বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫১

চাঁদপুরে তিন বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা আইনজীবীদের

আদালত প্রতিবেদক।।

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুরে তিন বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা আইনজীবীদের
ক্যাপশন: জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায় বক্তব্য রাখছেন সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম মন্টু। পাশে উপস্থিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন তালুকদারসহ অন্য আইনজীবীবৃন্দ।

বিচারকার্য পরিচালনায় আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে চাঁদপুরের তিনটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সাধারণ সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য উল্লেখিত আদালতগুলো বর্জনের ঘোষণা দেন।

বর্জনের আওতায় আসা আদালতগুলো হলো— চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত। এসব আদালতের বিচারকরা হলেন যথাক্রমে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ শম্পা ইসলাম।

সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, "উক্ত বিচারকদের সঙ্গে আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সমিতি থেকে একাধিকবার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালেও তা সমাধান করা হয়নি। উপরন্তু, একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের কারণে বিচারকার্য পরিচালনায় আইনজীবীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। যার ফলে বাধ্য হয়ে বার সমিতি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ কয়েকটি আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে ‘শিক্ষক-ছাত্রের মতো’ আচরণ করা হয় এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে এসব সমস্যা নিরসনে শিগগিরই সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও জানানো হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী সাত দিন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের দপ্তর থেকে মামলার সংগৃহীত কপির জন্য কোনো ফি বা অর্থ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আদালতের পেশকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি সতর্ক করে বলেন, স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে সব অভিযোগ লিখিতভাবে বার কাউন্সিলে পাঠানো হবে। এছাড়া সমিতির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো আইনজীবী বা তাদের সহকারী কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন— সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাড. কোহিনুর রশিদ, জিপি অ্যাড. এজেডএম রফিকুল হাসান রীপন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাড. শিরিন সুলতানা মুক্তা, প্রাক্তন সভাপতি অ্যাড. ইকবাল-বিন-বাশার, সেলিম আকবর, আহছান হাবীব ও এটিএম মোস্তফা কামাল, সিনিয়র আইনজীবী শেখ আবুল খায়ের মো. সালেহ, সাবেক পিপি আমান উল্যাহ (১) ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম মেহেদী।

সভায় বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন হয়রানির বিবরণ তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে তাঁরা উল্লেখ করেন যে, বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই আইনজীবীরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে চান।

অন্যান্যের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, তাফাজ্জল হোসেন, মহসিন খান, নাজিমউল্লা বাপ্পি, আলম খান মঞ্জু, আব্দুল লতিফ শেখ, শাহ আলম ফরাজী, নাইমুল ইসলাম, আক্তার সরকার, কামাল উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মোস্তফা ও গাজী দুলালসহ বারের সাধারণ সদস্যবৃন্দ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়