প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৭
একটি গর্তেই স্থবির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক
নারায়ণপুরে চরম ভোগান্তিতে যাত্রী ও চালকরা

মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারের পশ্চিম পাশে বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কের নারায়ণপুর বাজারে প্রবেশমুখের রাস্তায় একটি বড় অংশ বৃষ্টির কারণে গত দু সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ধসে পড়েছে। ফলে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত, যা বর্তমানে জনদুর্ভোগ ও যানজটের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
|আরো খবর
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের সঙ্গে ঢাকার সংযোগকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি গত কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাস, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারীচালিত অটোবাইক রিকশা ও মোটরসাইকেলে এ পথে চলাচল করে। কিন্তু সড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সরজমিনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে চাঁদপুর ও মতলবমুখী যানবাহন এবং চাঁদপুর থেকে নারায়ণপুর, নায়েরগাঁও, গৌরিপুর ও ঢাকাগামী যানবাহনের দীর্ঘ সারি পড়ে আছে। স্থানীয় যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিলো চোখে পড়ার মতো। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ পার হচ্ছেন।
৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাউসার প্রধান জানান, তার ৮০ বছর বয়সী মা ওই স্থান দিয়ে রিকশায় যাওয়ার সময় পড়ে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষের চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত তিন বছর ধরে বর্ষা এলেই এই একই স্থানে রাস্তা ধসে গর্ত তৈরি হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাময়িক কিছু কাজ করে চলে যায়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। তিনি আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই অংশ সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথের প্রায় ২০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন হয়েছে। তবে পুরো কাজ শেষ করতে প্রায় দু মাস সময় লাগতে পারে। চেয়ারম্যানের ভাষায়, দু মাস অপেক্ষা করার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। প্রতিদিন মানুষ আহত হচ্ছে, দুর্ঘটনা ঘটছে, জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বৃষ্টির শুরুতেই সেখানে বালু ও ইট ফেলা হয়েছিল। যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে পথ পাড়ি দিতে আগে পাঁচ মিনিট সময় লাগতো, এখন সেখানে ৩০ মিনিট থেকে আরও বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি।
স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার ছাড়া এই দুর্ভোগের অবসান হবে না। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। ডিসিকে/ এমজেডএইচ








