প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩০
চোরের সহযোগীদের এতো বড়ো দুঃসাহস কোত্থেকে?

‘শাহরাস্তিতে চোর ধরতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা : আহত ৫ আটক ৪’ শিরোনামে চাঁদপুর কণ্ঠে মো. মঈনুল ইসলাম কাজল পরিবেশিত সংবাদটি যদ্দুর মনে পড়ে চাঁদপুর জেলার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কারণ, চাঁদপুর জেলায় চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং থাকলেও পুলিশি অ্যাকশনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘটনা বিরল। এই ঘটনাটির সংবাদ-বিবরণী হচ্ছে : শাহরাস্তিতে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য, ৮টি মামলার আসামি ফয়সালকে আটক করতে গেলে শাহরাস্তি থানা পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এতে থানার উপপরিদর্শক আল আমিন, আতোয়ার রহমান, পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র, ইকবাল হোসেন ও ফয়সাল খান আহত হয়েছেন। জানা গেছে, আহতরা শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ৪ জনকে আটক করে। শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) দিবাগত রাতে ৮টি মোটরসাইকেল চুরি মামলার পলাতক আসামি ফয়সালকে ধরতে উপজেলার সূচীপাড়া উ. ইউনিয়নের বসুপাড়া গ্রামের মজুমদার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আসামিকে ছিনিয়ে নিতে ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে ফয়সাল (২৪), স্বপন (২২), মুরাদ (২৩) ও সীমা আক্তার (২৩)কে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্তব্য কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমাদের কাছে শাহরাস্তির প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশের ওপর চোরের সহযোগীদের হামলাকে খুব স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়ার মতো বিষয় মনে হচ্ছে না। এমন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে, যে এলাকাটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে ছিলো নিরাপদ, আর হানাদার বাহিনীর জন্যে ছিলো দুর্ভেদ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। সেমতে এ এলাকাটিকে চোরসহ অন্যান্য দুর্বৃত্তের জন্যে নিরাপদ ভেবে নেয়াটা অযৌক্তিক। কেননা এ এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে ডাকাতিয়া নদীর ওপর বহু ব্রীজ থাকায় পুলিশ সহ অন্য কারোর জন্যেই প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে ঝুঁকি আছে। সে ঝুঁকি মোকাবেলায় সতর্কতা অবলম্বনই হতে পারে মুখ্য। এ বিষয়টি সবসময়ই পুলিশকে মাথায় রাখতে হবে। অন্যথায় সূচীপাড়া সহ সন্নিহিত সকল প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশের সকল অভিযান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে নিঃসন্দেহে। আরেকটি বিষয় তদন্তযোগ্য যে, কুখ্যাত চোর ফয়সাল কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালালো কিনা? এ তদন্তে নেতিবাচক কোনো কিছু বেরিয়ে আসলে পুলিশকে ভবিষ্যতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু ভাবতে হবে বলে আমরা মনে করি।




