রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৯

রুবেল হত্যার রহস্য উন্মোচন করতেই হবে

অনলাইন ডেস্ক
রুবেল হত্যার রহস্য উন্মোচন করতেই হবে

গতকাল ফরিদগঞ্জ থেকে প্রবীর চক্রবর্তী ও শামীম হাসান চাঁদপুর কণ্ঠে একটি সংবাদ পরিবেশন করেছেন। সংবাদটিতে তারা লিখেছেন, শিশুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে দিয়েছিলেন আদরের ধন ৮ বছরের ছোট ছেলে রুবেলকে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে তার অভিভাবক । বাড়ি থেকেই প্রতিদিন ইফতারের পর তারাবীহ নামাজ পড়তে মসজিদে যেতো সে। ‘প্রতিদিন আসতে ও যেতে আমাকে সালাম দিতো। কিন্তু গত ২ সপ্তাহ ধরে আমি আমার কলিজার টুকরার সালাম পাই না, কারা আমার রুবেলকে মেরেছে। কেনো মেরেছে জানি না’। এ কথাগুলো বলতে বলতে হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রুবেলের মমতাময়ী মা পরান বেগম। এলাকার নারী ও শিশুরা রুবেলের খুনিদের আটক ও তাদের বিচারের দাবিতে বাড়ির সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করলে সেখানে উপস্থিত হয়ে কথা বলেন পরান বেগম। নিহত শিশু রুবেল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাজারে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এই হত্যার বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেন। হত্যার ঘটনার গত ১৮ দিনেও হত্যাকাণ্ডের রহস্যের উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের আটকের দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকেলে এই মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ৮ বছরের একটি শিশুর কোনো শত্রু থাকার কথা নয়। তাছাড়া সে মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থাকে, মাহে রমজান উপলক্ষে বাড়িতে এসেছে। বাড়ি থেকেই প্রতিদিনের মতো গত বুধবার (১০ মার্চ ২০২৬) তারাবীহ নামাজ পড়তে বের হয়ে নৃশংস খুনের শিকার হয় রুবেল। এই ঘটনার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকারীদের আটক করতে পারেনি। এতে এলাকার অভিভাবকরা আতংকে রয়েছে, শিশুরা ভয়ে ভয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। ঘটনার পর কোনো ক্লু উদঘাটন হয়েছে কিনা তা আমরা জানি না। আমরা হতাশ, তাই এই মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। উল্লেখ্য, বুধবার (১০ মার্চ ২০২৬) ইফতারের পর তারাবীহ নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় নূরানী মাদ্রাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ের পাশে মিলে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। শিশুটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। নিহত রুবেল স্থানীয় সানকিসাইর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের ছাত্র ছিলো । সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) সকালে পোস্টমর্টেমের জন্যে চাঁদপুর প্রেরণ করে। পরে এ ব্যাপারে শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, শিশু রুবেলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। আমাদের তদন্ত টিম ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি তদন্ত করছে।

মাদ্রাসার ছাত্র ৮ বছরের শিশু রুবেলের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকাবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে বলেই তারা মানববন্ধন করেছে। তাদের বিশ্বাস ছিলো, পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে সফল হবেই। কিন্তু ১৮ দিনের মধ্যেও পুলিশের সাফল্য দেখতে না পেয়ে বিক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে সড়কের পাশে তারা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছে। আমাদের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে অভিমত হচ্ছে, তারাবীহের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে শিশুরা বলাৎকারের শিকার হয়েছে বলে গণমাধ্যমে বারবার খবর বেরিয়েছে। রুবেল সে রকম কোনো ঘটনার শিকার হয়ে বলাৎকারকারীর নাম প্রকাশ করে দেবার কথা বলে প্রাণ হারালো কিনা সেটা ভেবে দেখার অবকাশ আছে। পুলিশ নিবিড় তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো দরকার বলে আমরা মনে করি। ক্লুলেস হত্যার রহস্য উন্মোচনে চাঁদপুর জেলা পুলিশের সাফল্যের ঘাটতির সময়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর একের পর এক সাফল্য ছিলো সাড়া জাগানো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হোঁচট খাওয়া পুলিশ সর্বত্র ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হলেও পিবিআই চাঁদপুর সহ অন্যান্য স্থানে সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। অথচ পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করে র‌্যাব কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই তাদের সাফল্য প্রদর্শন করে চলছে। রুবেল হত্যার রহস্য উন্মোচনে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও র‌্যাব তৎপর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়