প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৯
চাঁদপুরে জেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে জুলাই আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান

বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৌর মাল্টিপারপাস হলে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আবেগঘন ও বর্ণাঢ্য পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। তিনি তাঁর বক্তব্যে জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে আমি আজ সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। তাই জুলাইযোদ্ধারা আমাদের জন্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দিয়েছেন।”
জেলা প্রশাসনের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে যেখান থেকে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো, বর্তমানে সেই পরিত্যক্ত বাড়িটির মালিক চাঁদপুর পৌরসভা। আমি চাই আগামী দু মাসের মধ্যে বাড়িটি সংস্কার করে জুলাই শহীদ পরিবারের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হোক।”
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা বলেছেন, ৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে আসবেন। এই বাংলার মানুষ আপনাকে এই দেশে চায় না; আপনাকে ফাঁসির মঞ্চে দেখতে চায়। এ বিষয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শহীদ পরিবার ও
জুলাইযোদ্ধাদের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল এবং তিনিই সবচেয়ে বড় জুলাইযোদ্ধা।” তিনি আরও জানান, আন্দোলন চলাকালে ৩৬ দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দুই শতাধিকবার এবং ৫ আগস্ট ১০ থেকে ১২ বারের বেশি কথা হয়েছে।
জুলাইযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাঁদপুরে জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা অন্তত ৫০ হাজার। তাঁদের সকলের জন্যে তাঁর দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় ফোন রিসিভ করতে না পারলেও বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার তাঁকে সব সময় পাওয়া যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “আপনারা চাইলে এক দিন পুরো সময় আপনাদের কথা শুনবো।” এছাড়া শহীদ পরিবার ও
জুলাইযোদ্ধাদের জন্যে প্রধানমন্ত্রী একটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানান তিনি।
সামাজিক সম্প্রীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “ভিউ বাড়ানোর জন্যে এমন কোনো কথা বলা যাবে না, যাতে অন্যের সম্মানহানি হয়। আমাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি রাখা যাবে না। ওয়াসিম-মুগ্ধ আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়।” তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টরা যেন কোনোভাবেই আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. নুর আলম দীন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফয়সাল আহমেদ বাহার, চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল পাটোয়ারী এবং সদস্য সচিব মো. জিয়াউর রহমান সোহাগসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে আমন্ত্রিত জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।








