প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০১
১১৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী আশিকাটি হরিসভা: উন্নয়নে সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা

চাঁদপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রায় ১১৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘আশিকাটি শ্রী শ্রী সচ্চিদানন্দ শ্যামসুন্দর হরিসভা’ আজও কাঙ্ক্ষিত সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে সংশ্লিষ্টরা সরকারি সহযোগিতার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
|আরো খবর
বাংলা ১৩১৯ বঙ্গাব্দ (ইংরেজি ১৯১২ সাল) চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম আশিকাটি গ্রামে ৫৪ শতাংশ জমির ওপর এই হরিসভাটি প্রতিষ্ঠা করেন স্বর্গীয় রাজকুমার চক্রবর্তী, নন্দকুমার চক্রবর্তী ও রামকান্দ চক্রবর্তীসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি বছর মহোৎসব, হরিনাম সংকীর্তন, জন্মাষ্টমী, দোল পূর্ণিমা, নারায়ণ সেবা ও গীতা পাঠসহ নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন।
হরিসভাটি হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং- ১২৮৫১/চাঁদ/১৮)। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত অধিকাংশ অবকাঠামো ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে।
হরিসভা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারাধন চন্দ্র দত্ত বলেন, “প্রতিষ্ঠার ১১৫ বছর অতিক্রম করলেও সরকারি সহায়তা খুবই সীমিত। প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলা পরিষদ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তিন বছর আগে জেলা প্রশাসন থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিলাম, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।” তিনি আরও জানান, বর্তমান অবকাঠামো ছোট হওয়ায় বড় পরিসরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মন্দির ও নাটমন্দির সম্প্রসারণে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার প্রয়োজন।
পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র পর্বত (বিষ্ণু) জানান, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রায়ই বেগ পেতে হয়। তিনি মন্দির সংস্কার, কীর্তনীয়া দলের আবাসন এবং উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।
কমিটির উপদেষ্টা ডা. জহরলাল আচার্য্য বলেন, “জেলার অন্যতম প্রাচীন এই উপাসনালয়ে প্রতি বছর কয়েক হাজার ভক্ত সমবেত হন। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে যথাযথভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হয় না। আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
হরিসভার সদস্য ও ব্যবসায়ী সুমন চন্দ্র দে জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রার্থনায় শতাধিক ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসেন। তবে স্থান সংকুলান ও অবকাঠামোর অভাব একটি বড় বাধা। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ জরুরি।”
স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ভক্তরা মনে করছেন, জেলার এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। ডিসিকে /এমজেডএইচ







