প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৯
'বছিলার নদী-খালঘেঁষা জীবন' নিয়ে গবেষণা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

রাজধানী ঢাকার পশ্চিম প্রান্তের মোহাম্মদপুর এলাকার বছিলা অঞ্চলের নদী-খালঘেঁষা জীবন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংগ্রাম এবং নগর-পরিকল্পনার বাস্তবতা নিয়ে একটি গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হয়েছে। 'কমনিং বিয়ন্ড এনক্লোজার : ইনহ্যাবিটেশন উইথ রিভার্স অ্যান্ড ক্যানালস ইন বছিলা' শিরোনামের এ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয় শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর স্থাপত্য বিভাগে। বইটি সম্পাদনা করেছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক শায়ের গাফুর, ফাতেমা মেহের খান ও আহাম্মদ-আল-মুহাইমিন। গবেষণাধর্মী এ প্রকাশনায় বছিলা এলাকার নদী, খাল, উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদকে ঘিরে গড়ে ওঠা নগরজীবনের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, জীবিকা এবং নগরের যৌথ ব্যবহারযোগ্য সম্পদের ধারণা এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
|আরো খবর
গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকার বসবাসযোগ্যতা সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, যার অন্যতম কারণ নগরের উন্মুক্ত স্থান ও জলাশয়ের দ্রুত হ্রাস। বইটিতে এসব সম্পদকে ব্যক্তিগত বা সরকারি মালিকানার বাইরে ‘কমন’ বা যৌথ সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এসব সম্পদের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বছিলা এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা নদী সংলগ্ন প্লাবনভূমি ও রামচন্দ্রপুর খালের বাস্তব চিত্র মানচিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, আইনগত ও অবৈধ উপায়ে এসব জলাশয় ও প্লাবনভূমির বড়ো অংশ ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে গেছে, যা নগরের পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আলোচকরা নগরের জনপরিসর ও প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং মানুষের জীবনমান, পরিবেশ ও অধিকারকে প্রাধান্য দিতে হবে। গবেষণাকে বাংলায় প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, নগর-পরিকল্পনায় নারীর অভিজ্ঞতা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। তাই জনপরিসরগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নগরায়ণের নামে প্রান্তিক মানুষকে স্থানচ্যুত করা হচ্ছে এবং আইন ও পরিকল্পনার আড়ালে নদী, বন ও জনপরিসর দখলের প্রবণতা বাড়ছে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নদী ও জলাভূমির মালিকানা রাষ্ট্রের হলেও বাস্তবে প্লাবনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে পরিবেশ ও নগরব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
অধ্যাপক শায়ের গাফুর বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জনপরিসর বহু সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। তাই এসব স্থানকে শুধু অবকাঠামোগত নয়, সামাজিক অধিকার ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
বইটি প্রকাশ করেছে সেল ফর রেজিলিয়েন্ট ডুয়েলিং (সিইআরডি) এবং বিতরণ করছে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। ২৩৪ পৃষ্ঠার এ বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা বা ৪০ মার্কিন ডলার। গবেষকরা আশা করছেন, এ বই নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশ নিয়ে নতুন চিন্তার দ্বার উন্মোচন করবে।








