বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৫

সমবায় সমিতিটি নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধকের এমন মন্তব্য অশেষ গৌরবের!

অনলাইন ডেস্ক
সমবায় সমিতিটি নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধকের এমন মন্তব্য অশেষ গৌরবের!

একটি সমবায় সমিতির কার্যক্রম পরিদর্শন করতে গিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকিরের অকপট স্বীকারোক্তি—‘আপনাদের সমিতিতে এসে আমি নিজেই অনেক কিছু শিখলাম’—নিঃসন্দেহে বিরল প্রশংসা ও স্বীকৃতির স্মারক। তাঁর এই মন্তব্য কেবল চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের জন্যই নয়, সমগ্র চাঁদপুর জেলার জন্যও অশেষ গৌরবের। কারণ, এ জেলা জসিম উদ্দিন শেখের মতো একজন মেধাবী, দূরদর্শী ও দক্ষ সংগঠককে লালন করেছে, যাঁর নেতৃত্বে একটি সমবায় প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

সাধারণত সমবায় সমিতির মূল শক্তি হওয়ার কথা পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও সদস্যদের কল্যাণ। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিস্বার্থ, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাব সমবায়ের মহৎ উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। এমন বাস্তবতায় চান্দ্রা সমবায় সমিতির কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রত্যক্ষ করে খোদ সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের সন্তোষ প্রকাশ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁর বক্তব্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা নয়; বরং দেশের সমবায় অঙ্গনে অনুসরণযোগ্য একটি দৃষ্টান্তের স্বীকৃতি।

সমিতিটির নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি ‘চান্দ্রা সফটওয়্যার’ এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাপনা সমিতির কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি প্রমাণ করেছে, সদিচ্ছা, মেধা ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটলে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সমিতির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন শেখ ও তাঁর সহকর্মীদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তাঁদের সাফল্য দেশের অন্যান্য সমবায় সমিতির জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।

 আমরা বিশ্বাস করি, চান্দ্রা সমবায় সমিতি কেবল জাতীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার মানদণ্ড অক্ষুণ্ন রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; যথাযথ পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং সদস্যদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করবে। এমনকি বিশ্বের সমবায় আন্দোলনে একটি অনন্য মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও এ সমিতির রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অর্জিত সাফল্যকে চূড়ান্ত গন্তব্য না ভেবে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

এখানে একটি সতর্কতার কথাও স্মরণ রাখা জরুরি। প্রশংসা যেমন অনুপ্রেরণা জোগায়, তেমনি তা কখনো কখনো আত্মতুষ্টি ও অহংকারের জন্ম দিতে পারে। আজ যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সমিতিটিকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করেছে, আগামী দিনেও তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই হবে প্রকৃত সাফল্যের পরীক্ষা। কোনো অহংকার, কোনো অনিয়ম কিংবা কোনো ব্যক্তিস্বার্থ যেন কখনোই সমিতির অর্জন ও আদর্শকে গ্রাস করতে না পারে। নেতৃত্বের স্বচ্ছতা, ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা এবং সদস্যদের আস্থা অটুট রাখার ক্ষেত্রে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

পরিশেষে, চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। সমবায় অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন অকপট প্রশংসা সমিতিটির সামনে নতুন দায়িত্ব ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই স্বীকৃতির মর্যাদা রক্ষা করে সমিতিটি আরও বহুদূর এগিয়ে যাক, চাঁদপুরের মুখ উজ্জ্বল করুক এবং দেশের সমবায় আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে গৌরবময় অবস্থানে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখুক—এটাই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা।

    

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়