প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১
সড়কটির অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হোক

চাঁদপুর-হাইমচর সড়কের দোকানঘর চৌরাস্তা থেকে পুরানবাজার লোহারপুল পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০মিটার সড়কের মধ্যে ১ হাজার ১০০ মিটারের সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বাকি ৮০০ মিটারের সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ওই অংশটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের অসমাপ্ত অংশের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর ধরে সড়কটির অবস্থা খারাপ। বিশেষ করে গত এক বছরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত; সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে পানি ও কাদা জমে যায়। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। বয়োবৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে, আবার কোনো যানবাহন পাওয়া গেলেও তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
সড়কের দুরবস্থার প্রভাব শুধু যাতায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যানবাহন চালকদের অভিযোগ, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক্রেতারা বিকল্প পথে চলাচল করায় তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন কমে গেছে। অর্থাৎ একটি সড়কের সংস্কারকাজ অসম্পূর্ণ থাকার কারণে যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাকি ৮০০ মিটারের কাজ সম্পন্ন করতে ‘পিএমপি (মেজর) সড়ক’ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা এবং অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তবে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় শুধু প্রস্তাব পাঠানো বা বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের মাত্র ৮০০ মিটার অংশ সংস্কার না হওয়ায় যদি পুরো যোগাযোগব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা। একটি প্রকল্পের বড় অংশের কাজ শেষ করে অবশিষ্ট ছোট অংশ দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে সেই বিনিয়োগের সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যায় না।
তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিত প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্ভব হলে কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া। একই সঙ্গে সংস্কারকাজের মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি আবারও বেহাল হয়ে না পড়ে। কাজ চলাকালে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য বিকল্প বা নিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ব্যবস্থাও রাখা প্রয়োজন।
চাঁদপুর-হাইমচর সড়কটি স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এর বাকি ৮০০ মিটারের সংস্কারকে নিছক একটি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে না দেখে জননিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে দেখা দরকার। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ও দ্রুত উদ্যোগই এখন প্রত্যাশিত। অসমাপ্ত সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সড়কটি মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক।







