্রযুক্তি, যা সৃষ্টি করে ত্রি-মাত্রিক বিশ্ব এবং জীবন্ত দৃশ্য। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাস্তব দৃষ্টিগ্রাহ্য জগৎ তৈরি করা হয় যা উচ্চমাত্রায় তথ্য বিনিময় মাধ্যমের কাজ করে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রকারভেদ

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি দুই ধরনের।

১. টেলিপ্রেজেন্স (Telepresence)

২. সাইবার স্পেস (Cyberspace)

টেলিপ্রেজেন্স (Telepresence)

এই ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহারকারীর সামনে দূরবর্তী কোন বাস্তব পরিবেশকে কৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং দূরবর্তী ঐ বাস্তব পরিবেশে একটি রোবট উপস্থিত থাকে। ভার্চুয়াল পরিবেশে ব্যবহারকারী যা করবে, দূরবর্তী স্থানের বাস্তব পরিবেশে অবস্থিত রোবট তার অনুকরণ করে কাজ করবে। এক্ষেত্রে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারের গ্রাফিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে দূর থেকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, যাকে টেলিপ্রেজেন্স বলা হয়। সাইবার স্পেস (Cyberspace)

এই ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহারকারী বাস্তব অথবা কাল্পনিক পরিবেশে অবস্থানের অনুভুতি পায়। সিমুলেশনের ধরণ অনুযায়ী এটি বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে- নন-ইমার্সিভ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

এই ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে একটি শক্তিশালী কম্পিউটারের মাধ্যমে ডিসপ্লেতে একটি সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি কওে দেখানো হয়। ব্যবহারকারীরা এই পরিবেশকে বিভিন্ন ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে কন্ট্রোল করতে পারে। যেমন : বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে মহাকাশ অবলোকন, ৩উ গেমস ইত্যাদি। সেমি-ইমার্সিভ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

এই ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ৩উ গ্রাফিক্সের মাধ্যমে আংশিক ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরি করা হয়। এই পরিবেশ তৈরির জন্য হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে বাস্তব পরিবেশের মতো অবকাঠামো তৈরি করা হয়। উচ্চ রেজুলেশনের ডিসপ্লে ও কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অনুভুতি প্রদান করা হয়। যেমন : বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে রোলার কোস্টারে পরিভ্রমণ, ফ্লাইট সিমুলেশন ইত্যাদি। ফুল-ইমার্সিভ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

এই ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে সিমুলেশনের মাধ্যমে দৃষ্টি, শ্রবণশক্তি, স্পর্শ, গন্ধ ইত্যাদি অনুভুতির বাস্তব রুপ দেয়া যায়। ফলে ব্যবহারকারী মানসিক ও শারিরীকভাবে সম্পূর্ণরূপে ভার্চুয়াল পরিবেশে নিমজ্জিত হয় এবং পরিবেশের সাথে ইন্টারেক্ট করে থাকে। এই ধরণের পরিবেশে পাখির মতো উড়ার অনুভূতি দেয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিস্টেম তৈরির উপাদানসমূহ

ইফেক্টর : ইফেক্টর হলো বিশেষ ধরনের ইন্টারফেস ডিভাইস, যা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি পরিবেশের সাথে সংযোগ সাধন করে। যেমন-হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে।

রিয়েলিটি সিমুলেটর : এটি এক ধরনের হার্ডওয়্যার, যা ইফেক্টরকে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করে। যেমন-বিভিন্ন ধরনের সেন্সর।

অ্যাপ্লিকেশন : বিভিন্ন সিমুলেশন সফটওয়্যারসমূহ। যেমন-অটোডেস্কের “Division”।

জিওমেট্টি : জিওমেট্রি হলো ভার্চুয়াল পরিবেশের বিভিন্ন বস্তুর বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত তথ্যাবলি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদানসমূহ

এতক্ষণে এর বিভিন্ন বেসিক ও খুঁটিনাটি তথ্য জেনেছি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী তা আরো ভালোভাবে বুঝতে এতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো সম্পর্কে জানতে হবে।

এবার আসুন জানবোÑভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে কী কী সরঞ্জাম ও উপাদান ব্যবহৃত হয়। আগেই বলেছি কৃত্রিম বাস্তব পরিবেশ তৈরি করতে অনেকগুলো ডিভাইসের প্রয়োজন পড়ে। এই প্রযুক্তি দুই ধরনের উপাদানের সমন্বয়ে কাজ করে। একটি হলোহার্ডওয়্যার ও অন্যটি হলো সফটওয়্যার। প্রথমে জানবো কী ধরনের সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়।

১. ভিআর সফটয়্যার (VR Software)

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর Software. কৃত্রিম পরিবেশ তৈরিতে ত্রিমাত্রিক দৃশ্য বা 3D Graphics ব্যবহার করা হয়। এগুলো বিভিন্ন সফটওয়্যার যেমন Unreal Engine, Autodesk 3D Max, Maya, IRIS VR ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বহুমাত্রিক সাউন্ড (3D, 5D, 8D) তৈরিতেও এসব সফটওয়্যারের প্রয়োজন। অডিও, ভিডিও প্রস্তুত হয়ে গেলে সেগুলো ইমপ্লিমেন্ট করতে হয় খুব সুক্ষ্মভাবে যাতে বাস্তবের ন্যায় অভিজ্ঞতা হয় ও বাস্তব অনুভূতি পাওয়া যায়।

এই ইমপ্লিমেন্টেশনের কাজ করা হয় বড় বড় সফটওয়্যার ব্যবহার করে। মূলত ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বিভিন্ন উপাদানসমূহ সেটআপ ও তাদের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করতে ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার প্রয়োজন।

২. হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে (Head Mounted Display)

Head Mounted Display বা সংক্ষেপে HMD হলো একধনের হেলমেট বা চশমা। এটার সাহায্যে ত্রিমাত্রিক দৃশ্য দেখানো হয়। এটি পরলে ব্যবহারকারী বাইরের দৃশ্য দেখতে পান না। এর ডিসপ্লেতে যা দেখানো হয় শুধু সেটাই দেখতে পান।

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন দামের হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে (VR Headset ) কিনতে পাওয়া যায়। এগুলোর সাথে আগে থেকেই ইয়ারফোন বা হেডফোন যুক্ত করা থাকে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী ত্রিমাত্রিক শব্দ শুনতে পায়।

খুব জনপ্রিয় কয়েকটি ভিআর হেডসেট হলো HP Reverb G2, HTC Vive 2 Pro, Meta Quest 2, Meta Quest Pro ইত্যাদি। বাংলাদেশের বাজারে এসব ডিভাইস খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়।

৩. হ্যান্ডগ্লভস (Hand Gloves)

এটি বিশেষ একধরনের হাতমোজা। হ্যান্ড গ্লভসে অনেকগুলো মোশন সেন্সর লাগানো থাকে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী বাস্তব অনুভূতি পেতে পারে। ত্রিমাত্রিক দৃশ্যে কোনো বস্তু দেখার পরে তা স্পর্শ করতে চাইলে এই হ্যান্ডগ্লভসে থাকা সেন্সর সেটি স্পর্শ করার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

এই ডিভাইসটি মূলত ব্যক্তির হাতের সাথে কম্পিউটার প্রোগ্রামের যোগাযোগ স্থাপন করে। আবার কম্পিউটার প্রোগ্রাম থেকে বিভিন্ন সিগন্যাল এর মাধ্যমে ব্যক্তির হাতে পৌঁছায়। এতে সে বুঝতে পারে আসলেই কোনো কিছু স্পর্শ করছে।

৪. বডি স্যুট (Body Suit)

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো Body Suit. এতেও অসংখ্য মোশন সেন্সর লাগানো থাকে। ব্যক্তির নড়াচড়া, শ্বাসপ্রশ্বাস ইত্যাদির তথ্য কম্পিউটার প্রোগ্রামে পাঠানো এর কাজ।

এই বডি স্যুট ব্যতীত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা কৃত্রিম বাস্তবতার সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব নয়। এই ডিভাইসটির কারণেই ত্রিমাত্রিক দৃশ্যে দেখানো বস্তু, পরিবেশ আমাদের কাছে অনেক বেশি বাস্তব মনে হয়।

বডি স্যুটের সাথে একধরনের বিশেষ জুতা বা বুট সরবরাহ করা হয়। এসকল ডিভাইসেই Motion Sensor যুক্ত করা থাকে। এগুলো ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করে কম্পিউটারে পাঠায় এবং কম্পিউটার সে অনুযায়ী পরবর্তী দৃশ্য প্রদর্শনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ করে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার/প্রয়োগ

প্রকৌশল ও বিজ্ঞান : বিজ্ঞানের জটিল বিষয় নিয়ে গবেষণা, গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রসেসের সিমুলেশনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে।

খেলাধুলা ও বিনোদনঃ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কল্যাণে কম্পিউটারের সাথে কোন খেলায় অংশগ্রহণ বা কম্পিউটার সিস্টেমে অনুশীলন সহজ হচ্ছে। দ্বিমাত্রিক বা ত্রিমাত্রিক সিমুলেশনের মাধ্যমে নির্মিত হচ্ছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিনির্ভর ছবি, যা সবার কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

ব্যবসা ও বাণিজ্যে : ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ভোক্তা বা ক্রেতার কাছে পণ্যের ব্যবহার পদ্ধতি ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ সহজে উপস্থাপন করা যায়। এছাড়া ব্যবসায়িক কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান। উৎপাদিত বা প্রস্তাবিত পণ্যের কৌণিক উপস্থাপন ইত্যাদি। শিক্ষাক্ষেত্রে : শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অনেক প্রভাব রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার জটিল বিষয়গুলো সহজে উপস্থাপন এবং পাঠদানের বিষয়টি সহজে চিত্তাকর্ষক ও হৃদয়গ্রাহী করা যায়।

স্বাস্থ্যসেবা : ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের অন্যতম বৃহৎ ক্ষেত্র হচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞান। এই প্রযুক্তিতে সিমুলেশনের মাধ্যমে জটিল সার্জারি অত্যন্ত সূক্ষভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। চিকিৎসকদের নতুন চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা অর্জন বা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ড্রাইভিং নির্দেশনা : ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে গাড়ি চালনার বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারছে ফলে প্রশিক্ষণার্থী দ্রুত গাড়ি চালনা শিখতে পারছে।

সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণে : ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগ করে সেনাবাহিনীতে অস্ত্র চালনা এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের ব্যবহারে কম সময়ে নিখুঁতভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়।

বিমানবাহিনী প্রশিক্ষণে : ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগ করে বিমানবাহিনীতে বিমান চালনা প্রশিক্ষণ এবং প্যারাস্যুট ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়।

নৌবাহিনী প্রশিক্ষণে : নৌবাহিনীতে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ এবং ডুবোজাহাজ চালনা প্রশিক্ষণে ব্যপকভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।

মহাশূন্য অভিযানে : ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগ করে ত্রিমাত্রিক সিমুলেশন তৈরির মাধ্যমে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ছাত্র-শিক্ষকরা সৌরজগৎ এর গ্রহ বা গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থান, গঠনপ্রকৃতি ও গতিবিধি, গ্রহের মধ্যস্থিত বিভিন্ন বস্তু বাপ্রাণের উপস্থিতি ইত্যাদি সম্পর্কে সহজেই ধারণা অর্জন করতে পারে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা : ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাহায্যে যাদুঘরে ত্রিমাত্রিক চিত্রের মাধ্যমে ইতিহাস-ঐতিহ্য উপস্থাপন করা যায়। ফলে আগত দর্শণার্থীরা তা দেখে মুগ্ধ হয় ও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে থাকে। প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব

প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যাপক প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগের ফলে সমাজে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের প্রভাব পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিবাচক প্রভাব

১। শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে জটিল বিষয়গুলো ত্রিমাত্রিক চিত্রের মাধ্যমে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়। ২। ঝুঁকিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থা সহজ ও সরল করা সম্ভব। ৩। বাস্তবায়নের পূর্বে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে সিমুলেশনের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উৎপাদন ব্যবস্থার জটিল প্রসেসকে সরল করা যায়, প্রোডাক্ট ডিজাইনের ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্ণয় করে কম খরচে উৎপাদন করা যায়। ৪। ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির নেতিবাচক প্রভাব

১। বাস্তবের স্বাদ পাওয়ায় কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করতে পারে। ফলে এর প্রতি অনেকের মধ্যে আসক্তি তৈরি হয়। ২। যেহেতু ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি কম্পিউটার সিস্টেম তাই এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ৩। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যয়বহুল হওয়ায় সবাই এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সুবিধা পায় না। ফলে ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি হয়। জ্ঞানমূলক প্রশ্নসমূহ

ক। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী?

ক। ফ্লাইট সিমুলেশন কী?

ক। টেলিপ্রেজেন্স কী?

ক। কল্প বাস্তবতা কী?

অনুধাবনমূলক প্রশ্নসমূহ

খ। ‘বাস্তবে অবস্থান করেও কল্পনাকে ছুঁয়ে দেখা সম্ভব’-ব্যাখ্যা কর। (সি.বো. ১৭)

খ। প্রযুক্তি ব্যবহারে মটরড্রাইভিং প্রশিক্ষণ/শিখা সম্ভব-ব্যাখ্যা কর। (ঢা. কু. বো. ১৯)

খ। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

খ। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কীভাবে আমাদের উপকারে আসে?-ব্যাখ্যা কর।

খ। প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ ফরাজী : সহকারী উপাধ্যক্ষ ও আইসিটি প্রভাষক, ড্যাফোডিল ইন্টার‌্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়