প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৬
চাঁদের রশি ও দুষ্টু পরী

হেরা আর রাইয়ান দুই ছোট্ট ভাই-বোন। তারা দুজন খুব ভালো বন্ধুও। এদের মধ্যে রাইয়ান মাঝে মাঝে খুবই দুষ্টামি করতো। সে হেরাকে এমন সব প্রশ্ন করতো, যার কোনো উত্তর হেরার জানা না থাকলেও সে যেভাবে পারতো উত্তর দিয়ে যেতো।
একবার রাইয়ান হেরাকে বললো, আচ্ছা আপু, বলো তো, এই যে আকাশে এত এত পরী উড়ে বেড়ায় নীল পরী, লাল পরী যদি কখনো এদের মধ্যে ধাক্কা লাগে, এতে যদি কারো ডানা ভেঙ্গে যায়, তাহলেতো সে আর উড়তে পারে না, মাটিতে পড়ে যায়। তাই না?
হেরা বললো, হুম, তাই।
কিন্তু ওকে যদি কোনো মানুষ দেখে ফেলে আর ওকে ধরে নিয়ে যায়, তাহলেতো ওর অনেক কষ্ট হবে!
হেরা তখন বললো, না, না। ওকে তো মাটি পর্যন্ত পড়তেই হয় না। পরীদের কারো ডানা ভেঙ্গে গেলে ওর মা সাথে সাথে ওর নিচে নেমে ওকে ধরে রাখে, আর ওর নানী এসে রেশমী সূতা দিয়ে ডানা সেলাই করে দেয়। তাহলে ও আবার আগের মতো উড়তে পারে।
রাইয়ান আবার জানতে চাইলো, আপু, একটা কাজ করলে কেমন হয়? নভোচারীরা যখন চাঁদের দেশে যায়, তখন তাদের রকেটের নীচে ইয়া বড় বড় রশি একটার পর একটা, একটার পর একটা করে বেঁধে বেঁধে দিলে বিশাল একটা রশি হয়ে যাবে। আর, রশিটার নীচের মাথায় একটা বড় ঝুড়ি আটকে দিলে আমরা ওই ঝুড়িটাতে চড়ে রশি বেয়ে বেয়ে চাঁদের দেশে যেতে পারবো। তাহলে আমরা চাঁদের দেশে গিয়ে বেড়াতে পারবো! অনেক মজা হবে তাই না?
এটা শুনে খুশিতে হেরা হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার অবস্থা। সে বললো, তাহলেতো অনেক ভালোই হবে। আমরা চাঁদে আমাদের খেলনাগুলোও নিয়ে যাবো। আমার পুষি
বিড়ালটাকেও সাথে নিবো। সেখানে আমি ডাক্তার সাজবো। পুষি, তুমি আর আমি মিলে খেলা করবো।
রাইয়ান বললো, আমি কয়েকটা রঙ্গিন ঘুড়ি আর নাটাইটা নিয়ে যাবো। সেখানে বিশাল আকাশে অনেক অনেক ঘুড়ি উড়াবো ইচ্ছামতো।
হেরা বললো, আমি খুশিতে নাচবো আর পুষিকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবো। বৃষ্টিতে ভিজে যদি পুষির ঠান্ডা লেগে যায়, তাহলে আমি ডাক্তার হয়ে চিকিৎসা করবো।
রাইয়ান আবার বললো, আপু, ওখানেও কি রাত হবে? রাত হলে আমার ভয় লাগবে!
এটা শুনে হেরাও ভাবতে লাগলো, রাত হলেতো আমারও ভয় লাগে। সে বললো, আমরা তাহলে চাঁদের দেশে বাবা-মাকেও সাথে করে নিয়ে যাবো। আমরা সবাই থাকলে কোনো ভয় লাগবে না, বরং অনেক ভালো লাগবে, আমরা অনেক আনন্দ করবো।
এই ভেবে খুশিতে দু’জনই নাচতে লাগলো।
হঠাৎ রাইয়ানের মনে হলো, যদি কোনো দুষ্টু পরী মাঝপথে আমাদের চাঁদের রশিটা কেটে দেয়? তাহলেতো আমরা চাঁদে যেতে পারবোই না, উল্টো নীচে পরে গিয়ে অনেক ব্যথা পাবো!
এটা ভেবে দুজনেই কান্না শুরু করে দিলো। হেরা বললো, ভাইয়া, থাক, আমাদের আর চাঁদের দেশে যাওয়া লাগবে না।
কিন্তু রাইয়ান মনে মনে সংকল্প করলো আমিও বড় হয়ে নভোচারী হবো, এরপর একদিন চাঁদের দেশে গিয়ে চাঁদের বুড়ির সাথে অনেক খেলা করবো।








