প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫৭
নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তালতলায় জেনারেল হাসপাতাল ভাংচুর

চাঁদপুর শহরের তালতলাস্থ আব্দুল করিম পাটোয়ারী সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নবজাতক এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাংচুর হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। নবজাতক কন্যা শিশুর মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা ভাংচুর চালালেও কেউ হতাহত হননি।
|আরো খবর
সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) রাত ১১টায় শুরু হওয়া ঘটনাটির খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই মো. আমিনুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং রোগীর স্বজনদের শান্ত করেন।
নবজাতক শিশুটি চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার এলাকার ২নং ওয়ার্ডের প্রবাসী ইসমাইল পালোয়ান ও নার্গিস বেগমের তৃতীয় সন্তান।
শিশুটির খালাম্মা তন্বি ও বোন ফিরোজা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় অন্তঃসত্ত্বা নার্গিস বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. জান্নাতুল নাঈমা। এতে একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। হাসপাতালের নার্সরা নবজাতককে শিশু চিকিৎসককে দেখাতে বলেন। সেই মোতাবেক হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক মেহেদীকে দেখানো হয়। চিকিৎসক শিশুটিকে দেখে বলেন, বাচ্চা সুস্থ আছে। হঠাৎ পরের দিন ১ মার্চ রোববার সকাল ১১টায় শিশুটিকে অন্য চিকিৎসক দেখানোর জন্যে বলা হলে আমরা দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ইফতারের পর নবজাতকটি মারা যায়।
তারা জানান, বাচ্চাটি মায়ের পেটে থাকাবস্থায় ময়লা খেয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়লা ওয়াশ করেনি, অক্সিজেন দেয়নি। মূলত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলায় শিশুটি মারা গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর খান বলেন, সিজারে বাচ্চাটি হওয়ার পর হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক মেহেদীকে দেখানো হয়। পরে অন্য একজন শিশু চিকিৎসককে দেখানোর জন্যে রোগীর স্বজনদের বলা হয়। বাচ্চাটির স্বজনরা তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডা. আজিজকে দেখিয়েছেন। আর বাচ্চাটি সে হাসপাতালেই মারা গেছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং উত্তেজিত স্বজনদের শান্ত করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ১২টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা আলোচনায় বসেন এবং উভয়ের সম্মতিতে ঘটনার রফাদফা হয়।








