প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১
খেজুরবন, ঝরনা ও প্রাচীন নিদর্শনে ঘেরা সৌদির বিস্ময়কর উপত্যকা ওয়াদি আল-দিসাহ

সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক অঞ্চলে মরুভূমির বিস্তীর্ণ ভূদৃশ্যের মাঝখানে রয়েছে এক অনন্য প্রাকৃতিক ভূখণ্ড—ওয়াদি আল-দিসাহ। সুউচ্চ পাথুরে দেয়াল, খেজুরগাছ, মিঠাপানির ঝরনা এবং প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উপত্যকা দেশটির অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থান।
ওয়াদি আল-দিসাহকে স্থানীয়ভাবে ‘ওয়াদি দামাহ’ নামেও উল্লেখ করা হয়। এটি তাবুক প্রদেশের আল-দিসাহ এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিস্তৃত ওয়াদি বা জলপ্রবাহ ব্যবস্থা, যা প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভের ভৌগোলিক পরিসরের মধ্যে অবস্থিত।
‘দিসাহ’ নামের সঙ্গে খেজুরে ঘেরা উপত্যকার অর্থগত সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চল তার খেজুরগাছ, প্রাকৃতিক ঝরনা এবং পাথুরে ভূদৃশ্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ওয়াদি আল-দিসাহকে শুধু একটি ছোট গিরিখাত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত বিস্তৃতি বোঝা যায় না। ‘সৌদিপিডিয়া’র তথ্য অনুযায়ী, মূল ওয়াদি ব্যবস্থার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২৫ কিলোমিটার এবং এর সঙ্গে একাধিক শাখা-উপত্যকা যুক্ত রয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াদি কারাকির ও ওয়াদি শাওয়াক।
অন্যদিকে পর্যটনবিষয়ক সৌদি সরকারি গাইডে ওয়াদি আল-দিসাহর প্রায় ১৫ কিলোমিটারের একটি ট্রেকিং অংশের কথা বলা হয়েছে। ফলে ১৫ কিলোমিটারকে পুরো ওয়াদির দৈর্ঘ্য বলা সঠিক নয়; এটি মূলত দর্শনার্থীদের পরিচিত হাঁটার পথ বা উপত্যকার মনোরম অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাবুক শহর থেকে ওয়াদি আল-দিসাহর প্রধান প্রবেশপথের দূরত্ব আনুমানিক ২৬০ কিলোমিটার। সুতরাং এটি তাবুক শহরের কাছাকাছি কোনো সাধারণ শহরতলীর পর্যটনস্থান নয়; বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় এমন একটি আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক গন্তব্য।
উপত্যকাটির ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কোথাও খাড়া পাথুরে প্রাচীর, কোথাও উঁচু শিলাস্তম্ভ, আবার কোথাও সরু গিরিখাতের মতো পথ দেখা যায়। এই ভূ-আকৃতিই ওয়াদি আল-দিসাহকে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের অন্য অনেক মরুভূমি এলাকা থেকে আলাদা করে তুলেছে। সরকারি সূত্রে এই অঞ্চলের পাহাড় ও পাথুরে প্রান্তগুলোকে উঁচু শিলাস্তম্ভসমৃদ্ধ ভূদৃশ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ওয়াদি আল-দিসাহ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই উচ্চতা, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং পানির উপস্থিতি মিলিয়ে এখানে আশপাশের শুষ্ক মরুভূমির তুলনায় ভিন্ন এক প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ওয়াদির সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর মিঠাপানির ঝরনা। সরকারি তথ্যে জানা যায়, এই অঞ্চলে এমন কিছু ঝরনা রয়েছে যা সারা বছর প্রবহমান থাকে। সৌদিপিডিয়া ওয়াদি আল-দিসাহ অঞ্চলের কয়েকটি ঝরনার নামও উল্লেখ করেছে; এর মধ্যে আইন আল-জারকা, আল-তারিফ ও আল-নামাতিয়াহ উল্লেখযোগ্য। এসব পানির উৎস উপত্যকার উদ্ভিদজগৎ ও স্থানীয় পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মরুভূমির মাঝে পানির উপস্থিতির কারণে ওয়াদির তলদেশ ও আশপাশে খেজুরগাছসহ নানা উদ্ভিদ জন্ম নিয়েছে। সরকারি তথ্যে খেজুরের পাশাপাশি প্যাপিরাস, ওলিয়েন্ডার, ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ ও মেহেদির মতো উদ্ভিদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ রয়েছে। এই সবুজ উদ্ভিদরাজি এবং খাড়া পাথুরে পাহাড়ের বৈপরীত্য ওয়াদি আল-দিসাহর দৃশ্যপটকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। একদিকে শুষ্ক মরুভূমির রূপ, অন্যদিকে সবুজ খেজুরবন ও পানির প্রবাহ—দুই ভিন্ন প্রকৃতির মেলবন্ধন দেখা মেলে এখানে।
ওয়াদি আল-দিসাহ কেবল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যই আকর্ষণীয় নয়, এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যও। সৌদি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকা ও আশপাশের এলাকায় প্রাচীন বসতির চিহ্ন, সমাধি, শিলালিপি এবং পাথরে খোদাই করা বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো নাবাতীয় সমাধির পাথর কেটে তৈরি অসম্পূর্ণ সম্মুখভাগ। এসব নিদর্শন অঞ্চলটির প্রাচীন মানববসতি ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। ওয়াদি আল-দিসাহ অঞ্চলে নাবাতীয় এবং আরবি লেখার নিদর্শনও পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কিছু লেখা কুফিক লিপিতে খোদাই করা।
প্রাচীন বসতির দেওয়ালের ধ্বংসাবশেষও এখানে রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে উপত্যকার পরিবেশ অতীতে মানুষের বসবাস ও বিভিন্ন কার্যক্রমের উপযোগী ছিল। আল-দিসাহ গ্রামের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় আল-মুশাররাফ, আল-সুখনা ও আল-মাসকুনাহ নামে কয়েকটি বসতির অবশেষের কথা সৌদিপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে। এসব স্থান প্রাচীন মানববসতির ধারাবাহিকতা বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রাচীন আরবের বাণিজ্য ও যাতায়াতের ইতিহাসের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে বর্তমান সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এটিকে নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্যপথের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা না করে বলা যায় যে, অঞ্চলটি প্রাচীন মানববসতি ও চলাচলের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস বহন করে।
এই উপত্যকার ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সৌদি ভূতাত্ত্বিক তথ্যভিত্তিক সরকারি বিবরণে বিস্তৃত পাহাড়, শিলা, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং প্রাচীন ও আধুনিক অবক্ষেপণ পরিবেশের বৈচিত্র্যের কথা বলা হয়েছে। ওয়াদি আল-দিসাহ যে সংরক্ষিত বৃহৎ প্রাকৃতিক ভূখণ্ডের অংশ, তা এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত, যার আয়তন প্রায় ২৪,৫০০ বর্গকিলোমিটার এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র রয়েছে। সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখানকার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় প্রজাতির পুনরুদ্ধার অন্যতম। সংরক্ষণ এলাকার বৃহত্তর জীববৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল থাকলেও, ওয়াদি আল-দিসাহতেই নিয়মিত নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণীর দেখা মিলবে—এমন দাবি করা তথ্যগতভাবে অতিরঞ্জিত হতে পারে।
ওয়াদি আল-দিসাহর সৌন্দর্য উপভোগের অন্যতম সেরা উপায় হলো হেঁটে ঘুরে বেড়ানো বা ট্রেকিং। সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের গাইডে এখানে ট্রেকিং, পিকনিক এবং পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে উপত্যকার পাথুরে দেয়াল, খেজুরগাছ ও পানির উৎসের সমন্বিত দৃশ্য ফটোগ্রাফির জন্য দারুণ। দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলো পাথুরে দেওয়ালে ভিন্ন ভিন্ন ছায়া তৈরি করে, যা এই ভূদৃশ্যকে আরও নাটকীয় করে তোলে।
সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের একটি অ্যাডভেঞ্চার গাইডে ওয়াদি আল-দিসাহর ট্রেকিংয়ের জন্য নভেম্বর থেকে মার্চ মাসকে সবচেয়ে উপযোগী সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মরুভূমি অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলা জরুরি। ওয়াদি আল-দিসাহর ভবিষ্যৎ পর্যটন সম্ভাবনাকে সরকারও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) ‘ওয়াদি আল-দিসাহ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ চালুর ঘোষণা দেয়। ওই প্রকল্পের ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, টেকসই পর্যটন উন্নয়ন এবং এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে পর্যটনসম্পদ হিসেবে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
প্রকল্প ঘোষণার সময় পিআইএফ জানিয়েছিল, উন্নয়নকাজ আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ করে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। ওয়াদি আল-দিসাহর অবস্থান সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ পর্যটন ভূদৃশ্যের সঙ্গেও যুক্ত; এর আশপাশে নিওম, আমালা এবং রেড সি-কেন্দ্রিক বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ রয়েছে।
তবে আধুনিক পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষার বিষয়টিও অত্যন্ত সংবেদনশীল। পাথরে খোদাই করা লেখা, সমাধি ও প্রাচীন বসতির অবশেষ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। তাই ওয়াদি আল-দিসাহ ভ্রমণের ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। প্রাচীন শিলালিপি স্পর্শ বা ক্ষতিগ্রস্ত করা, পাথরে নতুন লেখা খোদাই করা কিংবা প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু সরিয়ে নেওয়া এই ঐতিহ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ওয়াদি আল-দিসাহর বিশেষত্ব মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—প্রকৃতি, পানি ও ইতিহাস। মরুভূমির মাঝে সবুজ খেজুরগাছ ও ঝরনা যেমন এর প্রাকৃতিক পরিচয় তৈরি করেছে, তেমনি নাবাতীয় সমাধি, প্রাচীন লেখা ও বসতির অবশেষ একে দিয়েছে ঐতিহাসিক গভীরতা। এই উপত্যকা সৌদি আরবের মরুভূমিকে শুধু বালু ও শুষ্কতার প্রতীক হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণাকেও বদলে দেয়। এখানে পাহাড়ের পাদদেশে পানি, সবুজ উদ্ভিদ এবং প্রাচীন মানুষের রেখে যাওয়া নিদর্শন একই ভূদৃশ্যে পাশাপাশি অবস্থান করছে।
ওয়াদি আল-দিসাহর গল্প মূলত প্রকৃতি ও মানুষের দীর্ঘ সহাবস্থানের গল্প। পাহাড় ও পানির উৎস একটি বিশেষ পরিবেশ তৈরি করেছে, আর সেই পরিবেশকে ঘিরেই বিভিন্ন সময়ে মানুষের বসতি, চলাচল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চিহ্ন গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সৌদি আরব যখন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরছে, ওয়াদি আল-দিসাহ সেই পরিবর্তনেরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে পর্যটনের যেমন অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তাও।
ভবিষ্যতে সঠিক সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ওয়াদি আল-দিসাহ উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। খাড়া পাথুরে প্রাচীরের নিচে খেজুরগাছ, ঝরনার পানি, প্রাচীন শিলালিপি আর নিস্তব্ধ মরুভূমির পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়ে ওয়াদি আল-দিসাহ সৌদি আরবের ভূপ্রকৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য সম্মিলন।
তাই ওয়াদি আল-দিসাহকে শুধু ‘সৌদি আরবের একটি সুন্দর উপত্যকা’ বললে এর প্রকৃত পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। এটি একই সঙ্গে একটি দীর্ঘ জলপ্রবাহ ব্যবস্থা, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ এলাকা এবং টেকসই পর্যটনের সম্ভাবনাময় গন্তব্য। উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের পাহাড়ি মরুভূমির বুক চিরে বিস্তৃত এই উপত্যকা তাই ভবিষ্যতের পর্যটকদের কাছে শুধু ছবি তোলার জায়গা নয়; এটি প্রকৃতি, ভূতত্ত্ব ও প্রাচীন আরবের ইতিহাসকে এক সুতোয় বাঁধার একটি জীবন্ত ক্ষেত্র।
ওয়াদি আল-দিসাহ সৌদি আরবের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের মানচিত্রে একটি বিশেষ নাম—যেখানে মরুভূমির নীরবতার মাঝে পানি বয়ে যায়, পাথরের গায়ে ইতিহাসের চিহ্ন টিকে থাকে এবং খেজুরবনের সবুজে একটি প্রাচীন উপত্যকার জীবন আজও জীবন্ত হয়ে ওঠে।







