প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৬
‘এপ্রিল ফুল’ দিবস পালন যে কারণে ইসলামে নিষিদ্ধ

‘এপ্রিল ফুল’ অর্থ এপ্রিলের বোকা। এপ্রিল মাসের প্রথম তারিখে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘এপ্রিল ফুল’ নামে এক ধরণের জোক বা হাসি-মস্করাচ্ছলে, মিথ্যা হাস্যরস তৈরি করে, নানাভাবে মজা বা জোক করে অন্যকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়; মস্করা বা মিথ্যা কৌতুকচ্ছলে অন্যকে ভয় দেখিয়ে নিজেরা আনন্দ উপভোগ করে ‘এপ্রিল ফুল ডে’ উদযাপন করে থাকে। ধরুন, এপ্রিল মাসের প্রথম তারিখে একজন আপনাকে খুবই বেদনাদায়ক একটি ঘটনা শোনালো! শোনানোর পর আপনার চেহারা হতাশায় কালো হয়ে গেলো, আপনি ভয়ে হাউমাউ, কান্নাকাটি শুরু করলেন। তারপর সে হেসে আপনাকে বললো, আরে আজকে এপ্রিলের ১ম তারিখ। অর্থাৎ সে যে ঘটনা বললো সেটা বাস্তব নয়, ধোঁকা দেওয়া বা বোকা বানানোর জন্যে বলেছে। একইভাবে আপনাকে একটি পানের বা চকলেটের প্যাকেট দিলো, আপনি খুব আগ্রহের সাথে নিলেন। কিন্তু আপনি খুলে দেখলেন, ভেতরে কিছুই নেই। আপনি বোকা বনে গেলেন। তখন আপনি বুঝতে পারলেন বা আপনাকে বলা হলো, আজকে এপ্রিলের প্রথম তারিখ। মূলত এপ্রিল মাস উপলক্ষে একজন আরেকজনকে বোকা বানানোর তামাশাকে বলে এপ্রিল ফুল।
এপ্রিল ফুল দিবসের উদ্ভব বা ইতিহাস : এপ্রিল ফুল বা এপ্রিলের বোকা দিবস পালনের প্রচলন নিয়ে নানা মত রয়েছে, উইকিপিডিয়া ও এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকার তথ্যমতে, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সে ১লা জানুয়ারি থেকে নতুন ক্যালেন্ডর চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত অনেকেই মানতে পারলো না। তারা আন্দোলন শুরু করে এবং বলে যে, তারা আগের মতো ২৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত নিউ ইয়ার পালন করবে। তখন যারা পরিবর্তন (১ জানুয়ারি থেকে নতুন ক্যালেন্ডার) মেনে নিয়েছিলো, অর্থাৎ সরকারপক্ষ বিরোধী পক্ষের সাথে মজা নিতে চেয়েছিলো। যারাই ১লা জানুয়ারি নববর্ষ পালনের বিরোধিতা করতে চেয়েছে, সরকারপক্ষ তাদের পিঠে কাগজের মাছ (Paper Fish) লাগিয়ে দিয়েছিলো। সেই থেকে ভিক্টিমদের বলা হতো-Poission dAvril বা এপ্রিলের ফিশ বা April Fools Day.
ক্যালেন্ডারের থিওরি ছাড়াও এই দিনে মানুষকে বোকা বানানোর উদ্ভব নিয়ে আরো কিছু থিওরি আছে--রোমানরা মার্চের শেষের দিকে ‘হিলারিয়া’ নামে একটি উৎসব পালন করতো, যেখানে মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করতো এবং একে অপরকে নিয়ে কৌতুক করতো।
বসন্তের শুরুতে প্রকৃতি যেমন আচমকা আবহাওয়া পরিবর্তন করে মানুষকে বোকা বানায়, অনেকেই মনে করেন সেখান থেকেই এই এপ্রিল ফুল প্রথার উদ্ভব হয়েছে।
স্পেনে মুসলিম ট্র্যাজেডি : ১৪৯২ সালে স্পেনের গ্রানাডায় মুসলিম শাসনের পতনের পর ১লা এপ্রিল অসহায় মুসলিমদের ধোঁকা দিয়ে, অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে খ্রিস্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রানী ইসাবেলা আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে দিন বলেছিল, “হায় মুসলমান! এপ্রিল ফুল (তোমরা এপ্রিলের বোকা)!” স্পেনীয়দের দ্বারা মুসলমানদের বোকা বানানোর এই নিষ্ঠুর বিশ্বাসঘাতকতা বা শঠতা স্মরণীয় রাখার জন্যে খ্রিস্টান জগৎ প্রতি বছর ১লা এপ্রিল খেলে থাকে রসিকতার খেলা, যা মুসলিমদের কাছে, আমাদের কাছে বড়ো বেদনার, বড়ো নিষ্ঠুরতার। তবে বিষয়টি বিশ্লেষণ সাপেক্ষ।
ইসলামের সোনালী যুগে জাযীরাতুল আরবের সীমানা ছাড়িয়ে ইসলামী রাষ্ট্র বিস্তৃত হয়েছিল পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণের সকল দিগন্তে। ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য ও কল্যাণে আকৃষ্ট হয়ে বিশ্বের মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আসতে থাকে। তখন স্পেনের প্রজা উৎপীড়ক রাজা রডারিকের অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ জনগণের প্রবল ইচ্ছার কারণে স্পেনের সিউটা দ্বীপের শাসক জুলিয়ান মরোক্কোর মুসলিম বীর মুসার কাছে আবেদন করেন স্পেন জয় করার জন্যে। সে সময় মুসলিম বিশ্বের শাসক ছিলেন ওয়ালিদ। মুসা তাঁর অনুমতি নিয়ে সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদকে পাঠান স্পেনের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে জিহাদ করতে। তারিক বিন যিয়াদ মাত্র ১২ হাজার মুজাহিদ নিয়ে ভূমধ্যসাগরে ঝাঁপিড়ে পড়েন স্পেন পৌঁছার উদ্দেশ্যে।
৭১১ খ্রি. সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ স্পেনের উপকূলে পৌঁছার পর মুসলিম নৌবহর ভূমধ্যসাগরে ভাসিয়ে দিয়ে (কোনো বর্ণনায় ডুবিয়ে দিয়ে) ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ‘হে মুসলিম বাহিনী! আপনাদের সামনে রডারিকের সুসজ্জিত শত্রুসেনা এবং পেছনে ভূমধ্যসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা, আপনারা কি ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করতে চান, নাকি অত্যাচারী রডারিকের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জিহাদ করে, মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করে ইসলামের বিজয় নিশান স্পেনের মাটিতে উড়াতে চান? যদি তা-ই হয় তাহলে সামনে অগ্রসর হোন।
সেনাপতির এই রক্তস্তব্ধ বক্তব্যের পর মুসলিম বাহিনী আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা রেখে রডারিকের বিশাল সজ্জিত বাহিনীর ওপর ঝাঁপিড়ে পড়েন। রডারিকের বাহিনীকে পরাজিত করে স্পেনের বুকে ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন করেন। গড়ে উঠেছিল স্পেনের গ্রানাডার-কর্ডোভায় আলোকিত ৮০০ বছরের আলোড়ন সৃষ্টিকারী সভ্যতা। স্পেন হয়ে ওঠে ইউরোপ তথা সমগ্র সভ্য জগতের জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও উন্নয়নের বাতিঘর। কর্ডোভা, গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়, আল-হামারা প্রাসাদ, অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান হতে মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞান আহরণের জন্যে এখানে আসতো। তাফসীরে কুরতবীর মত (৩০ খণ্ডে বিভক্ত) জগদ্বিখ্যাত তাফসীর স্পেনের মাটিতেই রচিত হয়েছে।
কিন্তু ৮০০ বছর সোনালী ইতিহাস সৃষ্টির পর পরবর্তী মুসলিম শাসকেরা যখন অর্থ-বিত্ত, দুনিয়ার লোভ-লালসা এবং অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হতে থাকে তখন আস্তে আস্তে খ্রিস্টানরা মুসলিমদেরকে স্পেনের মাটি হতে উৎখাত করার চক্রান্ত শুরু করে। স্পেনে সর্বশেষ মুসলিম শাসকের নাম ছিলো ‘হাসান’। তাঁর সন্তানের নাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ। খ্রিস্টানরা আবু আব্দুল্লাহকে বললো, “তোমার পিতা হাসানকে আল হামারা প্রাসাদে (স্পেনের রাজ প্রাসাদ-যেখান থেকে স্পেন শাসন করা হতো) মানায় না, তিনি এর উপযুক্ত নন। আল হামারা প্রাসাদে আবু আবদুল্লাহকে মানায়। তুমি যদি আল হামারা প্রাসাদে যেতে চাও আমরা তোমাকে সহযোগিতা করবো, তুমি তোমার বাবা হাসানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ কর।”
আবু আবদুল্লাহ খ্রিস্টানদের সহযোগিতায় বাবার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আল হামারা প্রাসাদ দখলে নেয়। আবু আবদুল্লাহ যখন ক্ষমতায় বসে তারা এসে বলে, আবু আব্দুল্লাহ তুমি একটি গাদ্দার! তুমি তোমার বাবা বৈধ শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছ, তাকে উৎখাত করে গাদ্দারি করেছ, আল হামারা প্রসাদে কোন গাদ্দার বসতে পারবে না। এই বলে খ্রিস্টানরা আবু আব্দুলাহর কাছ থেকে আল হামারা প্রাসাদের চাবি ছিনিয়ে নেয়। খ্রিস্টানরা একে একে স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল দখলে নেয়, মুসলিমদেরকে নির্যাতন নিপীড়ন শুরু করে, রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে মুসলমানদের নির্যাতন করে, খ্রিস্টান হতে বাধ্য করে, ধর্ম ত্যাগ করতে না চাইলে নির্যাতন করে হত্যা করে।
পর্তুগীজ রানী ইসাবেলা এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যের খ্রিস্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তাদের নেতৃত্বে খ্রিস্টানরা মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে। জীবিত মুসলিমরা নিরূপায় হয়ে আশ্রয় নেয় রাজধানী গ্রানাডায়। খ্রিস্টানরা চার দিক থেকে গ্রানাডাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। অসহায় মুসলিম নারী-শিশু, নির্যাতিত পুরুষ মুসলিমের আর্তনাদে গ্রানাডার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। অবশেষে ফার্ডিন্যান্ড বাহিনী গ্রানাডার দ্বার প্রান্তে এসে পৌঁছে। ফার্ডিন্যান্ড ঘোষণা করেন,“মুসলমানরা যদি শহরের প্রবেশ দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করে, তাহলে তাদেরকে নিরাপত্তা ও মুক্তি দেওয়া হবে।” কিন্তু মুসলিমরা যখন মসজিদে প্রবেশ করলো, তখন মসজিদ তালাবদ্ধ করে আগুন লাগিয়ে দিলো, অসহায় নারী, শিশু, পুরুষ যখন মসজিদে পুড়ে মারা যাচ্ছে, তখন তারা অট্টহাসি দিয়ে বলে, ‘হায়, এপ্রিল ফুল!’ তোমরা এত বোকা আমাদেরকে এত সহজে বিশ্বাস করলে।
অন্যমতে, মুসলিমদেরকে ভূমধ্যসাগরে নোঙ্গর করা জাহাজে উঠতে বলা হয়, জাহাজে ওঠার পর তারা জাহাজ ডুবিয়ে দেয় এবং অট্টহাসি দিয়ে ‘হায় এপ্রিল ফুল!’ বলে উপহাস করে। (অনেক ঐতিহাসিক মসজিদে আগুন দিয়ে/ জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে হত্যা করার সত্যতার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন।)
তবে হ্যাঁ, খ্রিস্টানরা মুসলিমদের ওপর বহুবিধ নির্যাতন করেছে, হত্যা করেছে, দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছে, খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেছে, মুসলিমদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং স্পেনের মসজিদ গুলোকে গির্জায় রূপান্তরিত করেছে। মুসলিমদের সকল কৃষ্টি, সভ্যতা, স্থাপত্য ধ্বংস করে দিয়েছে। যেখানে মুসলিমরা ৮০০ বছর শাসন করেছে, সেখানে আজ ইসলাম ও মুসলিমদের কোনো নিদর্শন ও চিহ্ন নেই। আজ স্পেনের মানুষ নামাজ যে মুসলিমদের প্রার্থনা বা ইবাদত তাও জানে না।
এ বিষয়টি নিয়ে ২০০৯ সালে সেপ্টেম্বরে বিবিসি গঁংষরস ঝঢ়ধরহ (৭১১-১৪৯২) নামে একটি ডকুমেন্টারি আর্টিকেল প্রকাশ করে। আর্টিকেলটির একদম শেষে বলা হয়- “The Muslims finally lost all power in Spain in 1492. By 1502 the Christian rulers issued an order requiring all Muslims to convert to Christianity, and when this didnÕt work, they imposed brutal restrictions on the remaining Spanish Muslims”
এটিই হলো এপ্রিল ফুলের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য।
ইসলামে ‘এপ্রিল ফুল বা বোকা দিবস’ পালন নিষিদ্ধের কারণ : মিথ্যা ইসলামে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বড়ো হারাম গুনাহের অন্যতম। মিথ্যাচারিতা ইবাদত কবুলের অন্তরায়। মিথ্যাচারিতা দুনিয়া-আখেরাত তথা সর্বাবস্থায় দুর্ভোগের কারণ হবে। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা সূরা আল মুরসালাতে দশবার বলেছেন, ‘সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যা আরোপকারীদের জন্য।’ সূরা জাসিয়াহ-এর ৭নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্যে।’ এভাবে ইসলামে মিথ্যা কথা ও কর্মের জন্যে কঠিন অভিশাপ ও শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
ইসলামে বৈধ হাসি-মস্করা, আনন্দ-বিনোদনকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাসি-মস্করা, আনন্দ-বিনোদনে বা খেলাচ্ছলে মিথ্যা অভিনয় বা মিথ্যার আশ্রয় নিতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণও হাসি-মস্করা করতেন, তবে মিথ্যা বর্জন করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষ হাসানোর জন্যে মিথ্যা বলে তার জন্যে ধ্বংস! তার জন্যে ধ্বংস! তার জন্যে ধ্বংস!” তিরমিযি, আস-সুনান ৪/৫৫৭; হাদীস নং ২৩১৫; আবু দাউদ, আস-সুনান ৪/২৯৭; হাদীস নং ৪৯৯০।
অন্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বর্জন করে, মস্করা বা কৌতুক করতেও মিথ্যা বলে না, তার জন্যে জান্নাতের মধ্যদেশে একটি বাড়ির জন্যে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।” আবু দাউদ, আস সুনান ৪/২৫৩; হাদীস নং ৪৮০০।
মস্করা বা কৌতুকচ্ছলে কাউকে ভয় দেখানোও জায়েজ নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কোনো মুসলিমের জন্যে বৈধ নয় যে, সে অন্য মুসলিমকে ভয় পাইয়ে দিবে।” আবু দাউদ- ৫০০৪।
আমরা অনেক সময় ভোলানোর জন্যে শিশুদের সাথে মিথ্যা বলি। এরূপ করা গুনাহের কাজ। কিশোর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আমির বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের বাড়িতে বসা ছিলেন, আমার মা আমাকে ডাক দিয়ে বলেন, আব্দুল্লাহ এদিকে এসো, তোমাকে একটি জিনিস দেবো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাকে বলেন, তুমি তাকে কিছু দিতে চাও? মা বলেন, আমি তাকে একটি খেজুর দিতে চাই। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাকে বলেন, “তুমি যদি তাকে কিছু না দিতে তবে তোমার নামে একটি মিথ্যার গুনাহ লিখা হতো।” আবু দাউদ-৪৯৯১। শুধু নিশ্চিত মিথ্যাই নয়, মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে এরূপ কথা বলতে বা যা শোনা যায় সত্য না জেনে তা বলতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্যে এতোটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই বলবে।” মুসলিম-১১।
তাই এপ্রিল ফুল নামে মিথ্যা হাসি-মস্করা, তামাশা, আনোন্দ-বিনোদন ইসলামে জায়েজ নয়, এরূপ কর্ম বা প্রচেষ্টা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থি। সুতরাং এ থেকে আমাদেরকে বেঁচে থাকতে হবে।
নূর মোহাম্মদ : সহকারী অধ্যাপক (ইসলাম শিক্ষা), বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, বলাখাল, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।




