প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯
শতবর্ষ পেরোনোর আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বিকশিত হবে ইসলাম

যুক্তরাষ্ট্র
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুক্তরাষ্ট্রে শতবর্ষ পার হওয়ার আগেই ইসলামের পতাকা উড়বে, ইনশাআল্লাহ। আমরা হয়তো তা নিজ চোখে দেখে যেতে পারব না, তবে গত মাত্র ৪০ বছরেই যে দেশে তিন হাজারেরও বেশি ইসলামিক সেন্টার গড়ে উঠেছেÑযার সাথে রয়েছে ইসলামিক স্কুল ও হিফজখানাÑসেখানকার বাস্তবতা আজ ভিন্ন এক বার্তা দিচ্ছে।
যে দেশে প্রতি বছর লাখ খানেক মানুষ ইসলামের শীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছেন, যেখানে ৯/১১-এর ঘটনার পর মুসলমানদের ওপর দায় চাপিয়ে ইরাক ও আফগানিস্তানে বহু মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই দেশেই আজ ইসলামের এই সুবাতাস বইছে, আলহামদুলিল্লাহ! জায়গার স্থান সংকুলান না হওয়ায় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি মসজিদেই এখন শুক্রবার দুটি করে জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, মাশাআল্লাহ! এমনকি অনেক স্থানে গির্জা কিনে সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করা হচ্ছে, কারণ সেসব গির্জায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মতো সামান্য ইসলাম জানা প্রকৌশলী, ডাক্তার ও বিজ্ঞানীরা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন উছিলায় এখানে সমবেত হয়েছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর একটি ‘মহা পরিকল্পনা’ (মাস্টার প্ল্যান) রয়েছে। বুয়েটের চাকরি ছেড়ে বন্ড দিয়েও শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নিÑসবই যেন আল্লাহর বিধান।
পেছনে ফিরে তাকালে দেখি, ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশ থেকে আসা এক নগণ্য মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও আমার ইসলামের জ্ঞান ছিলো শূন্যের কোঠায়। ছোটবেলায় মক্তবে গিয়ে কোরআনের শেষ ১০টি সূরা ও সূরা ফাতিহা মুখস্থ করেছিলাম মাত্র, কিন্তু সেগুলোর অর্থ বোঝার প্রয়োজনীয়তা কখনো অনুভব করিনি। আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি আল্লাহর রহমতে ‘হান্টসভিল ইসলামিক সেন্টার’-এর সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাই। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি নির্মাণ কমিটির ধাপে থাকার তাওফিক আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। পরবর্তীতে এর পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষা সম্পাদক, স্কুল বোর্ডের সহ-সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ এবং রোববার পরিচালিত বিশেষ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সাদামাটা জীবনযাপন করতাম, সাধারণ গাড়ি চালাতাম এবং ছোট ঘরে থাকতাম; কিন্তু মসজিদ ও বিদ্যালয়ের জন্য আমার দান করার মানসিকতা ছিলো উন্মুক্ত।
আমি একা নই, আমার মতো হাজার হাজার মুসলিম ভাই-বোনের অবদানেই আজ আমেরিকায় মুসলমানদের এই শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এই উদাহরণটি দেওয়ার কারণ হলোÑএখানে মাদ্রাসা থেকে পড়া আলেমদের সরাসরি ভূমিকা ছিলো না, কিংবা সৌদি আরবসহ কোনো মুসলিম দেশের ধনকুবের রাজাদের বিলিয়ন ডলারের সাহায্যও ছিলো না। কোনো অর্থসহায়তা ছাড়াই কীভাবে আমেরিকায় তিন হাজারের বেশি ইসলামিক সেন্টার গড়ে উঠলো? এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহর অশেষ কুদরত।
এবার অন্য একটি দিক বিবেচনা করা যাকÑকী অভূতপূর্ব হারে এখানে মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে! এই গতি বজায় থাকলে শতবর্ষও লাগবে না। এর একটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া যাক : আমি বুয়েট থেকে উচ্চশিক্ষার (পিএইচডি) উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থী হিসেবে আমেরিকায় এসেছিলাম। পরবর্তীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পিতা-মাতা, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাই-বোন এবং উভয় পরিবারের নিকটাত্মীয়দের আসার জন্য আবেদন করি। আমার মাধ্যমে কেবল এক পরিবার থেকেই ৩৩ জনেরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়ে এখানে স্থায়ী হয়েছেন। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির মাধ্যমে ৩৩ জন মুসলিমের আগমন ঘটেছে এবং এই ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান, কারণ তঁারাও তঁাদের আত্মীয়দের নিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছেন। এছাড়া যারা আগে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা অন্যান্য উপায়ে এসেছিলেন, তঁারাও নাগরিক হওয়ার পর স্বজনদের নিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, আমেরিকান শ্বেতাঙ্গদের পারিবারিক কাঠামো ভেঙে একক পরিবার গঠন ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। নতুন প্রজন্ম বিয়ে করে সন্তান নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে এবং ইউরোপ থেকেও অভিবাসীর আগমন আগের মতো হচ্ছে না। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন শ্বেতাঙ্গদের অনুপাত ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে হিস্পানিক ও এশীয়দের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর সংখ্যক হিস্পানিক নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন। সেখানকার ইসলামিক সেন্টারগুলো স্পেনীয় ভাষায় কোরআনের অনুবাদ প্রকাশ করে ইসলাম প্রচার করছে।
এভাবেই প্রতিনিয়ত আমেরিকায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছেÑসবই মহান আল্লাহর অশেষ রহমত।








