প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:০৪
কচুয়ায় মাংস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই ও চাঁদা দাবি, আদালতে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কচুয়ায় এক মাংস ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কুপিয়ে গুরুতর জখম ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মাংস ব্যবসায়ী বাহাদুর (৩৯) বাদী হয়ে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কসাইয়ের কাজ ও মাংস ব্যবসা করে আসছেন বাহাদুর। অভিযুক্তদের একজন তার দোকান থেকে বিভিন্ন সময়ে ৩৬ থেকে ৩৭ হাজার টাকার মাংস বাকিতে নেন। উক্ত পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এরই জেরে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ বিকেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দা, ছেনি, রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তার গতিরোধ করে এবং ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ছেনি দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন এবং পরবর্তীতে তার মাথায় কয়েকটি সেলাই লাগে। তাকে বাঁচাতে তার ভাতিজা জাভেদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর কাছে থাকা মাংস বিক্রির নগদ ২ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৮ ভরি ওজনের একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার সময় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তাদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী বাহাদুর বলেন, "পাওনা টাকা চাওয়ায় আসামিরা আমার ও আমার ভাতিজার ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে।" স্থানীয়ভাবে সালিশ-দরবারে সমাধান না পেয়ে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানান। বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সুমন মিয়া জানান, চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, "তাদের লেনদেনের বিষয় নিয়ে একবার সালিশ হয়েছিল। মহিবুল্লাহ ও বাহাদুর দুইজনই রিহ্যাব সেন্টারে ছিলো। সেখান থেকে আসার পর পাওনা টাকা নিয়ে বাহাদুর আমাকে জড়িয়ে ফেলে। পরবর্তীতে আমি এসব ঝামেলা থেকে সরে আসি। এরপর তাদের মধ্যে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই।"







