প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১৮:০২
আমি ব্রাজিল সমর্থক, কারণ আমি সুন্দর ফুটবলের সমর্থক
---ওবায়দুর রহমান

চাঁদপুর রোটার্যাক্ট ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে নাতিদীর্ঘ লেখা লিখে ফেলেছেন, চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠকদের জন্যে সেটি নিচে তুলে ধরা হলো--- বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন এবং পরিচয়ের অংশ। প্রতি চার বছর পর যখন বিশ্বকাপের বাঁশি বাজে, তখন পৃথিবী যেন এক বিশাল পরিবারে রূপ নেয়। বিভিন্ন দেশের মানুষ তাদের প্রিয় দলের পক্ষে গলা ফাটায়, স্বপ্ন দেখে এবং বিজয়ের আনন্দে মেতে ওঠে। এই বিশাল ফুটবল পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি গর্বের সঙ্গে নিজেকে ব্রাজিল সমর্থক বলে পরিচয় দিই।
|আরো খবর
অনেকেই প্রশ্ন করেন, "কেন ব্রাজিল?" আমার উত্তর খুব সহজ— ব্রাজিল শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটি ফুটবলের সৌন্দর্যের প্রতীক।
ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অর্জন অন্য যে কোনো দেশের জন্যে ঈর্ষণীয়। ব্রাজিলই একমাত্র দেশ যারা প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে এবং পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। এই সাফল্য কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি ধারাবাহিকতা, প্রতিভা এবং ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। যখন ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দলগুলোর কথা বলা হয়, তখন ব্রাজিলের নাম সবার আগে আসে। কারণ তারা শুধু ট্রফি জেতেনি, তারা ফুটবলকে আরও সুন্দর করেছে।
ফুটবলকে শিল্পে পরিণত করার নাম ব্রাজিল।
বিশ্বের অনেক দল জয়ের জন্যে খেলে, কিন্তু ব্রাজিল খেলে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যে। তাদের খেলার মধ্যে রয়েছে ছন্দ, গতি, কৌশল এবং সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মিশ্রণ।
ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা কখনো শুধুমাত্র বল পাস করে না, তারা যেন বলের সঙ্গে নাচে। ড্রিবলিং, স্কিল, ওয়ান-টাচ পাস এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল ব্রাজিলকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে।
ফুটবলের ভাষায় একটি শব্দ খুব পরিচিত— "Joga Bonito", যার অর্থ "সুন্দর ফুটবল"। আর এই দর্শনের সবচেয়ে বড়ো প্রতিনিধি হলো ব্রাজিল।
কিংবদন্তিদের জন্মভূমি,
ফুটবল ইতিহাসের অনেক মহান তারকার জন্মস্থান ব্রাজিল। Pelé-কে অনেকেই সর্বকালের সেরা ফুটবলার মনে করেন। এরপর এসেছে Zico, Romário, Ronaldo Nazário, Ronaldinho, Kaká এবং বর্তমান প্রজন্মের Neymar Jr.।
এই কিংবদন্তিরা শুধু গোল করেননি, তারা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তাদের খেলা দেখে অসংখ্য শিশু ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে।
ব্রাজিল মানেই আবেগ।
ব্রাজিলে ফুটবল কোনো সাধারণ খেলা নয়, এটি তাদের সংস্কৃতি, পরিচয় এবং জীবনযাত্রার অংশ। দেশের ছোট্ট গ্রাম থেকে শুরু করে বড় শহর পর্যন্ত সর্বত্র ফুটবলের প্রতি একই ভালোবাসা দেখা যায়। হয়তো এ কারণেই ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং লড়াই করার মানসিকতা। তারা শুধু নিজেদের জন্য খেলে না, তারা খেলে পুরো জাতির স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে।
কেন সবার ব্রাজিল সমর্থন করা উচিত?
আমি মনে করি, ফুটবল ভালোবাসেন অথচ ব্রাজিলের প্রতি একটুও দুর্বলতা নেই—এমন মানুষ খুব কমই আছেন। কারণ ব্রাজিল এমন একটি দল, যারা ফুটবলের মৌলিক সৌন্দর্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
ব্রাজিলকে সমর্থন করার কয়েকটি কারণ হলো—
তারা আক্রমণাত্মক এবং দর্শনীয় ফুটবল খেলে।
ফুটবল ইতিহাসের সর্বাধিক সফল দল।
বিশ্বের সেরা সেরা খেলোয়াড়দের জন্ম দিয়েছে। খেলাকে আনন্দ ও সৃজনশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করে।
তাদের খেলা নতুন প্রজন্মকে ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট করে।
তবে "সবার ব্রাজিল সমর্থন করা উচিত"— এটি মূলত একজন সমর্থকের আবেগ। বাস্তবে ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো, প্রত্যেকে নিজের প্রিয় দলকে সমর্থন করতে পারে। কেউ আর্জেন্টিনা, কেউ জার্মানি, কেউ ফ্রান্স, কেউ ইংল্যান্ডকে ভালোবাসবে। কিন্তু ব্রাজিলের প্রতি মানুষের আলাদা আকর্ষণ থাকবে, কারণ তারা ফুটবলকে শুধুমাত্র ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি, তারা এটিকে শিল্পে রূপ দিয়েছে।
আমি ব্রাজিলকে সমর্থন করি, কারণ তারা আমাকে শিখিয়েছে ফুটবল কেবল জয়ের নাম নয়, এটি আনন্দের নাম; এটি সৃজনশীলতার নাম; এটি সৌন্দর্যের নাম।
যখন হলুদ জার্সি গায়ে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা মাঠে নামে, তখন মনে হয় ফুটবল তার আসল রূপে ফিরে এসেছে। জয় বা পরাজয় আসবে যাবে, কিন্তু ব্রাজিলের ফুটবল দর্শন চিরকাল বেঁচে থাকবে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে তাই আমার কণ্ঠে একটাই স্লোগান—
সাম্বার ছন্দে আবার মাতুক ফুটবলের পৃথিবী।
আমি ব্রাজিল, কারণ আমি সুন্দর ফুটবলের পক্ষে।








