প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৬
পুলিশের সাংবাদিক সম্মেলন ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মতলব উত্তরে ক্লুলেস শাকিলা মৃত্যুরহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মতলব উত্তরে চাঞ্চল্যকর শাকিলা আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় মতলব উত্তর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব তদন্তের অগ্রগতি, আলামত বিশ্লেষণ ও গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এদিকে মামলার প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
|আরো খবর
সাংবাদিক সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মতলব উত্তরের নন্দলালপুর শিবপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় পথচারীরা মতলব উত্তর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পিবিআইয়ের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত শাকিলা আক্তার (২৪) ষাটনল ইউনিয়নের রঙ্গুখারকান্দি এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, শাকিলা নার্স হিসেবে নারায়ণগঞ্জের একটি ক্লিনিকে কর্মরত ছিলেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িতে আসেন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কর্মস্থলে ফেরার জন্যে বের হন। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতার এজাহারের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেলা পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানের সার্বিক নির্দেশনা এবং থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডলের তত্ত্বাবধানে এসআই একেএম ইউনুস, এএসআই রবিউল ইসলামসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল টানা তিন দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে গোসাইরহাট এলাকার দুর্গম চরাঞ্চল থেকে মামলার প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, প্রায় দু বছর আগে ছেংগারচর এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরির সময় বিল্লালের সঙ্গে শাকিলার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রায় চার মাস আগে তারা স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে ডেমরা এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন, যদিও তাদের বিয়ে নিবন্ধিত ছিলো না। বিয়ের রেজিস্ট্রি ও বিল্লালের প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করায় দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই বাসায় শাকিলা ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিল্লাল মরদেহ গাড়িতে করে ডেমরা থেকে মতলব উত্তরের নন্দলালপুর শিবপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ শেষে মামলার তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, এসআই একেএম ইউনুস, এসআই সুমন চন্দ্র দাসসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মতলব উত্তর থানার সামনে শাকিলা হত্যা মামলার প্রধান আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার, মা আফিয়া বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার রোকন, শাহিন আলম, মামুন, আউয়াল বেপারী, মামুন দেওয়ান, বুলবুল প্রমুখ ।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, শাকিলা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কেউ করার সাহস না পায়। তারা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাই তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি না করে দ্রুত চার্জশীট দাখিল ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।








