সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫৬

পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছেন শ্রীমঙ্গলের ইউএনও

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।
পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছেন শ্রীমঙ্গলের ইউএনও

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে বইপড়া উৎসব ২০২৬। এ উৎসবে উপজেলার মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন ধরনের গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও কাব্য পড়তে উৎসাহিত করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বইপড়ায় উদ্বুদ্ধ করছেন।

রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) উপজেলার ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজনগর জে.এস.এস.আর. মাদ্রাসা, শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা, সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল ও ভূনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান। এ সময় তিনি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ার পরামর্শ দেন।

শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের সমন্বয়ক ও আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল এসব সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, উদ্দীপনা ও উৎসাহ দেখা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, "আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদাভাবে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বইপড়ার অভিজ্ঞতা বিনিময় করছি এবং পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তে উৎসাহিত করছি। আমরা আশা করি, আমাদের আগামী প্রজন্ম বই পড়ার মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করবে।"

ভিন্নধর্মী এই আয়োজন শ্রীমঙ্গলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের প্রথম পর্ব ‘মুকুল’-এ শ্রেণিওয়ারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ১৪টি বই শ্রীমঙ্গলের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী একযোগে পড়ছে। আগামী ১৭ আগস্ট এই বইগুলোর ওপর শ্রেণিওয়ারি প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদাভাবে ‘মুকুল’ পর্বের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। ‘মুকুল’ পর্বের পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জনকে বেছে নেওয়া হবে। তারা দ্বিতীয় পর্ব ‘ফুল’-এর জন্য নতুন বই পড়ে আবার নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়েই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। সেখান থেকে প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রেণির সেরা ৩ জন উপজেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত ধাপের জন্য নির্বাচিত হবে।

চূড়ান্ত পর্বে আবার নতুন বই পড়ে পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রেণিওয়ারি সেরা ১০ জনকে বেছে নেওয়া হবে। চূড়ান্ত ধাপে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৩টি বই আলাদা আলাদা ধাপে পড়বে।

এছাড়াও এবার যুক্ত হয়েছে উন্মুক্ত বিভাগ; যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের যেকোনো বয়সী মানুষ রেজিস্ট্রেশন করে বইপড়া উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে এই উৎসবে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে আছে 'শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব' এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে আছে 'উত্তরণ'।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়