বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩১

ফরিদগঞ্জে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় সাবেক এমপি ও প্রেসক্লাব সভাপতির মধ্যস্থতায় সমঝোতা

ফরিদগঞ্জে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় সাবেক এমপি ও প্রেসক্লাব সভাপতির মধ্যস্থতায় সমঝোতা
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো

দৈনিক ইত্তেফাকের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে লাঞ্ছিত ও আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ এবং ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের যৌথ মধ্যস্থতায় সৌহার্দ্য ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টায় পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম পাটোয়ারীর হামলায় সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহত হন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেও তারা বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত সাংবাদিককে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের পরামর্শে বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ প্রেসক্লাবের সভাপতির সঙ্গে ফোনে কথা বলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং সরাসরি প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সম্মানজনক মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরবর্তীতে জরুরি সভা চলাকালীন রাত ৮টার দিকে লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে উপস্থিত হলে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। সেখানে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। অভিযুক্তদের অপরাধের বিষয়টি স্পষ্ট হলে তারাও তা স্বীকার করে নেন। পরবর্তীতে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সদস্যদের উপস্থিতিতে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।

আলোচনাশেষে সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ বলেন, “বিরোধী দলে থাকাকালীন দেশের ও ঢাকার সাংবাদিকরা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন। সে সময় অনেক সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকরা আমাদের বন্ধু ও দুঃসময়ের সাথী।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।”

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়