প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৮
শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ
আরও ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
অধিগ্রহণের কাজে ৪৩০ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ

শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ
|আরো খবর
আরও ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ।। অধিগ্রহণের কাজে ৪৩০ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় এবং ভূমি অধিগ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর নানা অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে থমকে আছে শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ। তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ। প্রকল্পের ৬ বছর কেটে গেলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ মাত্র ৬ কিলোমিটারেই থমকে আছে। তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় ৯৫ দশমিক ৮৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাবদ সরকারি বরাদ্দ ছিলো ৪৩০ কোটি টাকা। কিন্তু ৪৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতেই সব টাকা শেষ হয়ে গেছে বলে জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে। বরাদ্দের সব টাকা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও জমি অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ। টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আরও ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন সহজে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াতের জন্যে ২০০১ সালে চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক চালু হয়। সড়কটি সরু ও চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় বিগত সরকার। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণ করতে ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৪ লেনের সড়কের জন্যে জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৪৩০ কোটি ও ২ লেনের ৩৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণে বাকি ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিলো ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় তৃতীয় দফায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু মাত্র ছয় কিলোমিটার কাজ করার পর অধিগ্রহণের জমি বুঝে না পাওয়ায় ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। এখনো ৪৬ দশমিক ৯৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা বাকি। এখন তৃতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সওজ। সড়ক ও জনপথের চিঠি পাওয়ার পর নকশা অনুযায়ী ৯৫ দশমিক ৮৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে জমির মালিকদের নোটিশ দেয় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা। এরপর জমির অবস্থান, স্থাপনা ও গাছপালা দেখার জন্যে ভিডিও ধারণ করা হয়। কিন্তু ভিডিও ধারণের আগে ও পরে স্থানীয় কয়েকটি চক্র ফাঁকা জমির ওপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে। এলএ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই চক্রের সঙ্গে মিলে অবৈধ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিওতে নেই এমন স্থাপনা কিংবা সড়কের নকশার মধ্যে নেই--এমন স্থাপনারও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছোট গাছকে বড়ো ও মাঝারি গাছের মতো দেখিয়ে অস্বাভাবিক বিল দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করলেও এখন সেই স্থাপনা অধিগ্রহণ করা জমিতে নেই।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, ডিপিপিতে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা কম ধরা হয়েছিলো। এ জন্যে অধিগ্রহণ শেষ না হতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে জমি বুঝে না পাওয়ায় তিন দফা দরপত্র দিয়েও ২৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ করা যায়নি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের তৃতীয় dফার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন মেয়াদ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে আছে। মেয়াদ বাড়লে ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হবে। যার মধ্যে জমি অধিগ্রহণে ৩০০ কোটি ও সড়ক নির্মাণে বাকি ১১৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন ২০১৭-এর ৭ ধারার ৩ (ক) উপধারায় বলা আছে, অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত বা নির্মাণাধীন ঘরবাড়ি বা অবকাঠামো জেলা প্রশাসক যৌথ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবেন না। ৮ ও ৯ ধারায় বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের যৌথ তদন্তে বাদ পড়া স্থাপনার মালিকদের কোনো আপত্তি থাকলে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করতে হবে। কমিশনার ৭ বা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবেন। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে জমিতে বানানো অবৈধ স্থাপনার জন্যেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও আইন মানা হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জমি অধিগ্রহণের নানা দুর্নীতির চিত্র। নকশায় নেই, প্রকল্প অনুমোদনের পর ধারণকৃত ভিডিওতে ধরা পড়েনি, তবু সেসব ‘অস্তিত্বহীন’ স্থাপনার বিপরীতে দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে প্রধান কারণ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা। জমি অধিগ্রহণে অবৈধ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ আদায়, আইনের তোয়াক্কা না করে বিল ও অধিগ্রহণের টাকা ছাড়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। সড়কটি ভেদরগঞ্জের বালারবাজার এলাকার চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমিটিতে বিভিন্ন অবকাঠামো আছে। অধিগ্রহণের সময় জেলা প্রশাসনের করা ভিডিওতে দেখা গেছে, জমিতে একতলা একটি ভবন। কিন্তু ক্ষতিপূরণের সময় ভবনটির দ্বিতীয়তলার একাংশে একটি আধপাকা টিনের ঘর দেখিয়ে অন্তত ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শফিকুল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভেদরগঞ্জ উপজেলার পাপরাইল এলাকার জয়নাল খাঁর অধিগ্রহণ করা জমিতে কিছু গাছপালা আছে। এলএ শাখা থেকে জমিতে বিভিন্ন জাত ও আকৃতির ২০০টি গাছ দেখানো হয়েছে। ৫ দশমিক ৮ ইঞ্চি সাইজের একেকটি গাছের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। কিন্তু ওই আকৃতির একটি গাছও তাঁর জমিতে নেই। বাগানটির ২০০ গাছের জন্যে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। জয়নাল খাঁ বলেন, ডিসি অফিসের লোকজন তালিকা করার পর বন বিভাগের লোকজন বিল তৈরি করেছেন। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। সদর উপজেলার চরকাশাভোগ এলাকা থেকে সড়কটি শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় এখানে নিজের জমিতে দুটি টিনশেডের ঘর নির্মাণ করেছিলেন শাহিদা বেগম। এলএ শাখা স্থাপনা দুটিকে জনস্বার্থবিরোধী তালিকাভুক্ত করে ক্ষতিপূরণের তালিকা থেকে বাদ দেয়। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আপত্তি দাখিল করেন শাহিদা। জেলা প্রশাসকের পক্ষে শুনানির পর তাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এভাবে আইনের তোয়াক্কা না করে এলএ শাখা সড়কটির ১৯টি এলএ কেসের অন্তত ১২০টি আপত্তি নিজেরাই নিষ্পত্তি করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি চরকাশাভোগ এলাকায় গিয়ে ৪৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নেওয়া শাহিদার ঘর দুটিকে দেখতে পাওয়া যায়নি। তিনিও বাড়িতে ছিলেন না। শাহিদার ছেলে শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সড়কটি নির্মাণের খবর পেয়ে তার বাবা ঘর দুটি নির্মাণ করেছিলেন। ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার পর সরকারের কাছ থেকে ঘরগুলো কিনে নিয়ে তারা ভেঙ্গে ফেলেন। সদর উপজেলার দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার চাঁন শরিফ মোল্যার জমিতে একটি দোতলা ভবনের ওপর আংশিকভাবে তৃতীয় তলা নির্মাণ করা ছিলো। সেই স্থাপনার বিপরীতে জেলা প্রশাসন তাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দিয়েছে। সরেজমিন সেই স্থাপনাটি আর পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় মোস্তফা সরদার নামের এক ব্যক্তির অধিগ্রহণ করা জমিতে পাকা ভবনসহ ছয়টি অবকাঠামো ছিলো। এলএ শাখা তাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৪ লাখ টাকা দিয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো স্থাপনা নেই। এখন অধিগ্রহণ করা জমিতে অনুমতি না নিয়ে এলপিজি পাম্প বসিয়েছেন মোস্তফা সরদার। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার পর সরকারি অফিসের লোকজন স্থাপনাগুলো বিক্রি করে দিচ্ছিলো। তাই আমরা কিনে নিয়েছি। সেই স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে পাম্প চালু করেছি।
জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা নিতে লাগে ঘুষ। দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার মনোয়ারা বেগম ও আবদুল মালেক ফকির দম্পতির ৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমির ওপর একটি টিনের ঘর ছিলো। ঘরটির ক্ষতিপূরণের ১৬ লাখ টাকা তুলতে তাদের এলএ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এই দম্পতি। আবদুল মালেক বলেন, ‘টাকা ছাড়া চেক দিচ্ছিলো না। দিনের পর দিন ঘুরেছি। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণের চেক আনতে হয়েছে।’ ওই এলাকার নান্নু সরদারের একতলা ভবনের কিছু অংশ অধিগ্রহণে পড়েছে। ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা নিয়েছেন তিনি। কিন্তু টাকা উত্তোলনে তার কাছ থেকে ভ্যাটের কথা বলে এলএ শাখার লোকজন ৬ শতাংশ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ তার। ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে আইন অমান্য করে তিনি একতলা ভবনের ওপর তিনতলা নির্মাণ করেছেন। নান্নু সরদার বলেন, "ভ্যাটের কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬ শতাংশ টাকা নিয়েছেন এলএ শাখার সার্ভেয়াররা। তারা অফিসের ভেতরে কোনো টাকা নেননি। বাইরে তাদের নির্ধারিত ব্যক্তির কাছে টাকা পৌঁছে দেয়ার পর আমাদের চেক দিয়েছেন।"
এলএ শাখার সার্ভেয়ার আবু তাহেরের বক্তব্য নিতে দুদিনে কয়েক দফা ফোন করা হয়। খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। কিন্তু সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলএ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, "কারা টাকা নেন, তা আমি জানি না। আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।" আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে বলেন, "এটা আগের ঘটনা। তাই আমি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবো না।" শরীয়তপুর জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে গাছপালার যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তা সরেজমিন দেখে তারপর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার কাছে কোনো অনিয়মের তথ্য আসেনি। কাজটি সমন্বয় করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ক্ষতিপূরণ নেওয়ার পর যেসব স্থানে এখন অবকাঠামো না থাকার অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে তিনি খতিয়ে দেখবেন। ক্ষতিপূরণ নেওয়া ব্যক্তিকেই ওই অবকাঠামো বুঝিয়ে দিতে হবে।
এলএ শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম বলেন, '‘আমি আসার পর এলএ শাখা থেকে অনেককে বদলি করেছি। শাখাটি ঢেলে সাজিয়েছি।’' ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তখন তিনি শরীয়তপুরে কর্মরত ছিলেন না উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম আরো বলেন, ‘'আমি শুরু থেকে বলেছি, কোনো প্রকার পারসেনটেজ কেউ নেবেন না। আমার জানামতে কেউ নেননি। আমি অনেককে বলেছি, সুনির্দিষ্টভাবে আমাকে প্রমাণসহ দেন, অবশ্যই আমি ব্যবস্থা নেবো। এখন পর্যন্ত কেউ তা দেননি। এ ব্যাপারে কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।’' সূত্র : ইনকিলাব ডসিকে /এমজেডএইচ








