প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি- ৬৯
বাবার আদর্শ অনুসরণে রাজরাজেশ্বরবাসীর সেবা করতে চাই
---------------- মো. কবির হোসেন চোকদার

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে পদার্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মো. কবির হোসেন চোকদারের রাজনৈতিক পথচলা। রাজনীতি করার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন নিজের ক্যারিয়ারও। রাজনৈতিক কারণে মামলা-হামলার শিকার হলেও কখনো এলাকা কিংবা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাননি। বিগত সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কৌশল অবলম্বন করে দলের জন্য নীরবে কাজ করে গেছেন। তিনি সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের কৃতী সন্তান এবং ব্যক্তিগত জীবনে একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, “বাবার আদর্শ অনুসরণে আমি রাজরাজেশ্বরবাসীর সেবা করতে চাই।” রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে কাজ করছেন তিনি। তাঁর ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন চাঁদপুর কণ্ঠের কাছে। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক প্রতিবেদন ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন’ বিষয়ে তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিম্নে প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো।
|আরো খবর
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোন পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?
মো. কবির হোসেন চোকদার : শুরুতেই চাঁদপুর কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানাই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। দেখুন, প্রতিটি মানুষেরই একটি স্বপ্ন থাকে। আর যারা রাজনীতি করেন, তাদের মূল লক্ষ্য থাকে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সেবা করা। সেই হিসেবে আমি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?
মো. কবির হোসেন চোকদার : পূর্বের প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় বলবো, আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। ছাত্র রাজনীতিতেই আমার হাতেখড়ি। তাছাড়া আমার বাবা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক চোকদার এই ইউনিয়নের একজন সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবং বাবার আদর্শকে ধারণ করে আসন্ন নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন/মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন, নাকি নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?
মো. কবির হোসেন চোকদার : আমি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ছাত্রদলের ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছি। এছাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য হিসেবেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলাম। বর্তমানে আমি ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক এবং একই সঙ্গে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি এবং তাঁর নেতৃত্বে মাঠে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করি।
দলের দীর্ঘ ১৫ বছরের কঠিন ও প্রতিকূল সময়ে, যখন অনেকেই রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না, তখনও আমি দলীয় কর্মকাণ্ড চালু রাখার চেষ্টা করেছি। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছি।
দীর্ঘ ২৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে পদ-পদবির চেয়ে দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ, সাংগঠনিক দায়িত্ববোধ এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশে থাকাকেই আমি সর্বদা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এসেছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে কি কেবল জনপ্রিয়তা যাচাই বা পরিচিতি লাভের জন্য প্রার্থী হতে চান, নাকি বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পুরোদমে মাঠে নেমেছেন?
মো. কবির হোসেন চোকদার : দেখুন, আমার রাজনৈতিক ইতিহাস দেখলেই বুঝতে পারবেন—পরিচিতি লাভের জন্য নয়, মানুষের সেবা করার মনমানসিকতা নিয়েই নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী আমাকে চেনেন। এছাড়া ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গেও আমার সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর রহমতে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কেমন করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন কি?
মো. কবির হোসেন চোকদার : নির্বাচনকেন্দ্রিক আমার প্রধান পরিকল্পনা হলো জনগণের সরাসরি, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়া। ভোটারদের সঙ্গে আমার প্রতিদিনের যোগাযোগ রয়েছে। যেহেতু রাজনীতি করি, সেহেতু এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকি। এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি বিধায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করিনি। তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার নেতা শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাইয়ের জন্য ধানের শীষের প্রতীকে ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের মতামত জেনেছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি কতটুকু আশাবাদী? কোনো পরামর্শ আছে কি?
মো. কবির হোসেন চোকদার : নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হবে বলে আমি আশাবাদী। কারণ আমাদের দলীয় প্রধানের অঙ্গীকার হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। দেশের জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিলো। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে ভোটারদের উদ্দেশে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চান কি?
মো. কবির হোসেন চোকদার : এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমার বাবা যেভাবে সততার সঙ্গে কাজ করে গেছেন, আমিও ঠিক তেমনি শতভাগ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এলাকা ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করবো। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরে রিয়েল এস্টেট/ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে, যা আমাদের এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগবে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য আছে কি?
মো. কবির হোসেন চোকদার : দীর্ঘ সতের বছরের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে আমরা আজ একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে চলছি। চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের সন্তান হিসেবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হবে এলাকার পরিবেশ ও ফসলি জমি রক্ষা করা। আমাদের ইউনিয়নের নতুন জেগে ওঠা চর—যাকে অনেকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলেন—তার পশ্চিম পাশে এবং মালকান্দির পূর্ব দিকে প্রকল্পের নামে অবৈধভাবে এক্সেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এটি আমাদের ইউনিয়নের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি।
অতীতেও আমরা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। কোনো হুমকি, চাপ কিংবা অর্থনৈতিক লোভ আমাদের দমাতে পারেনি। কারণ এই মাটি ও জমিই আমাদের অস্তিত্ব। আজ আবারও এক হওয়ার সময় এসেছে; দল-মত নির্বিশেষে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অনতিবিলম্বে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করে জড়িত ভূমিদস্যুদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমরা রাজরাজেশ্বরবাসী পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই—এই ইউনিয়নে কোনো ভূমিদস্যুর ঠাঁই হবে না। জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের মাটি ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করবো।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








